শনিবার, ২০-অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • স্বাস্থ্য
  • »
  • হৃদপিণ্ড ও রক্তনালি জনিত রোগে বাড়ছে মৃত্যুহার

হৃদপিণ্ড ও রক্তনালি জনিত রোগে বাড়ছে মৃত্যুহার

Shershanews24.com

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৫:৫৬ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা : হৃদপিণ্ড মানুষের শরীরের এমন একটা অঙ্গ, যেটা আমাদের সত্যিকার অর্থে বাঁচিয়ে রাখে। কেননা, মানুষের মস্তিষ্কের মৃত্যু হলেও যতক্ষণ পর্যন্ত হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা সচল থাকে আমরা তাকে জীবিত বলতে পারি। তবে, বর্তমানে হৃদপিণ্ড ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে মানুষের মৃত্যুহার বাড়ছে। 
এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০০০ সালের শুরু থেকে প্রতিবছর ১৭ মিলিয়ন লোক মারা যায় হৃদপিণ্ড ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে। হৃদপিণ্ডে রক্তনালির ব্লক ও মস্তিষ্কের স্ট্রোক জনিত কারণে মৃত্যুর হার ক্যান্সার, এইডস ও ম্যালেরিয়া থেকেও বেশি। বর্তমানে হৃদরোগ ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে ৩১ শতাংশ মৃত্যু হয় এবং অল্প বয়সে মৃত্যুর ৮০ শতাংশের জন্যও হৃদরোগকে দায়ী করা হয়।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো এনজাইনা, শ্বাসকষ্ট হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। এনজাইনা হচ্ছে, রোগীর সাধারণত বুকে ব্যথা, বুকে চাপ অনুভব করা, বুক ভার ভার হওয়া, দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হওয়া ইত্যাদি। কারো করোনারি আর্টারি বা হার্টের রক্তনালির ৭০ শতাংশ ব্লক হয়ে গেলে তখনই এনজাইনা হয়ে থাকে। কখনো কখনো এনজাইনা থেকে হার্ট অ্যাটাক হয়। 

আবার করোনারি ধমনি যখন ১০০ শতাংশ ব্লক হয়, তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ফলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক একটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা, যেখানে জীবন ও মৃত্যু খুব কাছাকাছি চলে আসে। এটি সাধারণত বয়স্কদের রোগ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী মানুষের এটি হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের এটি হয়ে থাকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে আমাদের দেশের  লোকের ১০ বছর আগেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। এখন ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী, এমনকি ২৫-৩০ বছর বয়সীরাও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছে। যার অন্যতম কারণ হলো- স্বাস্থ্যসম্মত খাবার না খাওয়া, ধূমপান ও তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করা ও অ্যালকোহল পান করা।

এছাড়া এ অঞ্চলে দুর্বল হার্ট বা কার্ডিওমায়োপ্যাথি একটি পরিচিত হৃদরোগ যেখানে হার্টের কার্যক্ষমতা কমে যায়। বাতজ্বর জনিত হৃদরোগ বাংলাদেশের আরেকটি বড় সমস্যা। সাধারণত ছোট বেলায় বাতজ্বর থেকে পরবর্তীতে বাতজ্বর জনিত হৃদরোগ হয়ে থাকে। বাতজ্বর জনিত রোগে সাধারণত হার্টের ভাল্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর মধ্যে কিছু রোগ চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো করা সম্ভব। আর কিছু রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। যদি সময়মতো চিকিৎসা করা না হয় তাহলে পরবর্তীতে শৈল চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হতে পারে।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ক্লিনিক্যাল কার্ডিওলজি ডিভিশনের প্রধান ও কার্ডিওলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যার্নাজি জানান, হৃদরোগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণের মধ্যে যদি কারো পরিবারে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শিশুর জন্মগত হৃদরোগ থাকে সেক্ষেত্রে ঝুঁকি কমানোর জন্য আমাদের কিছুই করার থাকে না। জন্মগত কারণে শিশুদের হৃদপিণ্ডের দুটি প্রধান ত্রুটি, যেমন- ভেন্ট্রিকালার সেপ্টাল ডিফেক্ট ও এট্রিয়াল সেপ্টাল ডিফেক্ট  সাধারণত আমাদের দেশে বেশি দেখা যায়। 

সহজ কথায়, হৃদপিণ্ডের মধ্যে চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে। দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়। ডান ও বাম অলিন্দ একটি পর্দা দ্বারা পৃথক থাকে এবং ডান ও বাম নিলয়ও আরোও একটি পর্দা দ্বারা পৃথক। যদি দুই অলিন্দের মাঝখানের পর্দার কোন ছিদ্র থাকে তাকে এএসডি বলে। আর যদি দুটি নিলয়ের মাঝখানে পর্দার মাঝে কোন ছিদ্র থাকে, তখন তাকে ভিএসডি বলে। এ সমস্যায় অক্সিজেনযুক্ত রক্ত কার্বন ডাই অক্সাইডযুক্ত রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। সাধারণত শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।

সামগ্রিক বিষয়ে বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। যেমন- স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণের পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদের জাঙ্ক ফুড খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। হৃদরোগ প্রতিরোধে কায়িক পরিশ্রম করা, হাঁটাহাঁটি করা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান না করা ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।


শীর্ষ নিউজ/এনএস