বুধবার, ১৯-সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
  • অপরাধ
  • »
  • রাজধানীতে সিআইডি পরিচয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি 

রাজধানীতে সিআইডি পরিচয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি 

Shershanews24.com

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৯:১১ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা:  মুখোশ পরা ব্যক্তিদের কারো হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, কারো হাতে চাপাতি। রাজধানীর পূর্ব রামপুরায় একজন প্রকৌশলীর বাসায় ঢুকে ওই ব্যক্তিরা বলল-‘চুপ করে বসে থাকেন। কিছু হবে না। আমরা সিআইডির লোক।’ 

এরপর প্রকৌশলী, তার স্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে আর ছোট্ট মেয়েকে অস্ত্রের মুখেই হাত-পা, চোখ বাঁধা হল। বাসায় লুটপাট চলল অন্তত দুই ঘণ্টা ধরে। যাওয়ার সময় ফ্রিজ খুলে আপেল, বেদানা আর পানিও খেয়ে গেল ডাকাতদল। 

মঙ্গলবার ভোর তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত পূর্ব রামপুরার ২৭৭/১ নম্বর বাড়ির চতুর্থতলার একটি ফ্লাটে এমন দুর্র্ধর্ষ ডাকাতি হয়। ওই ফ্য¬াটে সয়েল অ্যান্ড ফাউন্ডেশন টেকনোলজি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী স্বপন দাশ তার স্ত্রী, আর দুই সন্তান নিয়ে থাকেন।

বাসার লোকজন বলেছেন, ডাকাতদল ফ্ল্যাট থেকে নগদ প্রায় এক লাখ টাকা, ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি ল্যাপটপ, একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা ও তিনটি মোবাইল ফোন সেট লুট করেছে। 

ওই বাড়ির নিচেই দুইজন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করেন। তবে দুই ঘণ্টা ধরে সাততলা বাড়ির চতুর্থতলায় ডাকাতি হলেও তারা কিছুই টের পাননি বলে জানিয়েছেন।

গৃহকর্তা প্রকোশলী স্বপন দাশ জানান, ডাকাতরা বাসার উত্তর-পূর্ব দিকে নির্মাণাধীন একটি বাড়ি দিয়ে তার ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে। প্রথমে তারা খালি কক্ষে ঢুকে সেখান থেকে তার ছেলে প্রিয়দর্শন দাশের কক্ষে গিয়ে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে ছেলের হাত-পা ও চোখমুখ বেঁধে ফেলে। ওই কক্ষেই দুইজন তাকে অস্ত্রের মুখে পাহাড়া দেয়। এরপর তার কক্ষে গিয়ে ডাকাত দলের অপর সদস্যরা লাইট জ্বালিয়ে দিলে ঘুম ভেঙে যায়। অস্ত্র হাতে এতো লোক দেখে তিনি কথা বলার চেষ্টা করতেই ডাকাতরা নিজেদের সিআইডি সদস্য পরিচয় দিয়ে চুপচাপ বসে থাকতে বলেন।

স্বপন দাশ বলেন, এরপর অস্ত্রের মুখে তার, স্ত্রী এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এক পর্যায়ে হাত-পা ও চোখ বাঁধা ছেলেকেও তাদের কক্ষে নিয়ে সবাইকে এক সঙ্গে জিম্মি করা হয়। কয়েকজন তাদের পাহারা দিলেও অপর গ্রুপটি বাসায় লুটপাট চালায়। স্ত্রীর হাত সামনের দিক থেকে বাঁধা থাকায় তার সহায়তায় সকালের দিকে তাদের হাত-পায়ের বাঁধন খোলা হয়। 

প্রিয়দর্শন দাশ বলেন, কালো কাপড়ের মুখোশ দিয়ে ডাকাতদলের সবার নাক-মুখ বাঁধা ছিল। মনে হয়েছে, তাদের সবার বয়সই ২০-২২ বছরের মধ্যে হবে। সংখ্যায় ৫ থেকে ৬ জন হবে। 

বাড়ির দুই নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ আলী ও জাফর ফরাজী বলেন, রাতে তারা দায়িত্ব পালন করেন। তবে ভোর রাতের দিকে তারা ঘুমিয়ে গেলে ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। শুরুর দিকে তারা টের না পেলেও সকালে চিৎকার শুনে স্বপন দাশের ফ্ল্যাটে গিয়ে সবকিছু তছনছ দেখেন। 

রামপুরা থানার কর্তব্যরত উপপরিদর্শক ইয়াকুব আলী বলেন, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত এ ধরনের ডাকাতির খবর তাদের থানায় নেই। কেউ অভিযোগও করেনি।
শীর্ষ নিউজ/এন