রবিবার, ১৯-আগস্ট ২০১৮, ১২:১০ অপরাহ্ন
  • জাতীয়
  • »
  • হঠাৎ একটি ছবি আলোচনায়  

হঠাৎ একটি ছবি আলোচনায়  

Shershanews24.com

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৮ ১১:৩৬ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : আল জাজিরায় একটি সাক্ষাতকার দেয়ার পর আটক আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় একটি বিষয় যোগ হয়েছে।  সেটি হচ্ছে একটি ছবি।  সামাজিক মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের একটি ছবি পোস্ট দিচ্ছে শহিদুল আলমের পরিচিতরা। এই ছবির ক্যাপশন ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি। ক্যাপশনে থাকা ভুল তথ্যে নিজেও শিকার করেছেন ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করাদের একজন, মানবাধিকার কর্মী খুশি কবীর। ছবিটি পোস্ট করার পেছনে নিজের উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন এই মানবাধিকার কর্মী।

তিনি শহিদুলের বাবা-মা সম্পর্কে যারা তেমন জানেন না তাদের জানাতেই এই ছবি পোস্ট করেছেন জানিয়ে বলেন, “আমি যাদের পক্ষে দাঁড়াই বা বক্তব্য দেই , তাদের সব কিছুতে যে আমায় একমত হতে হবে বা একই চিন্তার হতে হবে সেটা তো না, আমি দেখি মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা। শহিদুল আলমকে যেভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমি অবাক হয়েছি সরকারের বিভিন্ন পদে নানা স্তরে থাকা লোকজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছে আমি শহিদুল আলমকে চিনি কিভাবে। তার মানে এরা শহিদুল আলমকে, তার পরিবারকে ঠিকমতো চেনে না। তার পরিবার যে খ্যাতিসম্পন্ন এটা জানাতে আমি এই ছবি পোস্ট দেই। এর মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছি শহিদুল আলমের পরিবারকে সবাই চেনে।’’

কিন্তু ছবির নিচে থাকা ভুল ক্যাপশন সম্পর্কে খুশি কবীর বলেন: একটা ভুল হয়েছে, যে আমাকে ছবিটা দিয়েছিলো, সেখানে ক্যাপশনে লেখা ছিলো আনোয়ারা মনসুর স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন, আসলে তা তিনি পাননি।  তিনি স্বামী ড. কাজী আবুল মনসুরের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। পরে আমি এটা আমার পোস্টে সংশোধন করেছি। ছবির নিচে যে ক্যাপশন সেটা আমি দেইনি, আমি আরেকজনের কাছ থেকে ছবিটা নিয়েছি মাত্র। আমার উচিৎ ছিলো এটা যাচাই করা।

তিনি আরও বলেন: কিন্তু এটা তো ইস্যু না। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আনোয়ারা মনসুরের ছাত্রী। ছবিতে তার হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন আনোয়ারা মনসুর। এটা নিয়ে কোন প্রশ্ন আসতে পারে না। এখন এই ছবি দিয়ে আমি ব্যক্তি শহিদুলের কোন অবস্থান বা কিছু নিয়ে আলোচনায় যাচ্ছি না। আমাকে লোকজন প্রশ্ন করেছে যে আমি শহিদুলকে কিভাবে চিনি, তার উত্তরে আমি এই ছবি দিয়েছি, কারণ তার পরিবারকে আমি চিনি।

নিছক পরিচয় জানানোর জন্য তিনি ছবিটি পোস্ট করলেও একই ছবি সামাজিক মাধ্যমে নানা জনের কাছে নানা বার্তা বহন করছে। নানা ভাবে ছড়ানো হচ্ছে। ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে নানামুখী তর্ক-বিতর্ক চলছে।  

উল্লেখ্য, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনি ও রোববার জিগাতলা এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতির বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেসবুক লাইভে আসেন শহিদুল আলম৷ ওই আন্দোলনের বিষয়ে কাতার ভিত্তিক টেলিশিন চ্যানেল আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকার দেন। এরপর রোববার রাতে শহীদুলকে তার ধানমণ্ডির বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ৷
শীর্ষনিউজ/এসএসআই