সোমবার, ১৭-জুন ২০১৯, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • কারসাজি করে অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে কর্ণফুলী বিদ্যুৎকেন্দ্র মেরামত কাজ দেয়া হলো

কারসাজি করে অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে কর্ণফুলী বিদ্যুৎকেন্দ্র মেরামত কাজ দেয়া হলো

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ২৭ মে, ২০১৯ ০৫:৫০ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: টেন্ডারে অনিয়ম ও দুর্নীতির বেড়াজালে ডুবতে বসেছে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। সর্বশেষ একটি বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পীলওয়ে বা সুইচ গেইট মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসনে কোন প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই পছন্দের দুটি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার স্পেসিফেকেশনে কারসাজির মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ পাইয়ে দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, প্রথমে পিডিবির পক্ষ থেকে লেভেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ নামক দেশি প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ে মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসনের বাজেটারি প্রস্তাব চাওয়া হয়। অথচ এই প্রতিষ্ঠানটি কখনো এ ধরনের কোনো কাজ করেনি। এমনকি লেভেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ এই কাজের জন্য সহযোগী হিসেবে রাশিয়ার যে প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়েছে তারাও এই কাজে অভিজ্ঞ নয়। তারপরও তাদের কাছ থেকে বাজেটারি প্রস্তাব নেয়া হয় এবং ওই বাজেটারি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে টেন্ডার স্পেসিফিকেশন তৈরি করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডার স্পেসিফিকেশনটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে এরা ছাড়া অন্য কেউ টেন্ডারে অংশ নিতে না পারে। বাস্তবে ঘটেও তাই। শুধুমাত্র এদের যৌথ একটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে এবং তাদেরকেই কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এই কর্মকাণ্ডের সাথে পিডিবি’র শীর্ষমহলসহ একটি দুর্নীতিবাজ চক্র সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। চক্রটি মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে অখ্যাত এই কোম্পানিকে স্পীলওয়ে পুনর্বাসন কাজ পাইয়ে দেয়। যাদের প্রকৃতপক্ষে ইতিপূর্বে স্পীলওয়ে পুনর্বাসনের কোন অভিজ্ঞতাই নেই। জানা গেছে, পুনর্বাসনের কাজ সম্পাদনের জন্য তাদেরকে তৃতীয় পক্ষের দারস্থ হতে হবে। লেভেন্ট ইন্ডাট্রিজ লিঃ স্পীলওয়ে পুনর্বাসনের মালামাল, যন্ত্রাংশ ইত্যাদি আমদানির জন্য ৬টি উৎপাদনকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নাম টেন্ডারে উল্লেখ করে। কিন্তু তারা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্র টেন্ডারে উপস্থাপন করতে পারে নি। যে সকল মালামাল ব্যবহার করা হবে সেগুলোর গুণগত মান নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাই কাপ্তাই বাঁধ রক্ষার একমাত্র প্রটেকশন ব্যবস্থা স্পীলওয়ের পুনর্বাসনের কাজ কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা সম্পূর্ন অনিশ্চিত।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের পর থেকে নানা কারণে আজ অবধি স্পীলওয়ের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ হয়নি। এই কাজের জন্য বেশ কয়েকবার টেন্ডার হলেও শেষ পর্যন্ত পিডিবি’র দুর্নীতিবাজ চক্রের অদৃশ্য হাতের ইশারায় তা বাস্তবায়ন হয় নি। আর বর্তমানে যে কোম্পানি দুটিকে জালিয়াতির মাধ্যমে কাজ দেয়া হয়েছে তারা আদৌ তা বাস্তবায়ন করতে পারবে কিনা তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারণ পিডিবি’র বিভিন্ন স্তরের কর্তা-ব্যক্তিদের সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দেন-দরবার না হওয়ায় বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ইতিপূর্বে স্পীলওয়ের টেন্ডার বাতিলের নজির আছে। 
জানা যায়, ১৯৯৫-৯৬ সালে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-১/২ এর প্রথম পুনর্বাসন কাজ সম্পন্ন হয়। পর্যায়ক্রমে ইউনিট-৩ বিগত ২০০৮-১২ সালে, ইউনিট-৪/৫ বিগত ২০১০-১১ সালে মেরামত করা হয়। চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো ইউনিট-১/২ এর পুনর্বাসন ও মেরামতের কাজ চলছে। প্রত্যেকবারই ইউনিটগুলো পুনর্বাসনের সময় স্পীলওয়ে মেরামতের কাজ অন্তর্ভূক্ত থাকে। কিন্তু এই পর্যন্ত একবারও স্পীলওয়ে পুনর্বাসনের কাজ হয়নি। অথচ কাপ্তাই বাঁধ রক্ষার একমাত্র প্রটেকশন হচ্ছে এই স্পীলওয়ে। নবায়নযোগ্য শক্তি দ্বারা পরিচালিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্দর নগরী চট্টগ্রাম হতে ৫০ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত। ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি এবং ইউতাহ ইন্টারন্যাশানাল ইনকর্পোরেটরের তত্ত্বাবধানে ১৯৫৬ সালে এ বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের শুরুতে স্পীলওয়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। তারপর পর্যায়ক্রমে বাঁধ নির্মাণ কাজ, ইউনিট ১/২ নির্মাণ কাজ, ১৩২কেভি সুইচ ইয়ার্ডের নির্মাণ কাজ ও ইউনিট-৩ এর আংশিক নির্মাণ কাজ ইত্যাদি শেষে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ১৯৬২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে ইউনিট-৩ এবং ১৯৮৮ সালে ইউনিট- ৪/৫ চালু করা হয়। মাটি দিয়ে নির্মিত ৬৭০.৬ মিটার দীর্ঘ এবং ৪৫.৭ মিটার উচু এই বাঁধটির সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। এর বেশি পরিমাণ পানি জমা হলে বাঁধটি ভেঙ্গে যাবে। তাই বাঁধের সুরক্ষা এবং উজানের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৬টি জল কপাট যুক্ত ৭৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট একটি পানি নির্গমন পথ বা স্পীলওয়ে রাখা হয়। এই স্পীলওয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫,২৫,০০০ কিউসেক ফুট পানি নির্গমন করে। নির্মাণের পর থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ ৬০ বছর স্পীলওয়ে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কাঠামোগুলোর কোন রিপেয়ারিং হয় নি। ফলে তাই কাপ্তাই হৃদে কোন কারণে পানির স্তর বেড়ে গেলে তা অপসারণে বেশ জটিলতার সৃষ্টি হয়। 
সূত্র জানায়, দীর্ঘসময় ধরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পীলওয়ে এবং অন্যান্য কাঠামোগুলো মেরামত না হওয়ায় গেইটের নিচের দুই পাশে পানি লিকেজের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। তাই গেইটের রাবার সিলগুলো স্থিতিস্থাপকতা হারাচ্ছে। দীর্ঘদিন মেরামতের অভাবে গেইটের বিভিন্ন অংশ যেমন- নাট-বোল্ট, ওয়াসার, স্টীল প্লেইট, গাইড উড, গেইটের গিয়ার বক্স, ট্রান্সমিটিং শ্যাফট, রেলিং পাইপ, ওয়াটার লগ ইত্যাদি মরিচা পড়ে ও বিভিন্ন কারণে নষ্ট হতে চলেছে। স্পীলওয়ে গেইটের জন্য ব্যবহৃত মোটর কন্ট্রোল সিস্টেম ও কন্ট্রোল কিউবিক্যাল সিস্টেম যেমন- পাওয়ার ক্যাবল, অ্যামিটার, ভোল্টমিটার, কন্ট্রোল রিলে, প্রটেকশন রিলে, মেইন সিলেক্টর সুইচ ইত্যাদির অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। ফলে গেইটগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রায়শঃই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সাধারণত বর্ষাকালে নদীপথে ভেসে আসা কচুরীপানা, আগাছা ইত্যাদি স্পীলওয়ের মাধ্যমে নিষ্কাশন করা হয়। দীর্ঘদিন মেরামত না হওয়ায় বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি উজানে সৃষ্ট অতিরিক্ত পানির স্রোতের আঘাতে স্টিলিং বেসিনের রিটেইনিং ওয়াল সহ বিভিন্ন স্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। স্পীলওয়ে চ্যানেলে বসানো ক্ষয়প্রাপ্ত সিসি ব্লকগুলো দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে নিজ অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। ফলে যে কোন সময় স্পীলওয়ের পুরো কাঠামোটি ডেমেজ হয়ে যেতে পারে। যদি ডেমেজ হয় তাহলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানি রিজারভেশন বাঁধ ভেঙ্গে যাবে। ফলে কেন্দ্রটি বিকল হওয়াসহ ওই অঞ্চলে পরিবেশ বিপর্যয় নেমে আসবে।
স্পীলওয়ে পুনর্বাসনের কাজসমূহ একটি লটে ইউনিট ১/২ এবং ফোর-বে চ্যানেল অন ট্রাংকি বেসিস শিরোনামে সিঙ্গেল স্টেইজ টু এনভেলফ পদ্ধতিতে ২০১৩ সালে প্রথম আর্ন্তজাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। যার স্মারক নং- পার-৩৪৫/২০১৩। এতে একমাত্র রেসপনসিভ দরদাতা হিসেবে ভারতের মেসার্স ভায়োথ হাইড্রো প্রাইভেট লিঃ এর কারিগরি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল। পরে দাখিলকৃত দর ৬,৯২১,৭৫০.০০ মার্কিন ডলার + স্থানীয় মুদ্রায় ১,৩৭৩,৩৩,০০০.০০ টাকা মাত্র অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। যা ২৫/০৩/২০১৫ইং তারিখে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি মেরামত কাজের প্রস্তাবটি বাতিল করে। যার স্মারক নং- ২৭.০৭২.০১৪.০৬.০০.০১৯.২০০৫/১৩৩। পরে কাজটি পিপিআর-২০০৮ অনুযায়ী আর্ন্তজাতিক খোলা দরপত্র পদ্ধতিতে সম্পাদনের জন্য পিডিবির ক্রয় পরিদফতরকে বলা হয়।
মেরামতের জন্য দ্বিতীয় দফায় পিডিবির ক্রয় পরিদফতর আবারও একটি লটে ‘ইউনিট ১/২ এর পুনর্বাসন কাজ এবং স্পীলওয়ে ও ফোর-বে চ্যানেল অন ট্রাংকি বেসিস’ শিরোনামে ‘সিঙ্গেল স্টেজ সিঙ্গেল এনভেলফ’ পদ্ধতিতে ২৩/০৭/২০১৫ইং তারিখে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে। যার স্মারক নং- পার-৩৪৯/২০১৫। এতে ৪টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাড়া দিয়ে দরপত্র জমা দেয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইন্ডিয়ার মেসার্স ভায়োথ হাইড্রো প্রাঃ লিঃ,  জার্মানির ভায়োথ হাইড্রো জিএমবিএইচ এন্ড কোং কেজি, চীনের মেসার্স কনসোর্টিয়াম অব নর্থওয়েস্ট ইলেক্ট্রিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড সার্ভিসেস কোং লিঃ (এনইপিসি) এবং তানজিন রিসার্স ইনস্টিটিউট অব ইলেক্ট্রিক সাইন্স কোং লিঃ (ট্রাইড)। এদের মধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি-৪) চীনা দুই কোম্পানিকে (এনইপিসি) এবং (ট্রাইড) রেসপনসিভ দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু ১২/০১/২০১৬ইং তারিখে পিডিবির সাধারণ বোর্ড সভায় চারটি দরপত্রকে আবারো পুনঃ মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়। টিইসি-৪ কর্তৃক পুনঃ মূূল্যায়নের পর আবারো ঐ দুই চীনা প্রতিষ্ঠানের দরপত্র রেসপনসিভ বলে বিবেচিত হয়। প্রতিষ্ঠান দুটির প্রদত্ত দর ১১,২৩৭,৩৬৩.০০ মার্কিন ডলার + স্থানীয় মুদ্রায় ২১৯,৩৬৬,৪৫১.০০ টাকা + আবগারি শুল্ক/ভ্যাট ৫০,৯২৯,৪০২.৩৭ টাকা অনুমোদনের জন্য পুনঃ সুপারিশ করা হয়। 
আবারও ০৭/০৩/২০১৬ইং তারিখে সাধারণ বোর্ড সভায় দরপত্র পুনঃ মূল্যয়ন প্রতিবেদন এবং পুনর্বাসন কাজের আওতাধীন সকল বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এতে বলা হয়, দরপত্রে স্পীলওয়ে পুনর্বাসন এবং চ্যানেলের সামনের বাঁধের কাজগুলো যেমন- ইনটেক চ্যানেলে ডুবন্ত আবর্জনা, গাছপালা ইত্যাদি পরিষ্কারকরণ কাজগুলো ইউনিট ১ ও ২ এর সাথে অর্ন্তভূক্ত থাকায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশগ্রহণ করে নি। তাই বোর্ড সভায় পূর্বের দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এবং অধিক দরদাতার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য  ১)‘ইউনিট ১ ও ২ এর পুনর্বাসনের কাজ’ এবং ২)‘ স্পীলওয়ে পুনর্বাসনের কাজ, ইনটেক ও ফোর-বে চ্যানেল অন ট্রাংকি বেসিস’ নামে দুইটি আলাদা লট নির্ধারণ করা হয়। প্রথম লটের জন্য ২১,০১৫,৪০০.০০ মার্কিন ডলার ও স্থানীয় মুদ্রায় ৪৬৬,৫৫৫,০০০.০০ টাকা এবং দ্বিতীয় লটের জন্য ২,৫৬৫,০০০.০০ মার্কিন ডলার ও স্থানীয় মুদ্রায় ২০৬,৮১৫,৯৫০.০০ টাকা মূল্যের আলাদা দুটি প্রাক্কালন প্রস্তুত করে কারিগরি অনুমোদনের জন্য বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হয়। ২৫/০৫/২০১৭ ইং তারিখে বোর্ড উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।  
দুইটি লটে পুনর্বাসন কাজের জন্য পরিচালক, ক্রয় পরিদফতর, ঢাকা থেকে সিঙ্গেল স্টেইজ টু ইনভেলফ মেথড-এ ১৭/০৭/২০১৭ইং তারিখে আর্ন্তজাতিক খোলা দরপত্র আহ্বান করা হয়। যার স্মারক নং-পার-৩৩০/১(কর্ণফুলী)/২০১৭। এতে লট-১ এর কাজের জন্য একমাত্র রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান ইটালির মেসার্স আন্দ্রিজ হাইড্রো এসআরএল ইউনিপার্সোনাল এবং লট-২ এর কাজের জন্য একমাত্র রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান চীনের মেসার্স সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন লিঃ কে নির্ধারণ করা হয়। ৩১/১০/২০১৭ ইং তারিখে ফিন্যান্সিয়াল অফার খোলা হয়। একই তারিখে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি-৪) সভায় লট-১ এ উল্লেখিত পূনর্বাসন কাজের দরদাতা হিসেবে ইটালীয় কোম্পানি মেসার্স আন্দ্রিজ হাইড্রো এসআরএল ইউনিপার্সোনাল কর্তৃক প্রদত্ত দর ২৩,৬৪৩,০০০.০০ মার্কিন ডলার + ৩৭৫,৬৪১,৪০০ টাকা মাত্র গ্রহণ করা হয়। যা প্রক্কালিত মূল্য অপেক্ষা ৭.৭৯% বেশি। লট-২ এর কাজের জন্য রেসপনসিভ দরদাতা হিসেবে চীনা কোম্পানি মেসার্স সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিঃ কর্তৃক প্রদত্ত দর ২৪,৫০৭,৮৮২.০০ মার্কিন ডলার + ৮৬,৭৫৮,৬৫৭.০০ টাকা মাত্র গ্রহণ করা হয়। কারিগরি মূল্যয়ন কমিটি (টিইসি-৪) লট-১ এর দরদাতা ইটালীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পাদন এবং লট-২ এর দরদাতা চীনা কোম্পানির দর গ্রহণ না করার সুপারিশ করে। এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নথিপত্র পিডিবির পরিচালকের (ক্রয় পরিদফতরের) কাছে পাঠালে তিনি সুত্র নং-২৭.১১.০০০০.৩০৪.১৭.৩৩০.১৮ তারিখ ১৭/০১/২০১৮ইং অনুযায়ী লট-২ বাতিল করেন। অর্থাৎ আবারো তৃতীয়বারের মতো থেমে যায় স্পীলওয়ে মেরামতের কাজ।
চতুর্থবারের মতো স্পীলওয়ে পুনর্বাসনের পুনরায় দরপত্র আহ্বানের জন্য বাতিলকৃত লট-২ এর নথিপত্রের বিষয়বস্তুতে কোন সংযোজন বা বিয়োজন করা হবে কিনা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিচালক, ক্রয় পরিদফতর, কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকের নিকট পত্র পাঠান। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন লট-২ এর নথিপত্রে বর্ণিত কাজের বিবরণ বাস্তবসম্মত ও সম্পূর্ণ নয়। তাই এতে স্পীলওয়ের ১৬টি গেটের মেকানিকেল এবং ইলেকট্রিক কাজ অন্তর্ভূক্ত করার সুপারিশ করা হয়। স্পীলওয়ে সিষ্টেমের প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণসহ পুনর্বাসন কাজের জন্য আবারো উদ্যেগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এই দফায় এসে নিয়মবহির্ভূত প্রক্রিয়ায় উক্ত কাজের বাজেটারি অফারের জন্য দেশীয় অনভিজ্ঞ ও অখ্যাত প্রতিষ্ঠান মেসার্স লেভেন্ট ইন্ডাট্রিজ লিঃ ১৪৭, মতিঝিল সি/এ, সুলতান বিল্ডিং, ঢাকা-১০০০ কে এককভাবে পত্র দেয়া হয়। যার স্মারক নং-কপাবিকে/এস-৭/১৮/৬৬২, তারিখ-৩১-০৩-১৮ইং। এক্ষেত্রে লেভেন্ট কারিগরি সহযোগী হিসেবে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান ইন্টার রাও ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। যাদের স্পীলওয়ে মেরামতের বিশেষ কোন অভিজ্ঞতা নেই। লেভেন্টের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা একাধিকবার স্পীলওয়ে পরিদর্শনের জন্য কাপ্তাই যায়। তারা সম্পূর্ণ এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ঢালাই ও সিসি ব্লকের অবস্থান নিরূপণ করে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে স্পীলওয়ের তলদেশ পরীক্ষা করে গেইটের পানির নিচে থাকা বিভিন্ন অংশ, নাট-বোল্ট ওয়াসার, স্টীল ওয়্যার রোপ ইত্যাদিতে মরিচা পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় স্পীলওয়ের গেইটগুলো বাহিরে এনে ক্ষতিগ্রস্থ ও ক্ষয়প্রাপ্ত অংশগুলো ওয়েল্ডিং/গ্রাইডিং, স্যান্ড ব্লাষ্টিং এর মাধ্যমে পরিষ্কার করে মেরিন পেইন্টিং করা, নাট-বোল্ট ওয়াসার এসএস করা, রাবার সিলিং, স্টিল ওয়্যার রোপ ইত্যাদি পরিবর্তনের কথা বলা হয়। বিষয়গুলোকে আমলে এনে লেভেন্ট ইন্ডাট্রিজ লিঃ একটি প্রক্কালিত বাজেট প্রস্তাব তৈরি করে। প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৩১/০৩/২০১৮ইং তারিখে লেভেন্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাপক, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বরাবর একটি পত্র পাঠায়। যাতে প্রাক্কালিত বাজেট ধরা হয় ২৯৮,০০৯,৮৭২.০০ (ঊনত্রিশ কোটি আশি লাখ নয় হাজার আটশত বাহাত্তর)  টাকা। 
লেভেন্টের কাছ থেকে বাজেটারি অফার পাবার পর, স্পীলওয়ে পুনর্বাসনের জন্য ০৬/০১/১০১৯ইং তারিখে আর্ন্তজাতিক খোলা দরপত্রের আহ্বান করা হয়। যার স্মারক নং-২৭.১১.০০০০.৩০৪.১৯.৩৪৪.১৯। দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি তিনটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, বিউবি’র বুলেটিন, বিউবি’র ওয়েবসাইট এবং সিপিটিইউ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। দরপত্র খোলার তারিখ ছিল ২৫/০২/২০১৯ইং। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দানের পরেও এত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের দরপত্রে সাড়াদানকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান সেই লেভেন্ট ইন্ডাট্রিজ লিঃ এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ান ইন্টার রাও ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিই। যেটি ইতিপূর্বে ব্যবস্থাপক, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুরোধে স্পীলওয়ে পুনর্বাসন কাজের বাজেটারি অফার প্রদান করে। পিডিবির অসাধু চক্রের ইচ্ছায় টেন্ডার স্পেসিপিকশনে এমন কারসাজি করা হয় যাতে লেভেন্ট ইন্ডাট্রিজ ছাড়া অন্য কোম্পানি ছাড়া অন্য কেউ দরপত্রে অংশ নিতে না পারে। ফলও হয়েছে তাই। এই টেন্ডারে একমাত্র দরদাতা প্রতিষ্ঠান ছিল লেভেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ। অর্থাৎ টেন্ডার স্পেসিফেকেশনের কারসাজির মাধ্যমে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি স্পীলওয়ে পুনর্বাসন কাজ বাগিয়ে নেয়। এতে  পিডিবির শীর্ষ মহলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জড়িত বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। 
জানা গেছে গত ১৯/০৩/২০১৯ইং তারিখে টেকনিকেল সাব-কমিটির (টিএসসি) সভায় লেভেন্ট ইন্ডাট্রিজ লিঃ কে কারিগরি মূল্যায়নে সর্বনিম্ন রেসপনসিভ দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করে। যার দর ২৯৪,৬৭৮,০৮৩.২৫.০০ টাকা মাত্র। পরবর্তীতে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি-৪) সভায় টিএসসি’র মূল্যায়ন প্রতিবেদন বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয় এবং পরবর্তী সভায় বিস্তারিত আলোচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সভায় আলোচনা শেষে বিল অব কোয়ান্টিটি’স (বিওকিউ) এর সিডিউল-১.১ এর আইটেম নং-১৪ এ উল্লেখিত এসএস ও্যায়ার রোপ এর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেভেন্টের কাছ থেকে ম্যানুফ্রেকচারার অথোরাইজেশন লেটার চাওয়া হয়। সুত্র নং- ২৭.১১.০০০০.৪০১.০৩.২২৩.৩৮৮ তারিখ- ২৭/০৩/২০১৯ইং। এই প্রেক্ষিতে লেভেন্ট কোম্পানি সুত্র নং-লিল-০২৭ তারিখ ০১/০৪/১৯ইং এ টিইসি-৪ এর চেয়ারম্যানের কাছে পত্র প্রেরণ করে। ০২/০৪/১৯ইং তারিখে টিইসি-৪ সভায় ঠিকাদার কর্তৃক প্রদত্ত পত্রের উপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে লেভেন্ট ইন্ডাট্রিজ লিঃ ও ইন্টার রাও ইঞ্জিনিয়ারিং কর্তৃক দাখিলকৃত দরপত্রটি গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়। যাতে মূল্যায়িত দর ধরা হয়েছে ২,৬৪৭,৭৫৫.০০ মার্কিন ডলার + ৭১,৮৬৯,৫০০.০০ টাকা মাত্র।
কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে বলা হয়, ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ এবং তদধীন প্রণীত বিধিমালা এবং লেভেন্ট ইন্ডাট্রিজ লিঃ ও ইন্টার রাও ইঞ্জিনিয়ারিং কর্তৃক প্রদত্ত দরপত্র দলিলের বিধান ও শর্ত অনুসরণক্রমে মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং মূল্যায়ন প্রতিবেদনে প্রদত্ত সকল তথ্য ও বর্ণনা সঠিকভাবে প্রতিফলন করা হয়েছে এবং কোন গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক তথ্য বাদ দেয়া হয় নি।’ অর্থাৎ কমিটির দাবি অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেভেন্ট স্পীলওয়ে পুনর্বাসন কাজ পাওয়ার  সকল শর্ত পালন করেছে। এবং তাদের কার্যাবলী সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য প্রদান করেছে। তাই তাদের প্রদত্ত দরপত্রটি গ্রহণের জন্য কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি সুপারিশ করেছে।
কিন্তু টেন্ডারের সার্বিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পুনর্বাসন কাজ সম্পাদনের কোন নির্দিষ্ট সময় টেন্ডারে উল্লেখ নেই। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের দি এক্লোজার পিপল পিটিই লিঃ এর কাছ থেকে আনীতব্য স্টেইনলেস স্টিলের ওয়ারেন্টি মূলত ১২ মাস যা টেন্ডরে উল্লেখ আছে ১৮ মাস। ঠিকাদাররা জার্মানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বোম ক্যাবল টেকনিক জিএমবিএইচ এর কোন সমর্থনকারী নথিপত্র দেখাতে পারে নি। স্টেইনলেস স্টিলের ও্যায়ার রোপ, মেটালিক সট, মেটাল স্প্রে ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানেরও কোন সনদ দেখাতে পারে নি। যে সকল বৈদ্যুতিক মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি আনা হবে সেগুলো একেবারে নতুন, অব্যবহৃত এবং ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী কিনা তার কোনরূপ সনদ বা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত দলিল উপস্থাপনও করতে পারে নি। কাজ পরিচালনার জন্য অস্থায়ী রাস্তা নির্মাণসহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক সহযোগী বিষয়গুলো নিয়ে কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয় নি। এরকম নানা সমস্যায় জর্জরিত ও অসম্পূর্ণ দরপত্রটি পিডিবি’র দুর্নীতিবাজ রাঘববোয়ালদের হস্তক্ষেপে কারিগরি মূল্যায়ন সভায় (টিইসি-৪) অনুমোদন করা হয়। 
এখানে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, লেভেলন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লি:-এর এ ধরনের কাজে কোনো অতীত অভিজ্ঞতা নেই। তাহলে কীসের ভিত্তিতে তাদের কাছে এই কাজের বাজেটারি অফার চাওয়া হলো? দ্বিতীয়ত, লেভেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লি: যাদেরকে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছে সেই রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানেরও এ কাজে অতীত অভিজ্ঞতা নেই। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠান দু’টি পরবর্তীতে যৌথভাবে যে দরপত্র জমা দিয়েছে সেটিও অসম্পূর্ণ।
মূলত, জয়েন্ট ভেনচার কনসোর্টিয়াম অব অ্যাসোশিয়েশন (জেভিসিএ) অনুযায়ী প্রধান অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের লেভেন্ট ইন্ডাট্রিজ লিঃ চুক্তি সম্পাদন, অর্থ আদায় ও টেন্ডারের সিকিউরিটির বিষয়গুলো তদারকি করবে। অন্যদিকে সহযোগী অংশীদার হিসেবে রাশিয়ার ইন্টার রাও ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি কারিগরি, কাজের তদারকিসহ মূল পুনর্বাসন কাজগুলো পরিচালনা করবে। প্রয়োজনীয় মালামাল, বিভিন্ন আইটেম ও খুচরা যন্ত্রাংশগুলো ক্রয়ের জন্য নামকাওয়াস্তে ৬টি বিদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম টেন্ডার প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। এদের মধ্যে সিঙ্গাপুরের দি এক্লোজার পিপল পিটিই লিঃ এর কাছ থেকে স্টেইনলেস স্টিল, ট্রিল্লিবোর্গ সিঙ্গাপুর পিটিই লিঃ এর কাছ থেকে সলিড স্টিল আনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু অন্যান্য মালামাল কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমদানি করা হবে তার কোন সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই। আর উল্লেখ থাকলেও উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে লেভেন্টের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে কিনা তাও অস্পষ্ট। আর আনীতব্য মালামাল গুলো নতুন না পুরাতন, ব্যবহারযোগ্য নাকি অযোগ্য তা স্পষ্ট করে নি লেভেন্ট। তাই কাপ্তাই বাঁধের একমাত্র প্রটেকশন স্পীলওয়ে পুনর্বাসনের কাজে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশে^র অনেক দেশেই বড় বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। পানির স্রোত ব্যবহার করে এইসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। যা নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশে এত বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সম্ভব হয়নি। তাই কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যেরও অংশ হয়ে উঠেছে। পিডিবি’র এক শ্রেণির অসাধু কর্তা-ব্যক্তিদের দুর্নীতি, জুয়াচুরি ও জালিয়াতির কারণে গত ৬০ বছরেও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পীলওয়ে মেরামতের কাজ হয় নি। জরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর স্পীলওয়ের ১৬টি গেইট সহ বেশিরভাগ যন্ত্রাংশই ক্রমশ অকেজো হয়ে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ না করালে সম্পূর্ণ স্পীলওয়ে সিস্টেমটিই নষ্ট হয়ে যাবে। কাপ্তাই বাঁধ ভেঙ্গে যাবে। যার ফল হবে ভয়াবহ। কারণ বাঁধ ভেঙ্গে গেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যবস্থা যেমন নষ্ট হবে তেমনি পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে। সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে। বেশ কয়েকবার মেরামতের উদ্যেগ নিয়েও দুর্নীতিবাজদের কারণে তা সম্পাদন করা সম্ভব হয় নি। বর্তমানে যদিও মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিন্তু তার কতটুকু বাস্তবায়ন হবে অথবা আদৌ হবে কিনা তা হলফ করে বলা যাচ্ছেনা। কারণ অবৈধ প্রক্রিয়ায় কারসাজি করে স্পীলওয়ে মেরামত কাজ পাওয়ার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লেভেন্ট ইন্ডাট্রিজ লিঃ পিডিবি’র শীর্ষ মহলসহ প্রভাবশালী চক্রটিকে কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যেটি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়কে ম্যানেজ করার ক্ষমতা রাখে। তাই তারা সবসময় ধরা-ছোঁয়ার বাহিরে থাকে। তাদের অপতৎপরতায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তাই দেশের বিদ্যুৎ খাতকে বাঁচাতে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন পিডিবি’র সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৬ মে ২০১৯ প্রকাশিত)