বুধবার, ১২-ডিসেম্বর ২০১৮, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • ফারমার্স ব্যাংকের চিশতীর বিরুদ্ধে আরেক মামলা

ফারমার্স ব্যাংকের চিশতীর বিরুদ্ধে আরেক মামলা

Shershanews24.com

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট, ২০১৮ ০৮:২৬ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকটির অন্যতম উদ্যোক্তা ও নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীর (বাবুল চিশতী) বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে ভ্রমণ ভাতা বাবদ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান। দুদক সূত্রে এতথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকের প্রচলিত বিধি উপেক্ষা করে ব্যবসায়িক বৈঠকের নামে ২০১৭ সালের ১৯ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত লন্ডন ও আরব আমিরাত ভ্রমণ করেন তিনি। ওই সফরের ভ্রমণ ভাতা বাবদ ব্যাংকের ৯ লাখ ২৪ হাজার ৬৭৩ টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেন।

দুদক সূত্র বলছে, বিদেশে ব্যবসায়িক ওই সফরটি ছিল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কাজের অংশ। ব্যাংকের বিধি মোতাবেক ওই ভ্রমণে পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্যের যাওয়ার সুযোগ নেই। সফরে যাওয়ার কথা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত কর্মকর্তাদের। তারপরও মাহবুবুল হক চিশতী অবৈধ প্রভাব খাঁটিয়ে এই সফরে যান, যা ব্যাংকের অর্থে বিদেশ ভ্রমণ ছাড়া আর কিছুই না।

দুদকের অনুসন্ধান শেষে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি করা হয়। এর আগে এ বছরের মাহবুবুল হক চিশতী, তাঁর স্ত্রী রুজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতীসহ ব্যাংকটির জ্যেষ্ঠ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় স্ত্রী, সন্তান ও নিজের নামে এবং নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ২৫টি হিসাব খোলেন বাবুল চিশতী। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের সহায়তায় গ্রাহকদের হিসাব থেকে পাঠানো ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা ওই ২৫টি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এসব টাকা নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর ও লেয়ারিংয়ের পাশাপাশি নিজেদের নামে কেনা শেয়ারের দাম পরিশোধ করেছেন।
অর্থপাচার আইনে করা ওই মামলায় যে তিনজন ব্যাংকারকে আসামি করা হয় তাঁরা হলেন ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খান ও ব্যাংকের গুলশান শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন।

ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা ২০১৭ সাল থেকে অনুসন্ধান করছে দুদক। দুদকের অনুসন্ধানে নথিপত্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রাহকের ঋণের ভাগ নিয়েছেন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর আর মাহবুবুল হক চিশতী। এর মাধ্যমে দুজনের নৈতিক স্খলন ঘটেছে এবং তাঁরা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তবে দুদকের মামলায় মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে আসামি করা হয়নি।

২০১২ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া ফারমার্স ব্যাংক যাত্রা শুরুর পরই অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। আস্থার সংকটে আমানতকারীদের অর্থ তোলার চাপ বাড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পদ ছাড়তে বাধ্য হন মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও মাহবুবুল হক চিশতী। 
শীর্ষনিউজ/এসএসআই