বুধবার, ২০-মার্চ ২০১৯, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • স্বাস্থ্য
  • »
  • সেই ওসির শাস্তি চায় বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এসোসিয়েশন

সেই ওসির শাস্তি চায় বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এসোসিয়েশন

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ০৫ মার্চ, ২০১৯ ০৯:৩১ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ, ঢাকা: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চিকিৎসককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়া ওসি সিরাজুল ইসলামকে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি চেয়েছে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এসোসিয়েশন।
সোমবার বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. আ. ম. সেলিম রেজা স্বাক্ষরিতিএক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩৫তম বিসিএসের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শেখ অকস্মাৎ একটি বাচ্চা ধর্ষিত বা ধর্ষণ প্রচেষ্টার স্বীকার হয়েছে কি না জানতে চেয়ে প্রচণ্ড দুর্ব্যবহার করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় উক্ত চিকিৎসক সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে ছিলেন না এবং ধর্ষণ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা ও মতামত প্রদান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর এখতিয়ার বহির্ভূত যা জ্ঞাত না থাকা একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে তার অজ্ঞতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বহিঃপ্রকাশ। ফলশ্রুতিতে সারা দেশব্যাপী স্বাস্থ্য ক্যাডারের সকল চিকিৎসকদের, বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত তরুণ ক্যাডার চিকিৎসকদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এসোসিয়েশনের সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত যে কোন কর্মকর্তা, বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির ক্যাডার কর্মকর্তার সঙ্গে এরূপ আচরণ ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি প্রদান সুস্পষ্টভাবেই যেকোনো বিভাগের পেশাদারি আচরণের বৈপরীত্যসহ চাকরিবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এসোসিয়েশন আরও উল্লেখ করে, প্রজাতন্ত্রের একজন প্রথম শ্রেণির ক্যাডার কর্মকর্তাই যেহেতু ওই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মিথ্যা মামলার হুমকিজনিত ভোগান্তি হতে নিরাপদ নন, সেহেতু যে কোন সাধারণ নাগরিক যে তার কাছে কতটা অনিরাপদ তা স্পষ্টতই প্রতীয়মান। যেহেতু, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সব ক্যাডার চিকিৎসকসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী একত্রে জনগণের সেবায় নিয়োজিত ও উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সরকারের সব দফতরের মধ্যে আন্তঃবিভাগীয় সুসম্পর্ক ও সমন্বয় আবশ্যক, সেহেতু উক্ত পুলিশ কর্মকর্তার এহেন আচরণ ইচ্ছাকৃত ও দুরভীসন্ধিমূলক কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ওই ঘটনায় প্রান্তিক পর্যায়ে চলমান চিকিৎসক নির্যাতন ও কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতা আরও একবার সুস্পষ্ট করে। এই ঘটনা বিচারহীন থাকলে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক কর্মকর্তারা অনুৎসাহিত হবে এবং তারা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করবে বলে এসোসিয়েশন মনে করে।
ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদের সঙ্গে কৃত অপরাধের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, একজন দুর্বিনীত পুলিশ সদস্যের কৃত অপরাধের দায়ভার সম্পূর্ণরূপেই তার নিজস্ব। তার ব্যক্তিগত অপরাধের কারণে পুরো পুলিশ বিভাগ বিতর্কিত হতে পারে না, তাই এসোসিয়েশন পুলিশ বিভাগকে উক্ত পুলিশ সদস্যকে অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারসহ তার বিরুদ্ধে চাকরিবিধি ও পুলিশবিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রহণ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে।
শীর্ষকাগজ/জে