Shershanews24.com
সংলাপ অর্থবহ হোক
বুধবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৮ ০৬:১১ অপরাহ্ন
Shershanews24.com

Shershanews24.com

মীর আব্দুল আলীম: দেশের মানুষ শান্তি চায়; রাজনৈতিক বিবাদ চায় না। হরতাল অবরোধ, ভাঙচুর, জ্বালাও পোড়াও চায় না। এ জন্য সংলাপের বিকল্প নেই। সংলাপ হতে যাচ্ছে, সংলাপ সফল হবে, সংঘাত হবে না এটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন দ্বারপ্রান্তে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট প্রস্তুতি নিচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য। এর মধ্যে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন দল ও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগের সাথে মহাজোটভুক্ত ১৪ দলসহ জাতীয় পার্টিও রয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং মহাজোটের বাইরে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, বিকল্প ধারা, এলডিপি কল্যাণ পার্টিসহ কয়েকটি দল । একাদশ সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও মহাজোটের সাথে মূল নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এরমধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিলেট ও চট্টগ্রামে জনসভা করে তাদের ঐক্যের উদ্দেশ্য লক্ষ্যের কথা জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 
নির্বাচন হবে। সরকারও বর্তমানে আশা করে সকল দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হউক। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাইরে থাকা সাবেক শাসক দল বিএনপি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টভুক্ত হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক দল কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে নির্বাচনের ব্যপারে নানা শর্ত বিরোধী শিবিরের। এসব মানা না মানা নিয়ে রাজনৈতিক মাঠ ক্রমশই ঘোলা হচ্ছিলো। এমন সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সংলাপ চেয়ে চিঠি পাঠান গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে বসতে রাজি হয়েছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে শাসক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে সংলাপ চেয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনাকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এতে প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা অবশ্যই দেশের জনগণের কল্যাণের স্বার্থে বলেও তারা মনে করছেন। কেন না এক এগারোর মতো কোন পরিস্থিতি এদেশের জনগণ আশা করে না। সংলাপ সবসময় যে কোন সমস্যা সমাধানের উত্তম পন্থা। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল ও ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সংলাপ হতেই পারে। তবে শর্তসাপেক্ষে সংলাপ কখনো সমঝোতার পক্ষে শুভ নয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন।
আমরা মনে করি দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এবং হালসময়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দেশের শান্তি চায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে সংঘাত না সংলাপ? এ প্রশ্নের জবাব জানতে সংবাদপত্রের নিচের ক’টি শিরোনামই যথেষ্ট- (১) আলোচনায় না এলে আবারো সংঘাত, (২) সংলাপেই শান্তি স্বস্তি।  কোনটা শ্রেয়? সংলাপ নাকি সংঘাত। সংঘাতের পথ ধরেই হাঁটছিলো আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো। দেশের শান্তির লক্ষ্যে এ মুহূর্তে সংলাপের বিকল্প নাই। তবে সংলাপের জন্য সংলাপ নয়; সংলাপ হোক দেশ ও জাতির স্বার্থে। সংলাপের ব্যাপারে এ তাগিদ বিভিন্ন দেশের। সংঘাতময় এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা খুবই প্রয়োজন। এ জন্য সংলাপের কোনো বিকল্প নেই। সংলাপ হচ্ছে, সংলাপ সফল হবে আর তাতেই জনগণ তথা দেশের স্বার্থ রক্ষা হবে।
আমরা বরাবরই যা দেখি, দেশপ্রেম, ধৈর্য্য, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দেশের রাজনীতি থেকে উধাও। এ অবস্থায় বর্তমান রাজনীতিতে বেশি করে গণতন্ত্র চর্চা এবং দেশাত্মবোধ তৈরির জন্য আমাদের জোর দাবি তুলতে হবে এবং সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তা না হলে দেশ দিন দিন আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে, যা জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্য কখনোই কাম্য নয়। এ পরিস্থিতি আবার অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থানকে সুযোগ করে দিতে পারে। দুই পক্ষই অনড়। বোঝা যাচ্ছে সংলাপ সফল না হলে সামনের দিনগুলো আর ভালো যাবে না। সংঘাত আর নৈরাজ্য দেশবাসীর নিত্য সাথী হয়েই থাকছে। নেতা-নেত্রী, আমলা-মন্ত্রীদের কথার জালেই আটকে আছে রাজনীতির সকল কপাট। এর আগেও দেশে রাজনৈতিক সংলাপ হয়েছে। ফলাফল ছিলো কেবলই শূন্য। এবার যেন সংলাপ বিফল না হয়। আমরা জানি সংলাপের বিপরীত তো সংঘাত। সেটা দেশের জন্য, সরকারের জন্য, কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।
দেশের চলমান সঙ্কট দূর করতে আমাদের রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসতে হবে । সঙ্কট যদি দূর হয়, তার কৃতিত্বের দাবি অবশ্যই তাদের। যদি সঙ্কট বাড়ে, তার দায়ও তাদের ওপর বর্তাবে। জনগণ আশা করে, তারা দেশের সঙ্কট দূর করতে এগিয়ে আসবেন, বর্তমান অস্থিরতা থেকে জাতিকে মুক্ত করবেন। সেই পরিবেশ অবশ্যই রাজনীতিবিদদের নিশ্চিত করতে হবে। দেশের বিরাজমান নৈরাজ্য দূরীকরণে একসঙ্গে বসবেন এমনটি আশা করছে দেশের মানুষ। তবে নিরাশবাদীরা বলছে বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কোনোদিন সফল সংলাপে বসবেন না, আর যদি নিদেনপক্ষে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে বসেন, সে সংলাপ কখনো বিফল হবে না। আমরা মনে করি দুই পক্ষই আন্তরিকভাবে চাচ্ছে সংলাপের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসুক। কে কাকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করতে পারবেন, কীভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন, আর ক্ষমতায় যেতে পারবেন সে লক্ষ্যেই তারা না এগিয়ে জনগণের স্বার্থে সংলাপকে সফল রূপ দিবেন এটাই সবাই কায়মনে চায়।
দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও রাজনীতির ক্ষেত্রে আলোহীন অন্ধকার আর ভুল পথেই চলছে বাংলাদেশ। অন্ধকার থেকে আলোর পথে কি দেশের রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনা যায় না? কর্দমাক্ত রাজনীতি আর সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে দেশকে উদ্ধার করা অবশ্যই সম্ভব। এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে দেশের গণতন্ত্র আর বাঁচা-মরা নির্ভর করছে আমাদের বড় দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আর বিএনপির ওপর। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যেন আর সংঘাত না হয় এটাই আমরা আমাদের রাজনীতিবিদদের কাছে প্রত্যাশা করছি।
গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দল থাকবে এবং তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। আর এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে তাদের মধ্যে সহনশীলতা অবশ্যই কাম্য। দেশের কথা, জনগণের কথাও ভাবতে হবে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে। ধৈর্য মহৎ গুণ। কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও শুধু নিজেদের অবস্থানে অনড় না থেকে জনগণের কথা ভেবে পরস্পর আলোচনায় বসতে হবে। ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি প্রবল গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের ঘোষণা দিয়েই চলছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কেউ কেউ বিরোধী দলকে নানাভাবে উসকানি দিচ্ছেন। এই বলে তাঁরা হুমকিও দিচ্ছেন যে বিরোধী দল রাস্তায় নামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বসে থাকবে না। এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে নাগরিকরা উদ্বিগ্ন। কারণ, বিরোধী দল রাস্তায় নামলে সরকারি দল তা প্রতিহত করার চেষ্টা করবে। এ কাজে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করবে। এর কোনোটাই দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। নিঃসন্দেহে এর ফলে সহিংসতার সৃষ্টি হবে। এর পরিণতিতে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হবে। 
 শান্তিপ্রিয় নাগরিক হিসেবে আমরা রাজপথে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা চাই না। সংঘাত নয়, সংলাপ ও সমঝোতাই গণতন্ত্রের পথ। সংলাপের জন্য উভয় পক্ষে মুক্তমন নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আর সেই দিনের প্রত্যাশাই রইলাম আমরা।