শুক্রবার, ২২-ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
  • আন্তর্জাতিক
  • »
  • ওয়াশিংটন খাশোগি হত্যার তদন্ত ধামাচাপা দিচ্ছে না

ওয়াশিংটন খাশোগি হত্যার তদন্ত ধামাচাপা দিচ্ছে না

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৬:০৩ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ ডেস্ক : খাশোগি হত্যার তদন্ত আমেরিকা ধামাচাপা দিচ্ছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, আমেরিকা এ হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দিচ্ছে না। দায়ীদের সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে ওয়াশিংটন আরও ব্যবস্থা নেবে।

হাঙ্গেরি সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ঘোষণা দেন।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনও এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খাশোগি হত্যার তদন্ত অব্যাহত রাখবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সময়ে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে এ মন্তব্য করলেন যখন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান খাশোগি হত্যার তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের নিরবতার সমালোচনা করেছেন এবং মার্কিন আইনপ্রণেতারা নৃশংশ এ খুনের ঘটনায় অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।

এ মাসের শুরুর দিকে তুরস্কের টিআরটি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোগান বলেছিলেন, সিআইএর সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে তুরস্কের সরবরাহ করা রেকর্ডিং শোনার পরও এই ধরনের ভয়ঙ্কর ঘটনায় আমেরিকার নীরবতা আমি বুঝতে পারছি না। এটি কোনও সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়। আমরা সবকিছু পরিষ্কার করতে চাই। কারণ এটি নৃশংসতা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

এরদোগান বরাবরই বলে আসছেন, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের চার মাস আগে সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ এসেছিল। টিআরটিকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ খুনের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন ২২ জন। এদের মধ্যে ১৫ জন দুইটি বিমানে করে ইস্তান্বুল পৌঁছায়। হত্যাকাণ্ডের দিন তারা ইস্তান্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করে।

এরদোগান বলেন, তুরস্কের জোরালো ভূমিকার পর আদিল জাবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নেওয়াই প্রমাণ করে সৌদি সরকার এ হত্যার সঙ্গে জড়িত।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে আঙ্গুল উঠে খোদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রথমে এ হত্যাকাণ্ডের খবর অস্বীকার করা হয়। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার খবর অস্বীকার করা হয়। ওই ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন সৌদি যুবরাজ।

বর্তমানে ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে একদল সৌদি নিরাপত্তা কর্মীর বিচার চলছে। তুরস্কের মাটিতে খাশোগি খুন হয়েছেন বলে তুর্কি কর্মকর্তারা ঘাতক বাহিনীর সদস্যদের বিচারের জন্য আঙ্কারার হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানালেও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সূত্র: আনাদলু,টিআরটি। 
শীর্ষকাগজ/এসএসআই