শনিবার, ২৩-মার্চ ২০১৯, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন
  • প্রবাস
  • »
  • ‘আইএস বধূ শামিমা বৃটেনের সমস্যা, বাংলাদেশের নয়’

‘আইএস বধূ শামিমা বৃটেনের সমস্যা, বাংলাদেশের নয়’

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৩:১৪ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ ডেস্ক: ‘আইএসের বধূ’ শামিমা বেগম (১৯) বৃটেনের সমস্যা। এটা বাংলাদেশের কোনো সমস্যা নয়। শামিমা বড় হয়েছেন বৃটেনে। তিনি উগ্রবাদী হয়েছেন বৃটেনে। তাই তার বিষয়ে বৃটিশ আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন বৃটেনের মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী শোয়েব খান। এ নিয়ে বৃটেনের অনলাইন মেট্রোতে একটি প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছেন সাংবাদিক জো রবার্টস। যার শিরোনাম ‘আইসিস ব্রাইড শামিমা বেগম ইজ এ প্রবলেম ফর বৃটেন, নট বাংলাদেশ’। এতে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, বৃটিশ সরকার মনে করছে শামিমার দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে।
তার পিতামাতা বাংলাদেশী হওয়ায় তিনিও বাংলাদেশী নাগরিক। তাই তার নাগরিকত্ব বাতিল করে বৃটিশ সরকার তাকে বাংলাদেশে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে বলতে পারে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে বৃটিশ ওই আইনজীবী এসব কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ১৯ বছর বয়সী শামিমা ১৫ বছর বয়সে ২০১৫ সালে পালিয়ে যান বৃটেন থেকে। তিনি বসবাস করতেন পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকায়। সিরিয়া গিয়ে তিনি বিয়ে করেন বিদেশী আইসিস বা আইএস যোদ্ধাকে। বর্তমানে তিনি আছেন সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে। সেখান থেকে গত সপ্তাহে বৃটেন ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। এ নিয়ে বৃটেনজুড়ে তোলপাড় হচ্ছে। স্থানীয় রাজনীতি বৃটেনকে যতটা আন্দোলিত করে, তার চেয়ে কম নাড়া দেয় নি শামিমা ইস্যু। অবশেষে গত শনিবার শামিমা এক পুত্র সন্তান জন্ম দেন। এরপর তার বৃটিশ নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তের কথা জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সাংবাদিক জো রবার্টস আরো লিখেছেন, ধারণা করা হচ্ছে, বৃটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ এ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন এ জন্য যে, শামিমার রয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্ব। কারণ, তার পিতামাতা বাংলাদেশী। অর্থাৎ শামিমা একই সঙ্গে বৃটিশ এবং বাংলাদেশী নাগরিক। আইন্তর্জাতিক আইন কোনো মানুষকে যেহেতু রাষ্ট্রহীন করতে অনুমোদন দেয় না, তাই সাজিদ জাভিদ হয়তো শামিমাকে বাংলাদেশী নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার যুক্তি দেখাতে পারেন। কিন্তু শামিমা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কখনো বাংলাদেশে আসেন নি। তার কাছে বাংলাদেশী পাসপোর্ট নেই। তিনি সিরিয়া গিয়েছেন তার বোনের পাসপোর্ট ব্যবহার করে। সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ায় পৌঁছার পর তার পাসপোর্ট নিয়ে নেয়া হয়েছে।
মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী শোয়েব খান বলেছেন, যদিও শামিমার নাগরিকত্ব বাতিলের বিষযটি আইনগত, তবু এটা হওয়া উচিত নয়। তিনি অনলাইন মেট্রোকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, শামিমাকে উগ্রপন্থি করা হয়েছে বৃটেনে। তাই এর দায়ভার অবশ্যই বৃটেনকে নিতে হবে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে নির্বাসনের মতো মধ্যযুগীয় শাস্তি গ্রাহ্য হওয়া উচিত নয়। শামিমা যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন তাহলে বৃটিশ আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কিন্তু তাকে যদি বাংলাদেশে পাঠানো হয় তাহলে এর কোনোটাই সম্ভব হবে না। আর এতে বৃটেন আরো বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।
আইনজীবী শোয়েব খান আরো বলেন, শামিমা বেগমের নবজাতক শিশু বৃটিশ নাগরিক। তাই ওই শিশুটির স্বার্থের বিষয়টি আইনগতভাবে মানতে বাধ্য বৃটেন এবং তার যাতে ভাল হয়, সে জন্য সবকিছু আয়োজন করা উচিত। তিনি আরো বলেন, শামিমার ওই নবজাতককে বৃটেনে প্রবেশে সরকার যেকোনো রকম বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তা অবশ্যই হবে বেআইনি। তাতে, তাকে জন্ম দেয়ার আগে তার মায়ের অবস্থান বা কর্মকান্ড যা-ই হোক না কেন। অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে এবং তাদেরকে শাস্তি দেয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাস মোকাবিলা করা যায়, তাদেরকে দেশের বাইরে রেখে এটা করা যায় না।
বৃটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে বলেছেন, বৃটিশ নন এমন মানুষদেরকে বৃটেনে নিষিদ্ধ করার মতো এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে এমন বিপদজনক নাগরিকদের নাগরিকত্ব নিষিদ্ধ করার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা আমার আছে। এভাবে শতাধিক মানুষের নাগরিকত্ব এরই মধ্যে কেড়ে নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ কোনো ঘটনা নিয়ে এ আলোচনা করেন নি। তিনি আরো বলেন, আমরা কাউকে রাষ্ট্রহীন করি না।
ওদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তের পর শামিমা পরিবারের আইনজীবী তাসনিম আকুঞ্জে বলেছেন, তার পরিবার সরকারের এমন সিদ্ধান্তে অত্যন্ত হতাশাগ্রস্ত। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানোর আইনগত সব উপায় আমরা বিবেচনা করবো।
শীর্ষকাগজ/জে