সোমবার, ১৯-আগস্ট ২০১৯, ০২:২৫ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও ব্যুরোর প্রশ্রয়ে দালালচক্রের হয়রানি বাড়ছে

বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও ব্যুরোর প্রশ্রয়ে দালালচক্রের হয়রানি বাড়ছে

shershanews24.com

প্রকাশ : ১১ জুন, ২০১৯ ০৬:৩১ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: গত সপ্তায় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারমধ্যে ৪৫ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। এই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বজনহারাদের শোকের মাতম চলছে। অবৈধ পথে এরা লিবিয়া হয়ে ইতালি যাচ্ছিল। জমিজমা বিক্রি করে দালালের হাতে মোটা অংকের অর্থ তুলে দিয়েছিল স্বপ্নের ঠিকানায় যেতে। অবশেষে তারা চলে গেলো না ফেরার দেশেই। ব্যাপক হইচইয়ের প্রেক্ষিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ দালালচক্রের তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে। আরো দু’একজন হয়তো গ্রেফতার হবে। কিন্তু অবৈধ পথে কর্মী প্রেরণের প্রবণতা কি তাতে বন্ধ হবে?
এসব দালালচক্রকে প্রশ্রয় এবং সহায়তাও দিয়ে আসছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এমনকি খোদ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ব্যুরোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শুধু অবৈধ নয়, বৈধ পথে কর্মী প্রেরণেও বাংলাদেশে যে পরিমাণ ঘুষ লেনদেন ও প্রতারণা হয় তার নজির বিশ্বের অন্য কোথাও নেই। ব্যাপকহারে ঘুষ লেনদেন ও প্রতারণা প্রথার প্রচলনের কারণে বিদেশ গমনেচ্ছুরা আদতে বুঝতেই পারেন না কোনটি বৈধ আর কোনটি অবৈধ পথ। যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মী প্রেরণের চুক্তি আছে সেখানেও যেমন অবৈধ পথে কর্মী যাচ্ছে, আবার যেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি নেই ওইসব দেশের দালালরা নানা প্রক্রিয়ায় লোক পাঠাচ্ছে। এমনটি ঘটছে অহরহই এবং তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও ব্যুরোর জ্ঞাতসরেই।
সাম্প্রতিক সময়ের এমন একটি ঘটনায় জানা গেছে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায় কর্মী পাঠাতে এ পর্যন্ত কোনো ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা সই করেনি বাংলাদেশ সরকার। অথচ সেই দেশেই বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর কথা বলে লোকজনের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইউনিকর্ন এমপ্লয়মেন্ট ও ট্যুরিজম নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সি। শুধু তাই নয় অবৈধভাবে কম্বোডিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য সরকারের অনুমতি না নিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন পর্যন্ত দিয়েছে ইউনিকর্ন নামের এই এজেন্সি। অথচ বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩ এর বিধান অনুযায়ী এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগে সরকারের অনুমতি নেয়ার শর্ত এবং বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই রিক্রুটিং এজেন্সি যে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতেই কম্বোডিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে তা আরো স্পষ্ট হয়েছে ঠিকানা বদলের কারণে। এজেন্সিটির সরকার অনুমোদিত ঠিকানা রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বারিধারা উত্তর সোসাইটির বাড়ি-১/১১, রোড -১ (৪র্থ তলা)। কিন্তু পত্রিকায় দেয়া বিজ্ঞাপনে ঠিকানা দেয়া হয়েছে প্ল্যানার্স টাওয়ার (৯-১০, ১৪ তলা), ১৩/এ, সোনারগাঁও রোড, বাংলামটর, ঢাকা। অর্থাৎ বিদেশ যেতে ইচ্ছুক শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করে বাংলামটরের অফিস থেকে সটকে পড়লেও রিক্রুটিং এজেন্সিটির আসল ঠিকানা কেউ খুঁজেও পাবে না আর ধরতেও পারবে না। ইউনিকর্ন এমপ্লয়মেন্ট ও ট্যুরিজম নামে এই রিক্রুটিং এজেন্সিটি যে বিদেশগামীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে অর্থকড়ি নিয়েও অনেককে শেষ পর্যন্ত কম্বোডিয়া না পাঠানোয় তা বেরিয়ে এসেছে। এরই সূত্র ধরে প্রথমে এজেন্সিটির বৈধ ঠিকানায় অভিযান চালায় র‌্যাব। কিন্তু সেখানে এজেন্সিটির মালিক পক্ষের কোনো প্রতিনিধি বা কোনো কর্মচারীকেও খুঁজে পাননি তারা। ইউনিকর্ন এম্পøয়মেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম যে অবৈধভাবে নতুন ঠিকানায় কার্যক্রম চালাচ্ছে এই ঘটনায় তা নিশ্চিত হয় র‌্যাব। 
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনের ১৭(৪) ধারা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কোনো রিক্রুটিং এজেন্টের ঠিকানা পরিবর্তন ও কার্যক্রম পরিচালনা অবৈধ হওয়ায় গত ৬ মার্চ ইউনিকর্ন এমপ্লয়মেন্ট ও ট্যুরিজমের কার্যালয়ে অভিযান চালায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মাসুমা পারভিন। এ সময় রিক্রুটিং এজেন্সিটিকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু, শুধু জরিমানা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রাখা হয়। আইনের এই শিথিল প্রয়োগের কারণে রিক্রুটিং এজেন্সিটি সাহস পেয়ে যায় আরো অপকর্ম করার।
সূত্র জানায়, বিদেশি কর্মী পাঠানোর জন্য ইউনিকর্ন এম্পøয়মেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজমের লাইসেন্সের মেয়াদ ছিলো ২০১৩ সাল পর্যন্ত। অথচ মেয়াদ আছে কি নেই তা যাচাই বাছাই না করেই এই রিক্রুটিং এজেন্টের নামে বিএমইটির ইমিগ্রেশন উইং ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বিএমইটিকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হলেও আজ পর্যন্ত সে চিঠি পাঠানোতো দূরের কথা লেখাও হয়নি। জনশক্তি রপ্তানিখাতে যে ব্যাপক নৈরাজ্য, দুর্নীতি ও জালিয়াতি চলছে এই ঘটনা তার একটি উদাহরণ মাত্র। এ রকম অনেক ঘটনাই প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। প্রতিদিনই অসাধু রিক্রুটিং এজেন্টদের কাছে প্রতারিত হচ্ছেন বিদেশ যেতে ইচ্ছুক কর্মীরা। অনেকেই বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে মাসের পর মাস বছরের পর বছর এজেন্সিগুলোর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু বিদেশেও যাওয়া হচ্ছে না আবার টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না। তবে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করেও বহাল তবিয়তে টিকে রয়েছে অসাধু চক্রের এজেন্সিগুলো। বরং দিন দিন তাদের প্রতারণাই বেড়ে চলছে। কোনোভাবেই তাদের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে কিছু অভিযান পরিচালিত হলেও এদের প্রতারণা নির্মূলে তা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতারণায় দিশেহারা সহজ সরল বিদেশযাত্রীরা। তাদের খপ্পরে পড়ে অনেকে নিঃস্ব। মিথ্যা আশ^াস, চুক্তিপত্রে উল্লেখিত সুবিধা নিশ্চিত না করা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বিদেশ না পাঠিয়ে অর্থ আত্মসাত, চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশে কর্মী প্রেরণের মতো অপকর্ম প্রতিনিয়তই করে যাচ্ছে এসব এজেন্সি। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশ গিয়ে মানুষ চাকরি পায় না। অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটায়। পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়ায়। ধরা পড়লে জেলও খাটে। অথচ যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতারণার মাধ্যমে এসব কর্মীদের বিদেশ পাঠায় সেই রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অপরাধ প্রমাণিত হলেও সামান্য অর্থদ- করে ছেড়ে দেয়া হয়। কারাদ- দেয়া হয় না। স্থগিত বা বাতিল করা হয় না তাদের লাইসেন্স । কোনো কোনো সময় তাদের অনিয়ম দুর্নীতিতে নীরবতা অবলম্বন করছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর দৌরাত্ম্য দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
এদিকে লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোই যে শুধু প্রতারণা করছে তা নয় লাইসেন্স নেই এমন ভুয়া প্রতিষ্ঠানও প্রতারণার জাল বিছিয়েছে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য। এরকমই একটি প্রতিষ্ঠানের নাম এশিয়ান ওভারসিজ। রাজধানীর ৩১/১, পুরানা পল্টনে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে এশিয়ান ওভারসিজ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির কোনো রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ বন্ধ থাকলেও এই প্রতিষ্ঠানটি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য দালাল নিয়োগ করেছে এজেন্সিটি। দালালদের মাধ্যমে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি। খবর পেয়ে গত ১৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রুমানা রহমান শম্পা। ওই আদালতে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা হয় ১১০ টি পাসপোর্ট। কিন্তু কারাদ- বা অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলাও দায়ের হয়নি। 
কেন এজেন্সিগুলোকে কারাদ-ের পরিবর্তে শুধু জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রুমানা রহমান শম্পা শীর্ষ কাগজকে বলেন, আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেই। যখন যে পরিস্থিতিতে যা উচিত তাই করি। একই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ম্যাজিস্ট্র্রেটের দায়িত্বপালনকারী আরেক উপসচিব ড. মাসুমা পারভিন। জরিমানার পরিবর্তে কারাদ- বা উভয় দ- না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি আইনের বই পড়ার উপদেশ দেন। যদিও আইনে এ ধরনের অপরাধের দায়ে কারাদন্ড দেয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু, তিনি এ প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান।
প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে সোনার বাংলা কৃষি খামার নামক এজেন্সিটির বিরুদ্ধে। আলজেরিয়ায় পোশাক শ্রমিক পাঠাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এ পর্যন্ত ৭০ জন কর্মীকে এজেন্সিটি আলজেরিয়া পাঠিয়েছে। আরও ২’শ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। কর্মীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। এদের থাকা খাওয়া ও ওভারটাইম সুবিধাসহ মাসিক ২৮ হাজার টাকা বেতন দেয়ার কথা থাকলেও মাসের পর মাস চাকরি করে কেউ বেতন পাচ্ছেন না। কর্মীরা সেখানে অনেকটা অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছেন। দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব হলেও সে সুযোগ পাচ্ছেন না। আবার অনেকে টাকা দিয়েও যেতে পারেননি। এখন টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না। তাই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন একাধিক ব্যক্তি।
 টাকা দিয়ে ফেরতও পাচ্ছেন না আবার বিদেশও যাওয়া হচ্ছে না এমন একজন ভুক্তভোগী মো. শহিদুল। শহিদুলের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার খাসপাইলে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। শহিদুল বলেন, ময়মনসিংহের সুমন আমার বন্ধু। ৫ মাস আগে আলজেরিয়া গেছে। সে আমাকে ফোনে জানায়, আজও তারা বেতন পায়নি। দৈনিক ১১ ঘণ্টা কাজ করে। কারখানায় তারা আটকা পড়ে আছে। মাসের পর মাস বাইরে যেতে পারছে না। আমিও সোনার বাংলার কৃষি খামার নামক এজেন্সিটির সঙ্গে ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় আলজেরিয়া যেতে চুক্তিবদ্ধ হই। ২ মাসের মধ্যে পাঠানোর কথা বলে প্রতিষ্ঠানটি আমার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়েছে । ১ বছর গড়িয়ে গেছে অথচ বিদেশও হয়নি টাকাও ফেরত দেয়নি। তাই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এ প্রসঙ্গে সোনার বাংলা কৃষি খামারের প্রতিনিধি মো. রিয়াজুল হাসান রিয়াজ বলেন, আমরা বৈধভাবে বিদেশে কর্মী প্রেরণ করি। আমাদের মাধ্যমে প্রেরিত আলজেরিয়া প্রবাসীদের কেউ কেউ বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। সেখানকার কোম্পানি ৩ মাস পর পর বেতন পাঠায়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব টাকার ছাড়পত্র দিতে বিলম্ব করছে।      
কথা হয় আরেক ভুক্তভোগী মো.নাজমুলের সঙ্গে। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায়। তিনি পরমেশর্দি গ্রামের আমিনুর রহমানের ছেলে। নাজমুল বলেন,মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য এশিয়ান ওভারসিজের সাথে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হই। এজন্য পাসপোর্টসহ ১০ হাজার টাকাও এজেন্সির প্রতিনিধিকে দেই। ৩ মাসের মধ্যে যাওয়ার কথা ছিল। এখন এশিয়ান ওভারসিজের প্রতারণার দায়ে আমার পাসপোর্ট জব্দ হয়। এই ঘটনা আমার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নকে চুরমার করে দিল।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২০ মে ২০১৯ প্রকাশিত)