রবিবার, ২১-জুলাই ২০১৯, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
  • আন্তর্জাতিক
  • »
  • ২০৫০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণায়নে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে

২০৫০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণায়নে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে

shershanews24.com

প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০১৯ ০৩:০২ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ ডেস্ক: ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে। বর্তমানে মাদ্রিদে যেমন জলবায়ু বিরাজমান, ঠিক একই রকম অবস্থা ২০৫০ সাল নাগাদ দেখা দেবে লন্ডনে। একই সময়ে বর্তমানে ক্যানবেরার মতো অবস্থা হবে প্যারিসের। বুডাপেস্টের মতো অবস্থা হবে স্কটহোমের। সোফিয়ার মতো অবস্থা হবে মস্কোর। বুধবার প্রকাশিত নতুন এক জলবায়ু বিষয়ক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের জলবায়ু ২০৫০ সাল নাগাদ কেমন হবে তার একটি ধারণা দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এতে বলা হয়েছে কুয়ালালামপুর, জাকার্তা ও সিঙ্গাপুরের মতো বিশ্বের বড় সব গ্রীষ্মমন্ডলীয় শহরগুলোতে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে। সেখানে দেখা দেবে অনাকাঙ্খিত জলবায়ু বিষয়ক অবস্থা। এর ফলে দেখা দিতে পারে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া। আর তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। ইটিএইচ জুরিখ-এর বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তাদের এ গবেষণা বুধবার প্রকাশিত হয়েছে প্লোস ওয়ান-এ। এ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ১৯টি ভেরিয়েব্যল বা নির্ণায়ক ব্যবহার করে বিশ্বের ৫২০টি বড় শহরের ওপর গবেষণা করেছেন। এসব নির্ণায়ক তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনশীলতার প্রতিফলন ঘটায়।
সুপ্রতিষ্ঠিত মডেল, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক আশাবাদ রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যত সম্পর্কে অভিক্ষেপ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো গ্রিন পলিসি বা পরিবেশ বান্ধব নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই শতাব্দীর মাঝামাঝি কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন স্থিতিশীল পর্যায়ে আনা সম্ভব হবে। এ সময়ে গড়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি থাকবে ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর বিজ্ঞানীদের টিমটি বর্তমান ও ভবিষ্যত শহরগুলোর মধ্যে একই রকম জলবায়ুর তুলনা করেছেন। সে অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ উত্তর গোলার্ধের শহরগুলো ওইসব শহরের মতো হবে, যা বিষুবরেখা থেকে কমপক্ষে ১০০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। তবে বিষুবরেখার কাছাকাছি থাকা শহরগুলোতে উষ্ণতার নাটকীয় কোনো পরিবর্তন দেখা যাবে না। তবে সেখানে চরমভাবাপন্ন খরা অথবা বৃষ্টিপাত দেখা দেবে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের শতকরা ৭৭ ভাগ শহরে জলবায়ু পরিবর্তনে আকর্ষণীয় পরিবর্তন দেখা দেবে। অন্যদিকে শতকরা ২২ ভাগ শহরে দেখা দেবে অভূতপূর্ব পরিবেশ। এর অর্থ হলো, এর আগে এমন অবস্থা আর দেখা যায় নি কখনো। ইউরোপে গ্রীষ্মকাল ও শীতকাল হয়ে উঠবে আরো উষ্ণ। গড় তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে বৃদ্ধি পাবে ৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শীতকালে ৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।  যদিও গবেষণার এই মডেল নতুন নয়, তবু এসব করা হয়েছে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে নীতি গ্রহণকে উৎসাহিত করতে। গবেষণার প্রধান লেখক জ্যাঁ ফ্রাঁসিস ব্যাস্টিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে কি ঘটতে যাচ্ছে সে বিষয়ে সবাইকে অবহিত করার চেষ্টা এটা। আর এর মধ্য দিয়ে সঠিক পথ বেছে নিতে উৎসাহিত করা। জ্যাঁ ফ্রাঁসিস ব্যাস্টিনের বাড়ি বেলজিয়ামে। তিনি বলেন, ২০৬০ সাল নাগাদ তার দেশে শীতকালে শূন্য ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা নেমে যাবে এমনটা নিশ্চিত নয়।
শীর্ষকাগজ/জে