বৃহস্পতিবার, ১৮-জুলাই ২০১৯, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • তদন্তের নামে দুর্নীতি ধামাচাপা দিলো প্রাণিসম্পদ অধিদফতর
দুদকের নির্দেশ মানা হয়নি

তদন্তের নামে দুর্নীতি ধামাচাপা দিলো প্রাণিসম্পদ অধিদফতর

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৪ জুন, ২০১৯ ০৭:২৯ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) স্থাপন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার দুর্নীতি নিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই প্রতিবেদনকে অসম্পূর্ণ দাবি করে দুদকে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। দুদকে দেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে ঐঙচঊ কর্তৃক অনুমোদিত অফিশিয়াল এস্টিমেটের বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। কারণ তদন্তকারী কর্মকর্তা (আহবায়ক) অভিযুক্ত পিডির ব্যাচমেট।’
জানা যায়, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের দুর্নীতিবাজ চক্র ও ঠিকাদারের কারসাজিতে আইএলএসটি স্থাপন প্রকল্পের ৮ টি প্যাকেজ থেকে সরকারের ১৩ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। শুধু এই ৮ প্যাকেজই নয় প্রকল্পের মোট ১৯ টি প্যাকেজের প্রত্যেকটিতেই টেন্ডার ঘাপলা হয়েছে। কোটি কোটি টাকার এই দুর্নীতি-জালিয়াতির ঘটনা তদন্তের দাবি জানিয়ে ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইদ্রিস কনস্ট্রাকশনের মালিক মো. ইদ্রিস আলী। তার ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১২ মার্চ আইএলএসটি প্রকল্পের পরিচালক ডা. মোঃ হায়দার আলীর বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগ তদন্তপূর্বক প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। দুদকের পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. আব্দুল আওয়াল ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে এই প্রতিবেদন চেয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালককে চিঠি দেন। দুদকের ওই চিঠির প্রেক্ষিতে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সে প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি চলতি বছরের ৪ এপ্রিল ডিজি বরাবর একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে তদন্তে যথাযথভাবে পিডির অপকর্ম তুলে ধরা হয়নি বলে দুদকে নতুন করে অভিযোগ করেছেন ইদ্রিস কনস্ট্রাকশনের মালিক। ওই অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ। তদন্তকারী কর্মকর্তা (আহবায়ক) অভিযুক্ত পিডির ব্যাচমেট হওয়ায় সুকৌশলে অনেক বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। 
দুদকের পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোহাম্মদ আব্দুল আওয়ালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চেয়ারম্যান বরাবর লেখা ওই চিঠিতে ইদ্রিস কনস্ট্রাকশনের মালিক মো. ইদ্রিস আলী বলেছেন “আমার বিগত ১৪/১/২০১৯ ইং তারিখের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাননীয় কমিশন কর্তৃক যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে জন্য কমিশনের সকল মাননীয় সদস্যদের সালাম ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার বিগত ১৩/৩/২০১৯ ইং তারিখের ৯৬৭০ সংখ্যক পত্রের প্রেক্ষিতে ডিজি প্রাণিসম্পদ অধিদফতর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সে প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি বিগত ৪/৪/২০১৯ ইং তারিখে ডিজি বরাবর যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে সেটি সম্পূর্ণ অসম্পন্ন। 
ক) তদন্ত প্রতিবেদনে ঐঙচঊ কর্তৃক অনুমোদিত অফিসিয়াল এস্টিমেটের বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। কারণ তদন্তকারী কর্মকর্তা (আহবায়ক) অভিযুক্ত পিডির ব্যাচমেট।
খ) দরপত্র আহ্বান করত: কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছিল ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে আর ডিপিপি সংশোধন করা হয়েছে ২০১৯ সালে।
গ) অভিযোগ ছিল ঐঙচঊ কর্তৃক অনুমোদিত দরের উপর অফিসিয়াল গোপনীয় দর নির্ধারণ না করে পিডি তার ইচ্ছামত দর নির্ধারণ করে ঠিকাদারের যোগসাজশে সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় করেছে। 
ঘ) ঐঙচঊ কর্তৃক অনুমোদিত দরের মধ্যে রেখে যদি দরপত্র আহ্বান করা হতো তাহলে গড়ে ২০% নিম্ন দরে ১৪টি প্যাকেজের জন্য কার্যাদেশকৃত অর্থের পরিমাণ হতো ৫৯৫৭.৬২ লাখ টাকা। কিন্তু কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে ৭২৩০.৫৫ লাখ টাকা অর্থাৎ ১২৭২.৯৩ লাখ টাকা বেশি। এছাড়া পিপিআর ২০০৬-২০০৮ ও আর্থিক বিধি অনুযায়ী ঐঙচঊ কর্তৃক অনুমোদিত দরের বেশি দর নির্ধারণ করার ক্ষমতা ক্রয়কারী তথা পিডির নেই।
ঙ) ডিপিপি সংশোধন সংক্রান্ত প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির ৩য় সভা বিগত ১৯/৭/২০১৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, প্রকল্পের অবশিষ্ট পূর্ত কাজের দরপত্র আহ্বান করার পর প্রাপ্ত প্রাক্কলিত দর ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করে ডিপিপি সংশোধনের প্রস্তাব করতে হবে। সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন হওয়ার পর কার্যাদেশ প্রদান করতে হবে। কিন্তু পিডি ডিপিপি অনুমোদিত হওয়ার অনেক পূর্বেই নিজের ইচ্ছামত দর নির্ধারণ করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরেই কার্যাদেশ প্রদান করে সরকারের প্রায় ১৩ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছেন। বিষয়টি তদন্ত কমিটি এড়িয়ে গেছে।
চ) দরপত্র আহ্বানকালীন ডিপিপিতে ১৪টি প্যাকেজের জন্য মোট অর্থের পরিমাণ ছিল ৭২৪৭.১০ লাখ টাকা। ঐঙচঊ কর্তৃক অনুমোদিত মোট দর ৭৪৪৭.০২ লাখ টাকা আর পিডি নিয়ম /বিধি বহির্ভূতভাবে অফিসিয়াল গোপনীয় দর নির্ধারণ করেছিল ৯০৫৫.৬৬ লাখ টাকা যা ঐঙচঊ কর্তৃক অুমোদিত দর অপেক্ষা ১৬ কোটি ০৮ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা বেশি। পিডি নিজে যে দর নির্ধারণ করেছিলেন সে দর তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে আলাপ করেই করেছিলেন। ফলে প্রত্যেকটি দর এমনভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ২০-২২% নি¤েœ দর প্রদান করার পরেও ঠিকাদার প্রদত্ত দর হোপ কর্তৃক অনুমোদিত দরের মধ্যে ছিল। আর পিডি যদি একে অপরের যোগসাজশে এ কাজ না করত তা হলে ঠিকাদাররা হোপ কর্তৃক অনুমোদিত দরের উপর ভিত্তি করেই দর প্রদান করত, আর সে ক্ষেত্রে সরকারের প্রায় ১৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হতো।”
“এমতাবস্থায় মহোদয় সমীপে আবেদন বিষয়টি আমলে নিয়ে এ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পুনরায় অনুরোধ জানাচ্ছি। উল্লেখ্য যে, একই পিডি পরবর্তী পর্যায়ে আহ্বানকৃত দরপত্রের ক্ষেত্রেও একই পন্থা অবলম্বন করেছে যা সম্পূর্ণ আর্থিক বিধি পরিপন্থি।” যা ইদ্রিস কনস্ট্রাকশনের চিঠিতে বলা হয়।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা ডা. মোঃ আইনুল হক ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি স্থাপন প্রকল্পের জন্য ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের সংশোধিত বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা অনুমোদন করেন। পিপিআর অনুযায়ী অনুমোদিত ক্রয় পরিকল্পনা অনুসারেই ক্রয় কার্যক্রম শেষ করার কথা। অনুমোদিত ক্রয় পরিকল্পনায় ক্রয়তব্য মালামাল/জিনিসের মূল্যও উল্লেখ থাকে। যার ওপর ভিত্তি করে ক্রয়কারী তার গোপনীয় দর নির্ধারণ করেন। সেক্ষেত্রে কোনোভাবেই গোপনীয় দর অনুমোদিত ক্রয় পরিকল্পনার বাইরে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মোঃ হায়দার আলী অনুমোদিত দরের বাইরে নিজের ইচ্ছেমত একটি দর ঠিক করে মূল্যায়ন কমিটিকে ম্যানেজ করে অনুমোদন নিয়ে কার্যাদেশ দিয়েছেন। এর ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্প পরিচালক ডা. মোঃ হায়দার আলী প্রকিউরিং এন্টিটি হওয়ায় এবং দরপত্র ইজিপিতে হওয়ায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের নির্মাণ কাজের মোট ১৯ টি প্যাকেজের প্রত্যেকটিতে তার ইচ্ছেমত দরপ্রস্তাব দেখিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্ছা দিয়েছেন। এসবক্ষেত্রে ডিপিপি বহির্ভূতভাবে খরচ করা হয়েছে যা যথযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিতও নয়।
যেমন আইএলএসটি গোপালগঞ্জের ৫ তলা বিশিষ্ট বয়েজ হোস্টেল নির্মাণ কাজের জন্য মহাপরিচালক (ডিজি) দর অনুমোদন করেছিলেন ৬ কোটি ৬৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এখানে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) গোপনীয় দর নির্ধারণ করেন ৮ কোটি ২৫ লাখ ৭ হাজার ২৪৩ টাকা। যা ডিজি অনুমোদিত দরের চেয়ে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৮৪ হাজার ২৪৩ টাকা বেশি। এই প্যাকেজটির কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদার ২২.৪৯১ শতাংশ নি¤œদরে টেন্ডার সাবমিট করে। সে অনুযায়ী ৬ কোটি ৬৯ লাখ ২৩ হাজার টাকার ২২.৪৯১ শতাংশ নিম্নদরে কার্যাদেশ হওয়ার কথা ৫ কোটি ৮ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ টাকায়। কিন্তু এই প্যাকেজে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার ৬১৬ টাকার অর্থাৎ এখানে ১ কোটি ২০ লাখ ৫৯ হাজার ৯১৯ টাকা বেশি। 
খুলনার ডুমুরিয়ায় বয়েজ হোস্টেলের জন্য ডিজি অনুমোদিত দর ছিলো ৬ কোটি ৬৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এখানে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) গোপনীয় দর নির্ধারণ করেন ৮ কোটি ২০ লাখ ৮৩ হাজার ৭১৪ টাকা। অর্থাৎ এখানোও ১ কোটি ৫১ লাখ ৬০ হাজার ৭১৪ টাকা বেশি। এ প্যাকেজে ঠিকাদার ২৪.২৩৫ শতাংশ নিম্নমূল্যে দর দিয়েছিলেন। সঠিক হিসাবে ৬ কোটি ৬৯ লাখ ২৩ হাজার টাকার ২৪.২৩৫ শতাংশ নি¤œমূল্যে ৫ কোটি ৭ লাখ ৪ হাজার ২১০ টাকার কার্যাদেশ হওয়ার কথা। কিন্তু কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে ৬ কোটি ২১ লাখ ৯১ হাজার ২৯৯ টাকার। অর্থাৎ ১ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৯ টাকা বেশিতে। 
নেত্রকোণার ৪ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য ডিজি দর অনুমোদন করেছিলেন ১১ কোটি ৬৩ লাখ ২৯ হাজার টাকার। কিন্তু পিডি গোপনীয় দর নির্ধারণ করেন ১৪ কোটি ৩১ লাখ ৬৪ হাজার ৭২১ টাকা। যা ডিজির অনুমোদিত দরের চেয়ে ২ কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার ৭২১ টাকা বেশি। 
খুলনার ডুমুরিয়ার ৪ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য ডিজি দর অনুমোদন করেছিলেন ১১ কোটি ৬৩ লাখ ২৯ হাজার টাকার। কিন্তু পিডি দর নির্ধারণ করেন ১৪ কোটি ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৭ টাকা। যা ডিজির অনুমোদিত দরের চেয়ে ২ কোটি ৮৯ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা বেশি। 
নেত্রকোণায় ৫ তলা বিশিষ্ট গার্লস হোস্টেল নির্মাণের জন্য ডিজি দর অনুমোদন করেন ৪ কোটি ২৭ লাখ ২৪ হাজার টাকা। কিন্তু পিডি দর নির্ধারণ করেছেন ৫ কোটি ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫৬ টাকা। যা ডিজির অনুমোদিত দরের চেয়ে ১ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৫৬ টাকা বেশি। 
এভাবে ডুমুরিয়া গার্লস হোস্টেলের জন্য ১ কোটি ৫ লাখ ৯০ হাজার ৯০৯ টাকা, গাইবান্ধার বয়েজ হোস্টেলের জন্য ৮৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, নেত্রকোণার ৫ তলা বিশিষ্ট বয়েজ হোস্টেলের জন্য ১ কোটি ৫১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বেশি দর নির্ধারণ করেছেন পিডি। 
এই ৮ টি প্যাকেজে সরকারের সর্বমোট ১৩ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকা বেশি খরচ হয়েছে। এভাবে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে নির্মাণ কাজের মোট ১৯ টি প্যাকেজের প্রত্যেকটিই পিডি তার ইচ্ছেমতো দর প্রস্তাব দেখিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি সাধন করেছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ডিপিপি বহির্ভূতভাবে খরচ করা হয়েছে। যা যথাযথ কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত হয়নি।
অথচ ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল অধিদফতরের পরিচালক যখন এই প্রকল্পের সংশোধিত বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা অনুমোদন দেন তখন এক্ষেত্রে ডিপিপি, পিপিআর-২০০৮ এবং আর্থিক বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে পিডিকে লিখিত নির্দেশ দিয়েছিলেন। কোন অবস্থাতেই প্রাপ্ত বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত দর নির্ধারণ করা যাবে না। বাজেট বরাদ্দের প্রত্যাশায় কোনো দর নির্ধারণ করা যাবে না এমন শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে যে কোনো আর্থিক ও অন্যান্য অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকিউরিং এন্টিটি ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলেও শর্ত উল্লেখ করেন। অথচ ওইসব শর্ত লঙ্ঘন করে অনুমোদিত এপিপি দরের বাইরে বেশি দরে প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করেছেন পিডি ডা. মোঃ হায়দার আলী।
দুদকের নির্দেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় যে তদন্তের ব্যবস্থা করেছিল সেটি ছিল নামেমাত্র। ওই তদন্তে এসব গুরুতর অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ লুটপাটের ঘটনা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। মূলত তদন্ত কমিটিই করা হয়েছিল বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে। আর এ কারণেই অভিযোগকারী ইদ্রিস কনস্ট্রাকশন এটির পুনঃতদন্ত চেয়েছে। 
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১০ জুন ২০১৯ প্রকাশিত)