মঙ্গলবার, ২০-আগস্ট ২০১৯, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

খালেদা জিয়ার মুক্তি কি আসন্ন?

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৩ জুলাই, ২০১৯ ০৬:০২ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে:বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কি শিগগিরই কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন? এমন একটা প্রশ্ন এখন বেশ জোরালোভাবেই আলোচিত হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন আর আদালতপাড়া থেকে সর্বত্র। বিশেষ করে দু’টি বাদে অন্যসব মামলায় তাঁর জামিন হয়ে যাওয়া এবং জামিন হওয়া ও মুক্তির ব্যাপারে সরকারদলীয় নেতা ও মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বক্তব্য। বস্তুত এসব কারণেই অনেকে ধারণা করছেন, যদি পুরো প্রক্রিয়াটি এভাবে এগোতে থাকে তাহলে শিগগিরই হয়তো খালেদা জিয়ার কারাজীবনের অবসান ঘটতে পারে। দেড় বছর ধরে কারাবন্দি খালেদা জিয়া, এসময় তার কারাজীবন, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, রাজনৈতিক ভবিষ্যত এসব নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে, এখন সব আলোচনা এসে মিলেছে এক বিন্দুতে আর তা হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা। বিভিন্ন সূত্র থেকে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির বিষয়ে নানা সমীকরণের কথা শোনা যাচ্ছে, এসব সমীকরণ মিলে গেলেই হয়তো কারাগার থেকে বেরিয়ে আসবেন তিনি। এর নেপথ্যে বিদেশি চাপ প্রচন্ডভাবে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
কারাগারে দেড় বছর
খালেদা জিয়া কারাবন্দি হন ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার এক বিতর্কিত রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদ- দেয়া হয়। রায়ের পরই আদালত প্রাঙ্গণ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী কর্ডন করে খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে নিয়ে যায়। নাজিমউদ্দিন রোডের ওই কারাগারটি অবশ্য এখন আর কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ইতিমধ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে কেরানীগঞ্জে। ফলে নাজিমউদ্দিন রোডের ওই কারাগারটিতে যখন তাকে নেয়া হয় তখন খালেদা জিয়াই ছিলেন সেখানকার একমাত্র বন্দি। 
বিএনপি সবসময়ই অভিযোগ করে আসছে খালেদা জিয়াকে নিঃসঙ্গ কারাগারে রাখা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। অবশ্য এই দেড় বছরের মধ্যে খালেদা জিয়াকে মাঝে একাধিকার মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়েও আনা হয়। সবশেষ গত ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে আনা হয়েছে। এরপর থেকে তিনি ওই হাসপাতালেই আছেন। তবে ইতিমধ্যে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে পানি কম ঘোলা করা হয়নি। জেলকোডের দোহাই দিয়ে সরকার তাকে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কথা বললেও বিএনপি, খালেদা জিয়ার পরিবার সর্বোপরি খালেদা জিয়ারই ইচ্ছা ছিল তার চিকিৎসা যেন ইউনাইটেড হাসপাতালে হয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হয়েছে সরকারের ইচ্ছানুযায়ী অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়েই। 
এবার হাসপাতালে থাকাকালেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয় চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়াকে কোথায় নেয়া হবে? সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি আভাস দেয়া হচ্ছিলো খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রিয় কারাগারে স্থানান্তর করা হতে পারে। সেখানকার মহিলা সেলও নাকি পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও সেরকম আভাস দিয়েছিলেন। এছাড়া কারা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা কেরানীগঞ্জের কারাগার পরিদর্শন করায় খালেদা জিয়াকে ওই কারাগারে নেয়া হবে এমন ধারণা আরো জোরালো হয়। 
এর আগে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে বন্দি থাকাকালে ওই কারাগারেই খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য আদালত স্থাপন করা হয়েছিল, সেখানে বিচার কার্যক্রমও চলেছে। কেরানীগঞ্জে কারাগারে আদালত বসানোর জন্যও সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে- এতে বিএনপি নেতা ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের ধারণা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসনকে হয়তো কেরানীগঞ্জেই পাঠানো হবে। তবে খালেদা জিয়া এখনো বঙ্গবন্ধু হাসপাতালেই আছেন। অবশিষ্ট দু’টি মামলায় জামিন হলে এই হাসপাতাল থেকেই মুক্তি পেতে পারেন তিনি।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা যত মামলা
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট মামলা আছে ৩৬টি। এরমধ্যে ৫টি হচ্ছে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলা। এ মামলাগুলো হলো- জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, নাইকো মামলা, গ্যাটকো মামলা ও  বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলা। অন্য মামলাগুলো হচ্ছে জন্মদিন পালন, রাষ্ট্রদ্রোহিতা, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে হত্যা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা ও মানহানির মামলা।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় হয় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। এ মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদ- দেয়া হয়। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। হাইকোর্ট দুদকের পক্ষে রায় দেন, খালেদা জিয়ার কারাদ- বাড়িয়ে ১০ বছর করে এ আদালত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টের রায় হয় ৩০ অক্টোবর। বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতা এবং বিভিন্ন মামলায় খালেদা জিয়ার হয়ে আইনি লড়াই চালানো আইনজীবীদের অভিযোগ, খালেদা জিয়ার সাজা দেয়াটা আসলে সাজানো বিষয়, সাজানো মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার হাইকোর্টের রায়ের আগের দিন অর্থাৎ ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় হয়, এ মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদ- দেয় বিচারিক আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে দুদক, সাজা বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকেও। 
খালেদা জিয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী যা বলেন
২০১৮ সালের ৭ জুলাই আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, “তার (খালেদা জিয়া) দুর্নীতির কাহিনী আছে। অসুস্থতার ভান করে কোর্টে হাজিরা দেন না, হাজিরা দিলেই ধরা খাবেন সেজন্যই হাজিরা দেন না, এটাই হলো বাস্তবতা। তিনি বলেন, “শাস্তি হয়েছে, জেলে গেছেন, এখানে তো আমাদের কোন দায় নেই।” তিনি প্রশ্ন রাখেন- “এভাবে কেউ এতিমের টাকা চুরি করে খেতে পারে? এটা কেউ পারে না। অথচ এতিমখানার জন্য টাকা এনে কীভাবে নয়ছয় করা হয়েছে?”
খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকারি দলের নেতা আর মন্ত্রীরাও বিভিন্ন সময়ে নানা কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্দোলন করে বিএনপি নেতারা যদি তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিতে পারেন তাতে কোন আপত্তি নেই। তবে তাদের আন্দোলন করার সাহস আছে কি না তা নিয়েই সন্দিহান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে আন্দোলন করে, চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতি করে কিন্তু মুক্তির জন্য কেন আন্দোলন করেন না? তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি ৫শ’ মানুষ নিয়েও একটি মিছিল করতে পারেনি, ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচনেও ব্যর্থ, আন্দোলনেও ব্যর্থ, এমন ব্যর্থ বিরোধীদল আগে কখনো দেখা যায়নি।
খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চাপ দিচ্ছে এমন একটা কথা উঠলেও ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সরকারের ওপর কোন চাপ নেই। খালেদা জিয়া আদালত থেকে দুটি মামলায় জামিন পাওয়ার উদাহরণ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন, সরকার আগেও এসব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি এখনো করছে না।
শেখ হাসিনার ব্যাপারে খালেদা জিয়ার মন্তব্য
২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি হয় ঢাকা বিশেষ আদালত-৯ এর বিচারক মাহমুদুল কবিরের আদালতে। শুনানির এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া আদালতে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নাইকো দুর্নীতি মামলার আসামি ছিলেন। কাজেই তাকেও এখানে হাজির করা উচিত। তবে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে খালেদা জিয়ার ওই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মামলার আসামী নন, কাজেই তাকে এখানে হাজির করানোর কোনো প্রশ্ন ওঠে না।
নির্বাচনকালীন এজেন্ডা
অনেকেই বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সবচে’ মোক্ষম সুযোগটা বিএনপির সামনে এসেছিল বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়। সে সময় সরকারের সাথে সংলাপ করে জাতীয় ঐক্যফ"ন্ট। অসংখ্য দাবি-দাওয়া নিয়ে তারা গণভবনের মেহমান হয়েছিলেন, অনেক দাবির একটি ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তি। অনেকে বলেন, ঐক্যফ"ন্ট তথা বিএনপিকে বাদ দিয়ে আর নির্বাচনের পথে যেত না আওয়ামী লীগ, তাই নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা দাবি দাওয়া না করে বিএনপি যদি সে সময় খালেদা জিয়ার মুক্তির একদফা দাবি নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতো তাহলে হয়তো খালেদা জিয়া নির্বাচনের আগেই মুক্তি পেতেন। তবে এ মতের সাথে একমত নন এমনও অনেকে আছেন। তাদের ভাষ্য হচ্ছে, একদফা দাবি নিয়ে সরকারের আমন্ত্রণে সংলাপে গেলে সরকার হয়তো এ নিয়ে কোন কথাই বলতো না, তখন সংলাপই হতো না, সরকারের পক্ষ থেকে জোর গলায় বলা হতো একজন দ-িত ব্যক্তির মুক্তির একমাত্র দাবি নিয়ে কোন আলোচনা হতে পারে না অর্থাৎ তখন সংলাপটাই হতো না আর। সংলাপ না হওয়ার জন্য বিএনপিকে দায়ি করা হতো। এখন বিএনপি অন্তত এটুকু বলতে পারছে তারা সরকারকে বিশ্বাস করে সংলাপে গিয়েছিলো কিন্তু সরকার তাদেরকে দেয়া কোন কথাই রাখেনি, আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করে তারা নির্বাচনে গেছে কিন্তু সরকার সে নির্বাচনটাও ঠিকঠাক মতো হতে দেয়নি।
অলি আহমেদের স্বতন্ত্র উদ্যোগ
খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এবার মঞ্চ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন এলডিপি সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন করে নির্বাচন আর খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য গঠন করা হয়েছে জাতীয় মুক্তিমঞ্চ। অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে সাবেক বিএনপি নেতা মন্ত্রী অলি আহমেদ বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সাজানো ও মিথ্যা। তিনি একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী। মিথ্যা মামলায় আটক করে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। সরকারের আচরণকে তিনি প্রতিশোধ পরায়ণতার নজির বলেও উল্লেখ করেন। 
ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বিভিন্ন জনসভায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছেন। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে ঐক্যফ"ন্টের শীর্ষ নেতা হিসেবে ড. কামালের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা না থাকাটা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এ মর্মে অভিযোগ করেছেন যে, ড. কামাল হোসেন আসলেই চান না বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাক। বিশেষ করে মোহাম্মদ নাসিম সম্প্রতি ‘ড. কামাল বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছেন’ এমন বক্তব্য দেয়ার প্রেক্ষিতে ড. কামাল কেন্দ্রীক বিতর্কটা আরো জমে উঠেছে।
অবশেষে বিদেশি চাপ
খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন কবে? শিগগিরই কি? নাকি আরো দীর্ঘ হবে তার কারাবাস? এরকম অনেক প্রশ্ন এখন আলোচিত হচ্ছে। খালেদা জিয়া দেড় বছর ধরে কারাগারে। দেশের মানুষ, বিএনপির নেতা, খালেদা জিয়ার আইনজীবী এমনকি সম্ভবত: খালেদা জিয়া নিজেও ভাবেননি তাকে মাসের পর মাস কারাগারে কাটাতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে খালেদা জিয়া এরিমধ্যে অনেকদিন কারাগারে কাটিয়েছেন, তার মুক্তির বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। বিএনপি নেতারা এবং বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরা বিভিন্ন সময় বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো যতটা না আইনি বিষয় তারচে’ অনেক বেশি রাজনৈতিক বিষয়। খালেদা জিয়ার মুক্তি নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছার ওপর। আইনি লড়াইটা এখন বলা যায় অনেকটা শেষ পর্যায়ে অর্থাৎ মুক্তির দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। কিন্তু বর্তমান অবস্থার এই অগ্রগতি শুধু যে আইনি লড়াইয়ের কারণে হয়েছে এটা কেউ বিশ্বাস করছেন  না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো অনেকটাই বিদেশি পরামর্শের ভিত্তিতে নেয়া হচ্ছে। যেমন সংসদে যোগ দেয়া, একজন মাত্র নারী এমপি গ্রহণ করা, বগুড়া উপ-নির্বাচনে যোগ দেয়া, রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বিরত থাকা প্রভৃতি সিদ্ধান্তগুলোর কোনোটিই পার্টির শীর্ষ ফোরাম বা স্থায়ী কমিটির নয়। সবগুলোই লন্ডন থেকে তারেক রহমানের। কিন্তু যতোটা জানা যায়, তারেক রহমানও নিজে থেকে এসব সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না এগুলোতে পুরোপুরিভাবে বিদেশি প্রভাব রয়েছে। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ মহল বেশ খানিকটা টেনশনে আছে এখন। বিদেশিদের সঙ্গে বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে বিএনপির সাম্প্রতিক সুসম্পর্কই সরকারি মহলের টেনশনের মূল কারণ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্য মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার যে তোড়জোড় ছিল তা এ মুহূর্তে নেই। উল্টো, তার মুক্তির প্রক্রিয়া অনেকটা এগিয়ে এসেছে। গত ১ এপ্রিল থেকে বেগম জিয়া টানা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বিএসএমএমইউতে আছেন, যা বর্তমান সরকারের একরকমের ব্যতিক্রমী আচরণই বলা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার ব্যাপারে বিদেশিদের প্রচণ্ড চাপ আছে, যা উপেক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। ভেতরের পরিস্থিতি এ মুহূতে অনেকটাই সরকারের প্রতিকূলে। বেগম খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ থেকে জেলে নেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। তিনি এখান থেকেই মুক্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৮ জুলাই ২০১৯ প্রকাশিত)