মঙ্গলবার, ১১-ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে আ.লীগে টেনশন

Shershanews24.com

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৩:৩০ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা হয়েছে। ডান-বাম-মধ্যপন্থী-ইসলামপন্থী সব দলের নেতাদের দেখা গেছে একই মঞ্চে। বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সহচর, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেনের ডাকে সারাদিয়ে সব ভেদাভেদ ভুলে গত শনিবার মহানগর নাট্যমঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন সবাই। ‘বিতর্কিত’ জামায়াতে ইসলামী বাদে নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে ক্ষমতার বাইরে থাকা সব দলের ঐক্যবদ্ধ হওয়া দেশবাসীর মনে নতুন করে আশা ও স্বপ্ন জাগিয়েছে। কারণ, গণতন্ত্রকামী দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষই চান- বাধা বিপত্তিহীন স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে। যারা সংসদে গিয়ে জনগণের কথা বলবেন, এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও সাফল্য-সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরনের। বিনাভোটে আর কোনো এমপি হবেন না। অনির্বাচিত সংসদ দেশ শাসন করবে না। জনগণের এমন দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। যার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে গত ২২ সেপ্টেম্বরের মহানগর নাট্যমঞ্চে নাগরিক সমাবেশ থেকে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ৫ দফা দাবি আদায়ে ক্ষমতাসীনদের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। বেধে দেয়া সময়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের উদ্যোগ না নিলে আগামী ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামবে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য। এরই মধ্যে সেই কর্মসূচি নির্ধারণের কাজ চলছে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পরে বৃহৎ জোট একসঙ্গে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। জাতীয় ঐক্য জোট ক্ষমতায় গেলে ২ বছরের জন্য দেশ শাসনের দায়িত্ব ড. কামালের নেতৃত্বে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে বিএনপি। এ জন্য জাতীয় ঐক্যের পরিধি বৃদ্ধি ও বৃহত্তর জোটে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের সঙ্গে নানা ইস্যুতে আলোচনা চলছে। শুধু রাজনৈতিক দল নয়, মতামত নেয়া হচ্ছে দেশের নানা শ্রেণি পেশার মানুষেরও। যার অংশ হিসেবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন জাতীয় ঐক্যের আহ্বাক ড. কামাল হোসেন। 
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গণফোরাম সভাপতি ও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামালের নেতৃত্বে বিএনপিসহ দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল একসঙ্গে ৫ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামতে সহমত পোষণ করেছে। এই ঐক্যে এরই মধ্যে যুক্ত হয়েছে ২০ দলীয় জোটের জামায়াত ছাড়া ১৯ দল, যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা-জাসদ-নাগরিক ঐক্য, বাম মোর্চা, গণসংহতি আন্দোলনসহ অনেকে। বাম ঘরানার আরও অন্তত ৮টি দল জাতীয় ঐক্যে যুক্ত হতে যাচ্ছে। এমনকি এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে যুক্ত হতে চাচ্ছে বলে গুঞ্জন আছে। তবে এ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। 
সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বিদেশি কূটনীতিকরাও জড়িত। এমনকি প্রতিবেশী দেশও আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে ড. কামালের নেতৃত্বকে সমর্থন দিয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হচ্ছে। যদিও ভারতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের ভূমিকা নিয়ে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরাই প্রকাশ্যে অভিযোগ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। বিশেষ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার পর দৃশ্যপট অনেকটা পাল্টে গেছে। একই রাতে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বাসায় হামলার পর সুশীল সমাজও প্রকাশ্যেই জাতীয় ঐক্যের পক্ষ নিয়েছেন। সুশীল সমাজ কথা বলেছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সব দলের অংশগ্রহণে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ৫ দফা দাবিকে সমর্থন জানিয়ে। তাছাড়া নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা জাতীয় ঐক্যের পেছনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। যে কারণে নির্বাচনের আগে পদত্যাগসহ বিচার বিভাগ নিয়ে সরকারের হস্তক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরে বই প্রকাশ করেছে সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা। এসকে সিনহার লেখা ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ প্রকাশিত হওয়ার পর সরকার বিতর্কের মুখে পড়েছে। বিব্রত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ প্রসঙ্গে বলেছেন, সিনহা এ মুহূর্তে বইটি প্রকাশ না করলেও পারবেন। 
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে যেভাবে বিদায় করা হয়েছে, তা কারো কাছেই কাঙ্খিত হতে পারে না। যে কারণে তার ভেতর ক্ষোভ থাকাটাই স্বাভাবিক। সঙ্গতকারণেই তিনি যে আওয়ামী লীগ সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চান না, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর ড. ইউনূসও এক প্রকার নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। একজন নোবেল বিজয়ী ব্যক্তিকে চরমভাবে অপমান করা হয়েছে বলেও মনে করেন অনেকে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেয়া হয়েছে। তিনিও দেশে আসতে পারছেন না। এসব কারণে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াসী ও প্রগতিশীল, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. কামালের জাতীয় ঐক্যে পেছন থেকে সমর্থন যোগাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক লবিংয়ের ক্ষেত্রে তারাই মূলত মূখ্য ভূমিকা পালন করছেন বলেও গুঞ্জন আছে। এমনকি সরকারও বিষয়গুলো ভালো করেই যানে। যে কারণে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য- ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে টেনশনে ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্যও বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্যে সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারা এখন আবোলতাবোল বকছে।’
এমন প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীনরা বলছেন, ‘সরকারের পতন ঘটনাতে দুর্নীতিবাজদের ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।’ ‘জগাখিচুড়ির এই ঐক্য টিকবে না।’ ‘ডুবন্ত বিএনপিকে টেনে তুলতে জনবিচ্ছিন্ন নেতারা নতুন নাটক মঞ্চস্থ করেছে। বিলম্ব নয়, নির্বাচন ধ্বংস করতে চায় তারা।’ তবে ড. কামাল বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য জেলা, উপজেলা থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই আন্দোলন করে আমরা আমাদের দাবি আদায় করবো।’
এর আগে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলেছেন, দেশের বৃহৎ দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো জাতীয় ঐক্য হতে পারে না। জবাবে রোববার বিএনপি বলেছে, জাতীয় ঐক্যে জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এদিকে গত শনিবারের বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের আনুষ্ঠানিক যাত্রা নিয়ে রোবাবরের বেশির ভাগ জাতীয় পত্রিকা ৩ থেকে ৫ কলামে লিড নিউজ করেছে। বিপরিতে শনিবার ওবায়দুল কাদেরর নির্বাচনী সড়কযাত্রার নিউজ সিঙ্গেল ছবি দিয়ে এক-দুই কলামে ছাপা হয়েছে। এনিয়ে গণমাধ্যমের উপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। রোববার চট্টগ্রামে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় তার কণ্ঠে ফুঁটে উঠেছে সেই ক্ষোভ। 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য আওয়ামী লীগকে বড় টেনশনে ফেলে দিয়েছে। আগে ধারণা করা হয়েছিল, এমন ঐক্য গঠন সম্ভব হবে না। এর পর জাতীয় ঐক্য ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কৌশল ও নানা তৎপরতা ছিল। কিন্তু কোনো কৌশলই শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। কারণ এর পেছন একটি বড় শক্তি কাজ করছে। যেটি আওয়ামী লীগও শেষ পর্যায়ে এসে বুঝতে পেরেছে। তাই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যাপারে নমনীয় নীতি প্রদর্শন করে সরকার এ মুহূর্তে সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের মধ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের যাত্রা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কোনোভাবেই ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচন দিতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ। এ ক্ষেত্রে কোনো আপোষ হবে না বলেও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। 
যে ৫ দফা দাবিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছে, সেগুলো হলো- ১. আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। ২. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। ৩.  সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারসহ গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। ৪. নির্বাচনের একমাস আগে থেকে নির্বাচনের পর ১০ দিন পর্যন্ত মোট ৪০ দিন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। ৫. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা বাদ দিতে হবে।
রাজনৈতিক সূত্র বলছে, সরকার দাবি না মানলে দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা আছে। যা সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যে স্পষ্ট ফুঁটে উঠেছে। তবে সেটা নির্ভর করবে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের আন্দোলনের গতি-প্রকৃতির উপর। 
সুশীল সমাজের সঙ্গে বসছেন ড. কামাল হোসেন
ভোটের অধিকার আদায়ে এবার সারা দেশে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। একই সঙ্গে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণেরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এ মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে জনমত গড়ে তোলার কাজকেই অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য। গত শনিবার জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগে ‘কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন’ শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশ থেকে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী ‘বৃহত্তর ঐক্যের’ ব্যানারে আন্দোলন কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেন সরকারবিরোধী নেতারা। 
জানা গেছে, নাগরিক সমাবেশ সফলভাবে আয়োজনের পর আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন ড. কামাল হোসেন। এই সমাবেশে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসকসহ এনজিও, পেশাজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিক ও ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। সমাবেশে ঐক্য প্রক্রিয়ার ঘোষিত ৫ দফা দাবি এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে মতামত নেয়া হবে আমন্ত্রিত সুধীজনের কাছ থেকে। এরই মধ্যে মিলনায়তন বুকিং দেয়া এবং ঢাকা মেট্রোপলিট পুলিশের (ডিএমপি) কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেয়ার কাজটি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন। কীভাবে আগামীতে একটি অর্থবহ নির্বাচনের দাবি আদায় করা যায়- সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ নিয়ে কথা বলবেন। অবশ্য বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার সূচনা লগ্নে শনিবারের সমাবেশ মঞ্চেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। 
সূত্র জানায়, সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিএনপি ও অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট নেতারাও থাকবেন। গতকাল রোববার ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে এ নিয়ে বৈঠকও করেছেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা। কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে তার একটি তালিকাও তৈরি করেন তারা এ সময়। এছাড়া আন্দোলনের অংশ হিসেবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করতে চায় যুক্তফ্রন্ট। এ জনসভায় ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, যুক্তফ্রন্ট এবং সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি সিলেট, রাজশাহী এবং ময়মনসিংহে পৃথক ৩টি জনসভার আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তফ্রন্টের। অপরদিকে, সোহরাওয়ার্দীতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর আহূত বিএনপির সমাবেশেও ড. কামাল হোসেনসহ জাতীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, নাগরিক সমাবেশ থেকে দাবি আদায়ে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তুলতে ১ অক্টোবর থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় গণফোরামের ইডেন কমপ্লেক্সের কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যকে এগিয়ে নিতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণেরও সিদ্ধান্ত হয়। আন্দোলন গড়ে তোলার অংশ হিসেবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রধান ড. কামাল হোসেন। 
গণতন্ত্র পুনঃউদ্ধারে জাতীয় ঐক্য দেশবাসীর মধ্যে আশার জন্ম দিয়েছে। তাই ড. কামালের নেতৃত্বে বড় ধরনের ছাড় দিয়ে জনগণের দাবি আদায়ে বিএনপি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।  
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। এ ঐক্য একসঙ্গে আন্দোলন ও নির্বাচনেও রূপ নিতে পারে। তবে আগে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে ভোটে গিয়ে কী হবে? তিনি বলেন, বিএনপি সরকার বিরোধী অবস্থানে থাকা সবাইকে নিয়ে পথ চলতে চায়। এক্ষেত্রে যেখানে যতটুকু ছাড় দেয়া প্রয়োজন, তা দেয়া হবে। জাতীয় স্বার্থেই বিএনপি ছাড় দেবে।
শীর্ষনিউজ/এইচএস