শনিবার, ২০-অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
  • জাতীয়
  • »
  • ফেসবুক কেন, যা ক্ষতিকর হবে তাই বন্ধ করতে হবে: মোস্তফা জব্বার 

ফেসবুক কেন, যা ক্ষতিকর হবে তাই বন্ধ করতে হবে: মোস্তফা জব্বার 

Shershanews24.com

প্রকাশ : ১০ আগস্ট, ২০১৮ ১১:৩৪ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা: বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হলে ফেসবুকসহ যে কোন কিছু বন্ধ করতে হবে। বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে রাষ্ট্রটা অনেক বড়। রক্ত দিয়ে ওটা তৈরি করেছি। আমার রাষ্ট্রকে আমি কোনভাবে বিপন্ন হতে দিতে পারি না।  এটা প্রযুক্তির জন্য না কোনকিছুর জন্যই না....সহজ হিসাব। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর ফেসবুক কেন, যা ক্ষতিকর হবে তাই বন্ধ করতে হবে।’

সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বহুল ব্যবহার যেমন লক্ষ্য করা গেছে।

আর তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে খোলাখুলি বিরক্তিপ্রকাশ এবং নেতিবাচক মন্তব্যও করা হয়েছে।

আন্দোলনের সপ্তম দিনে সরকার ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট ব্লক করে রেখেছিলো। প্রয়োজনে ফেসবুক বন্ধ করা হতে পারে এমন হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে সরকার কি অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছে?
এমন প্রশ্নে মি: জব্বার বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, যেভাবে গুজব রটেছে, সরকারের যদি ধৈর্য না থাকত, তাহলে তো ফেসবুক সাটডাউন (বন্ধ) করে দেয়ার কথা ছিল। সেটা করি নাই। ধৈর্যের পরিচয়ই দিয়েছে।

মিঃ জব্বার জানিয়েছেন, গুজব বা ভুয়া বা অসত্য সংবাদ ফিল্টারিং এর জন্য এ বছরের শেষ নাগাদ সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং এবং খবর যাচাই-বাছাই এর ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশে ২০১৫ সালে নিরাপত্তাজনিত কারণে ২২ দিন বাংলাদেশে ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগের বেশ কয়েকটি অ্যাপ বন্ধ রেখেছিল সরকার।

গত ২৯শে জুলাই বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হবার দিন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

এর পরদিন থেকে দেখা যায়, পুরো ঢাকা জুড়েই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ করে, এবং সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন গণপরিবহন এবং চালকদের বৈধ লাইসেন্স পরীক্ষা করতে শুরু করে।
ফিটনেসহীন পরিবহন বন্ধ এবং বৈধ চালক ছাড়া পরিবহন চালনা বন্ধ করতে হবে---এই দাবিতেই তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ঐ উদ্যোগ নিয়েছিল বলে অনেক শিক্ষার্থী বিবিসিকে জানিয়েছে।

কিন্তু দেড় হাজার বর্গকিলোমিটারের এক শহরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী তারা কীভাবে সমন্বিতভাবে কর্মসূচী দিত? ‘প্রথমে একজন একটা ইভেন্টের লিংক শেয়ার করে, পরে আমরা আরো কয়েকজনের সাথে সেটা শেয়ার করে জিজ্ঞেস করলাম যাবে কি না। পরে আস্তে আস্তে গ্রুপ হয়, সেখানে গ্রুপ চ্যাট হত, এভাবে দেখা গেল আস্তে আস্তে অনেকে যোগ দিল।’

আন্দোলনকারীদের অনেকে বিবিসিকে জানিয়েছে, যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে ফেসবুক।
আন্দোলনকারীদের সবাই আগে থেকে সবার চেনা এমন নয়। নিজেদের বন্ধুবান্ধব, তার চেনা বন্ধুবান্ধব ও তাদের মাধ্যমে অন্যদের চেনাজানাদের নিয়েই তারা বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নিতে যেত।

রোজ কোথায় কি ঘটছে সেগুলো সামাজিক মাধ্যমেই যেমন পরস্পরকে জানাত তারা, তেমনি নির্ধারণ করত পরবর্তী করণীয়।

‘ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষ এখন অনেক বেশি রিলেটেড, দেখা যায় সবার সাথে কারো না কারো মিউচুয়াল ফ্রেন্ড আছে। কলেজ থেকে কলেজের ছেলেমেয়েরা এভাবেই খবর পেয়ে যেত।’

কিন্তু সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছে, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, বা লাইভ ভিডিও এর মাধ্যমে উস্কানি ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

আর তা নিয়ে সরকারকে প্রকাশ্যেই বিরক্তি প্রকাশ করতেও দেখা গেছে।


এমনকি নিরাপত্তার স্বার্থে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হয়ে পারে এমন কথাও বলা হয়েছে।

কিন্তু সামাজিক মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকের ব্যবহার নিয়ে সরকারের এমন অবস্থানের কারণ কি?

নৃবিজ্ঞানী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসরিন সিরাজ এ্যানী বলছেন, "এখন অনেক প্রাইভেট টিভি চ্যানেল এবং সংবাদপত্র আছে, কিন্তু গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নাই। তো মানুষ কি করবে? এখন সবার হাতেহাতে মোবাইল ফোন, সবাই মোবাইলে ছবি তুলছে। এটা তো থামানো যাচ্ছে না।মানুষ যেহেতু যোগাযোগ করছে ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে, যেহেতু তারা অন্য মিডিয়ার খবরে সন্তুষ্ট না, ফলে সরকার তো ভয় পাবেই।”
কিন্তু বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে ফেসবুক খুবই জনপ্রিয়।

দেশটির অধিকাংশ ব্যবহারকারী মোবাইলের মাধ্যমে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে, এবং এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটির ওপরে, এর মধ্যে কেবল ঢাকা শহরেই রয়েছে আড়াই কোটির মত ব্যবহারকারী।
শীর্ষ নিউজ/এন