রবিবার, ১৮-আগস্ট ২০১৯, ১১:১০ পূর্বাহ্ন
  • আন্তর্জাতিক
  • »
  • আমিরাতি নারীকে যেকারণে আশ্রয় দেবে না মেসিডোনিয়া

আমিরাতি নারীকে যেকারণে আশ্রয় দেবে না মেসিডোনিয়া

shershanews24.com

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৮:৩৫ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ ডেস্ক : একের পর এক আরব দেশ থেকে পালিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পারি জমাচ্ছেন আরব নারীরা। এ তালিকার যুক্ত হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক নারী। তিনি পরিবার ছেড়ে বলকান রাষ্ট্র মেসিডোনিয়ায় পালিয়ে গেছেন।

দেশটিতে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয়ের আবেদন করেন তিনি। কিন্তু যাচাই-বাছাই শেষে আমিরাতি ওই নারীর আশ্রয়ের আবেদন বাতিল করে দিয়েছে মেসিডোনিয়া সরকার। খবর গার্ডিয়ান

গত ৪ ফেব্রুয়ারি মেসিডোনিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই নারীর আশ্রয় পাওয়ার আবেদন বাতিল করে দেয়। মন্ত্রণালয় বলছে, আমিরাতি ওই নারীকে পারিবারিক, জাতিগত, ধর্ম অথবা রাজনৈতিক কোনো ধরনের নিপীড়নের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

হিন্দ মোহাম্মদ আলবোলুকি (৪২) আশ্রয় পেতে সহায়তা চেয়ে আকুতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে একটি ভিডিও টুইট করেছেন তিনি।

ভিডিওতে তিনি বলেন, স্বামীর কাছ থেকে তালাক চাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে হুমকি দেন। হুমকি পাওয়ার পর তিনি আবু ধাবি থেকে পালিয়ে মেসিডোনিয়ায় যান।

এর আগে তিনি পালিয়ে যাওয়ার আগে এক অডিও বার্তায় জানান, তার মা ও চার সন্তান রয়েছে। তিনি বলেন, কোনো মা তার সন্তানদের ছাড়া থাকতে পারে না। আমি আমার সন্তানদের ছেড়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া আমার আর কোনো পথ নেই।

মেসিডোনিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তবে স্বেচ্ছায় মেসিডোনিয়া ত্যাগ করার জন্য আলবোলুকিকে ১৫ দিনের সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় মেসিডোনিয়া থেকে চলে যেতে হবে তাকে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তিনি মেসিডোনিয়ার ইমিগ্রেশন আটক কেন্দ্রে থাকবেন। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আটকা আছেন তিনি।

গত বছরের ২ অক্টোবর টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে আমিরাত থেকে পালিয়ে যান আলবোলুকি। ট্যাক্সিতে করে শারজাহ শহরে এক বন্ধুর বাসায় যান তিনি। পরে স্থলপথে বাহরাইনে পৌঁছান আলবোলুকি।

গত ৪ অক্টোবর তুরস্ক হয়ে সার্বিয়ায় যান তিনি। সেখান থেকে মেসিডোনিয়ায় প্রবেশ করেন। দুই সপ্তাহ পরে দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করেন তিনি।

আমিরাত থেকে পালিয়ে অন্যদেশে গিয়ে আশ্রয় চাওয়ার এই ঘটনা প্রথম নয়। গত বছর আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্য ও দুবাইয়ের শাসকের মেয়ে লতিফা বিনতে মোহাম্মদ আল মাকতুম দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

সেই সময় তার এই ঘটনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে আলোড়ন তৈরি করে। দুবাই রাজপরিবারের ওই নারী সদস্য বলেছিলেন, তিন বছর ধরে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করছে পরিবারের সদস্যরা।

চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝের দিকে পরিবারের কাছ থেকে পালাতে গিয়ে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক বিমানবন্দরে আটকা পড়েন সৌদি আরবের এক তরুণী।

তাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে তার পরিবার তাকে হত্যা করবে বলে আশঙ্কার কথা তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন।

১৮ বছরের রাহাফ মোহাম্মদ মুতলাক আল-কুনুন আশ্রয় প্রার্থনার জন্য ব্যাংকক হয়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে কুয়েত ভ্রমণে থাকার সময় তিনি পালিয়ে যান।

পরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হস্তক্ষেপে তিনি কানাডায় পাড়ি জমান। সেখানে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সৌদি তরুণী রাহাফ কেমন জীবন কাটাচ্ছেন তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। এতে দেখা যায় কানাডায় আমুদেই কাটছে তার সময়।

সেখানে শূকরের মাংস, ওয়াইন ও সিগারেট খাচ্ছেন দেদার। এমন ছবি ব্যক্তিগত টুইটারে পোস্ট করেছেন রাহাফ। ছবিগুলো দেখে মনে হয়নি যে, তিনি এগুলোতে অনভ্যস্ত।

সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট করা নাশতার ছবিতে ক্যাপশন লিখেন- 'ওএমজি বেকন' ও মাই গড বেকন (শূকরের মাংস)। মুসলমানদের শরিয়তে শূকরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। এই ছবির সঙ্গেই তিনি মদ ও সিগারেটের টুকরোর ছবি দিয়ে সেগুলো দারুণ উপভোগ করছেন বলে জানিয়েছেন।

এ ছাড়া রাহাফ ভোরে স্টারবাকস কফি খাওয়ার ছবিও শেয়ার করেছেন। যেখানে তাকে হাঁটু পর্যন্ত ধূসর উলের পোশাকে দেখা গেছে। পায়ের এর পরের অংশ আলগা। রাহাফ কুকুর নিয়ে বাইরে ঘুরে বেড়ানোর ভিডিও দিয়ে তাতে ক্যাপশন দেন- স্বাধীনতা অনুভব করছি।
শীর্ষকাগজ/এসএসআই