সোমবার, ১০-ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:২৭ অপরাহ্ন
  • জাতীয়
  • »
  • বাংলাদেশে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে: বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে: বিশ্বব্যাংক

Shershanews24.com

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০৩:০৬ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : বাংলাদেশে ব্যবহার করা ৪১ শতাংশ পানিতে ই.কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এতে ডায়েরিয়া, জন্ডিস ও কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বহুজাতিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। 
রাজধানী সোনাগাঁও হোটেলে বিশ্বব্যাংকের স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে- বাংলাদেশের পানিতে আর্সেনিক ঝুঁকি বাড়ছে।
এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর শিরিন ঝুমা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রুখসানা কাদের ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পানিতে ই. কোলাই ব্যাক্টেরিয়া থাকায় এবং স্যানিটেশন সমস্যার কারণে এক-পঞ্চমাংশ দারিদ্র্য মানুষ পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দারিদ্র্য, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, শহর ও গ্রামের সবাই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে শহরের বস্তিতে বাস করা লোকজন আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যায় বেশি।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে এখন ৯৮ শতাংশ মানুষের কাছে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এর চেয়ে প্রধান সমস্যা হল সবার কাছে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু সেটি সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানানো হয়েছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশের পাঁচ কোটি মানুষ টয়লেট শেয়ার করেন। অর্থাৎ একাধিক পরিবারের লোকজন একটি টয়লেট ব্যবহার করেন। এ সংখ্যা গ্রামে যেমন রয়েছে, তেমনি শহরেও রয়েছে। তবে শহরের বস্তি এলাকায় টয়লেট শেয়ারের সংখ্যা গ্রাম এলাকার লোকজনের তুলনায় তিনগুণ বেশি।
‘ফলে এসব লোকজন নানা প্রকার রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।’
বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশে ভুগর্ভস্থ পানির ১৩ শতাংশে আর্সেনিক রয়েছে। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে এ আর্সেনিকের সংখ্যা বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পানিতে আর্সেনিকের সংখ্যা বাড়ছে।
‘বাংলাদেশে দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে। তাই দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি জরুরি নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে।’
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর শিরিন ঝুমা বলেন, স্যানিটেশন ও পানিজনিত সমস্যার কারণে বাংলাদেশের অনেক শিশু যথাযথভাবে বিকশিত হচ্ছে না। পাঁচ বছর বয়সের নিচের শিশুরা সবচেয়ে বেশি পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
ঝুমার ভাষ্য, বাংলাদেশকে পানি ও স্যানিটেশন সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এ জন্য বিশ্বব্যাংক সব ধরনের সহায়তা করবে।
শীর্ষনিউজ/এমই