বৃহস্পতিবার, ১৮-জুলাই ২০১৯, ০৬:১২ অপরাহ্ন

কঠোর নিরাপত্তায় গোপনে মুরসির দাফন

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৮ জুন, ২০১৯ ১২:২২ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ ডেস্ক: গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত মিসরের প্রথম প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে কঠোর নিরাপত্তায় গোপনীয় ভাবে শুধুমাত্র পরিবারেরসদস্য ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার ভোরে দাফন করা হয়েছে। মুরসির আইজীবীদের বরাত দিয়ে খবরটি নিশ্চিত করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় পূর্ব কায়রোর নাসের সিটিতে মুরসিকে দাফন করা হয়। সোমবার আদালতে মামলার শুনানির সময় হার্ট অ্যাটাকে আক্রন্ত হয়ে-মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মুরসি।
সামাজিক মাধ্যমে ফাস হওয়া একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাফন অনুষ্ঠানে মুরসির ভাই, ছেলে, স্ত্রী এবং দুজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। তবে আনাদুলো এজেন্সি এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
সোমবার রয়টার্স মুরসির ছেলে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ মুরসির বরাত দিয়ে জানিয়ে ছিলো, পরিবারের পক্ষ থেকে মুরসির নিজ শহর সারকিয়া প্রদেশে তার দাফনের আবেদন জানানো হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে মিসরিয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার ভোরে মিসরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছ, বেনিন টিউমারের সমস্যায় ভুগছিলেন মুরসি। এজন্য নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হতো। কিন্তু তার মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে।
৬৭ বছর বয়স্ক মোহাম্মদ মুরসি সোমবার তার বিরুদ্ধে আনা এক গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় হাজিরা দিচ্ছিলেন। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সাথে সন্দেহজনক যোগাযোগ রাখার অভিযোগ এনে ওই মামলা করা হয়েছিল।
মিসরের ‘আরব বসন্ত’ নামে খ্যাত সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ২০১২ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল তাতে মোহাম্মদ মুরসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা এবং মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট। কিন্তু নানা ষড়যন্ত্রে এক বছর পরই তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখল করে। তখন থেকেই তিনি কারাবন্দী আছেন। মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার সমর্থক এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে মিসর সরকার ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাপ্রধান আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি ক্ষমতা দখল করেন এবং পরে প্রহসনের নির্বাচনে মিসরের প্রেসিডেন্ট হন। এখনো তিনি প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত আছেন।
শীর্ষকাগজ/জে