বুধবার, ১৯-সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • বিজেএমসিতে ‘অবৈধ’ তিন উপদেষ্টা পরিচালক নিয়োগে আইন উপদেষ্টার সঙ্গেও প্রতারণা

বিজেএমসিতে ‘অবৈধ’ তিন উপদেষ্টা পরিচালক নিয়োগে আইন উপদেষ্টার সঙ্গেও প্রতারণা

Shershanews24.com

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট, ২০১৮ ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের সর্ববৃহৎ পাটপণ্য উৎপাদক ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান- বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)। আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটিতে তিনজন ‘উপদেষ্টা পরিচালক’ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রথমে তাদেরকে ‘উপদেষ্টা’ পদে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে তাদেরকে ‘উপদেষ্টা পরিচালক’ হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেই সাথে নির্বাহী ক্ষমতাও দেয়া হয় তাদের। চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগের সুনির্দিষ্ট কোনো মেয়াদও উল্লেখ করা হয়নি। যার আইনগত কোনো অধিকার নেই বিজেএমসির। উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পেয়ে এখন তারাই চালাচ্ছেন সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি। অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ওই তিনজন উপদেষ্টার দাপটে অনেকটা অতিষ্ঠ বিজেএমসির অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগে, দীর্ঘদিন একই বিভাগে পরিচালক পদে চাকরি করেছেন তারা। সেই সুবাদে মেয়াদ শেষে দাপট দেখিয়ে অবৈধ পন্থায় ‘উপদেষ্টা পরিচালক’ পদে নিয়োগের পাশাপাশি নির্বাহী ক্ষমতাও আদায় করে নিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত এই তিন কর্মকর্তা। অবশ্য বিধি বহির্ভুত এই নিয়োগের পেছনে সরকারি দফতরটির ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। এ ক্ষেত্রে একজন আইন উপদেষ্টার মতামত গ্রহণে ছলচাতুরি ও প্রতারণার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একজন যুগ্মসচিবকে বিজেএমসি’র পরিচালক পদায়ন করা হলেও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দাপটের কারণে তিনি বিজেএমসিতে যোগদান করতে পারেননি। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ওই যুগ্মসচিবের যোগদানপত্র গ্রহণ না করে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠায় এই বলে যে, বিজেএমসিতে এই দায়িত্বে উপদেষ্টা পরিচালক কাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির অর্গানোগ্রাম ও প্রবিধানমালা লঙ্ঘন করে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিজেএমসিতে নিয়োগ দেয়া হয় এই তিনজন উপদেষ্টা পরিচালক। যদিও পরিচালক পদে দায়িত্ব পালনকালে তারা লোকসান থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তাছাড়া বিজেএমসিতে এ ধরনের উপদেষ্টা পরিচালক পদে নিয়োগের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। কিন্তু বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বিজেএমসির ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ম্যানেজ করে তারা অবৈধভাবে এ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 
বিজেএমসিতে নিয়োগপ্রাপ্ত বিতর্কিত তিন উপদেষ্টা পরিচালক হলেন- একে নাজমুজ্জামান (উৎপাদন ও পাট), মো. সিরাজুল ইসলাম (বিপণন) ও বাবুল চন্দ্র রায় (গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণ)। উপদেষ্টা পরিচালক পদে দায়িত্ব পেয়ে তারা লুটপাটে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) কার্যক্রম। লোকসানে ধুঁকতে থাকা সরকারি পাটকলগুলোর অবস্থা দিনে দিনে আরও বেগতিক হচ্ছে। ঠিক মতো পাটকলগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন ভাতাও পাচ্ছেন না। অথচ অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত উপদেষ্টা পরিচালকরা ঠিকই সরকারি কোষাগারের অর্থ নির্বিঘ্নে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 
অবৈধ তিন ‘উপদেষ্টা পরিচালক’ নিয়োগ যেভাবে
সরকারি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ এ সংস্থাটিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট চলছে। সংস্থাটির তিন পরিচালক পিআরএলে যাওয়ার পরে তাদেরকে এভাবে নীতিমালা লঙ্ঘন করে উপদেষ্টা পরিচালক পদে নিয়োগের ঘটনা সেই লাগামহীন দুর্নীতির একটি নজির। তাদের সম্পূর্ণ অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগে নির্বাহী ক্ষমতার কথা উল্লেখ না থাকলেও পরে তাদেরকে সেই ক্ষমতা দিয়ে ‘উপদেষ্টা পরিচালক’ করা হয়েছে। যা রীতিমতো বিস্ময়কর।
তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনজনের মধ্যে একে নাজমুজ্জামান ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পরিচালক (উৎপাদন ও পাট) পদ থেকে পিআরএলে যান। একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর পরিচালক (বিপণন) পদ থেকে পিআরএলে যান মো. সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া পরিচালক (গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণ) পদ থেকে বাবুল চন্দ্র রায় পিআরএলে যান ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি। পিআরএলে যাওয়ার পর একসাথে তাদেরকে ‘উপদেষ্টা’ হিসেবে পাটকল করপোরেশন নিয়োগ চূড়ান্ত করে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু পিআরএলে যাওয়ার পর চুক্তিভিত্তিক উপদেষ্টা নিয়োগ পাওয়ার মাঝের সময়ও এই তিন কর্মকর্তা অফিসে নিজেদের কক্ষের দখল বজায় রেখেছিলেন বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, পিআরএলে গেলেও নিয়মিত সরকারি প্রতিষ্ঠানটির গাড়ি, টেলিফোন, মোবাইল ব্যবহারসহ সব সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করেছেন তারা। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিক এবং সরকারি কর্মচারী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। 
জানা গেছে, প্রভাবশালী সাবেক এই তিন কর্মকর্তা যাতে অতি সহজেই নিয়োগ পেতে পারেন সেরকম করেই ‘উপদেষ্টা’ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ‘অখ্যাত’ দু’টি পত্রিকায় প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ২০১৭-এর ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিজেএমসি চেয়ারম্যানের দফতরে আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। প্রার্থীদের পরের দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় বিজেএমসি চেয়ারম্যানের দফতরে সাক্ষাৎকারের জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। একই দিনে অর্থাৎ ২৩ ফেব্রুয়ারি করপোরেশনের সচিব মুহাম্মদ সালেহউদ্দীনের স্বাক্ষরে তিনজন উপদেষ্টার পৃথক নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়। আবার সেদিনই তাদের যোগদান দেখিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। নিয়োগপত্রে তাদের প্রত্যেককে ভিন্নভাবে ‘উপদেষ্টা’ হিসেবে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ সর্বসাকূল্যে ৮০ হাজার টাকা সম্মানীতে নিয়োগ করার কথা উল্লেখ আছে। উপদেষ্টা হিসেবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তারা কার্যাদি সম্পন্ন করবেন এবং চাহিদা মোতাবেক যথোপযুক্ত উপদেশ প্রদান করবেন বলে নিয়োগপত্রে বলা হয়। তবে তাদের যোগদানের পরপরই বিজেএমসি’র সচিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘পরিচালক পদে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত উপদেষ্টাগণ অস্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের কার্যাবলী সম্পাদন করবেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হলো।’ অর্থাৎ তাদেরকে শুধু উপদেষ্টা নয়, বরং প্রজ্ঞাপনে তাদেরকে পরিচালকের দায়িত্বও দেয়া হয়েছে। যে কারণে তারা নির্বাহী ক্ষমতা ভোগেরও সুযোগ পেয়ে যান। 
আইনগত মতামত নিয়ে প্রতারণা 
তিন ‘উপদেষ্টা পরিচালক’ নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগ্রহণের আগে আইন বিভাগের মতামত চাওয়া হয় বিজেএমসির ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে। গত বছরের ৯ জানুয়ারি বিজেএমসির ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ‘তিন উপদেষ্টা পরিচালক’ নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল পাঠানো হয় প্রতিষ্ঠানটির আইন বিভাগে। ্আইন বিভাগ এ ব্যাপারে মতামতের জন্য বিজেএমসির আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের কাছে পাঠায়। সেই ফাইলে আইন উপদেষ্টা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তার মতামতে বলেন, “নোট অনুচ্ছেদ ১১ থেকে ১৬ (তিন উপদেষ্টা নিয়োগ সংক্রান্ত বিজেএমসির দৌড়ঝাপ সংক্রান্ত) পর্যালোচনা করলাম।”
এর পরে বলেন, “পিও ২৭ এর ১৬ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, `A Corporation may appoint such officers, consultants, advisers, auditors and employees as it considers necessary for the efficient performance of its functions on such terms and conditions as it may determine. ’’

“অতএব, উক্ত বিধানের আলোকে বিজেএমসি প্রয়োজনবোধে করপোরেশনের স্বার্থে কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে তার পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে সুনির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরামর্শক নিয়োগ দিতে পারেন। তবে এ ধরনের নিয়োগ সাধারণত স্বল্প মেয়াদের জন্য হয় এবং তাদের দায়িত্ব কর্তব্য সুনির্দিষ্ট এবং সীমাবদ্ধ। তাদেরকে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের বিধান অত্র আইনে নেই।”
আইন উপদেষ্টা তার মতামতে আরও বলেন, “এই প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের কর্মচারী প্রবিধানমালা-১৯৯০ এর ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘অবসর গ্রহণ এবং উহার পর পুনঃনিয়োগের ব্যাপারে কোন কর্মচারী ঢ়ঁনষরপ ংবৎাধহঃং ৎবঃরৎবসবহঃ ধপঃ ১৯৭৪ এর বিধানাবলী দ্বারা পরিচালিত হইবেন।’ ওই আইনের ৫(১) ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘চাকুরী হইতে অবসরপ্রাপ্ত কোন গণকর্মচারী কোনভাবেই প্রজাতন্ত্রের অথবা কর্পোরেশনের, জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠানের বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চাকরিতে কোন প্রকারেই পুনরায় নিয়োজিত হইতে পারিবেন না।’’
“তবে ওই আইনের ৩ উপধারা অনুসারে, ‘অবসর গ্রহণের পর কোন গণকর্মচারীকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করিলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারেন।’ গণকর্মচারী (অবসর) বিধিমালা ১৯৭৫ এর ৮(১) এ বলা হয়েছে যে, ‘গণকর্মচারী অবসর আইন ১৯৭৪ এর ৫ ধারায় ৩ উপধারার অধীনে অবসর গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগের প্রতিটি প্রস্তাব সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়া এবং কার্যকর করিতে হইবে।’ ৮(২) এ বলা হয়েছে যে, ‘রাষ্ট্রপতি এই উদ্দেশ্যে সরকারি কোন আদেশ প্রদান না করিলে সেই নিয়োগের শর্তাদি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহিত পরামর্শক্রমে নির্ধারণ করিত হইবে।’ তবে এই বিষয়ে আরও সুনিশ্চিত হওয়ার জন্য এই বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়া যেতে পারে।”
কিন্তু বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) এই নিয়োগের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ করেনি। বরং প্রথম পর্যায়ে আইন উপদেষ্টার মতামত পক্ষে নিতে ব্যর্থ হয়ে ফের ফাইল পাঠানো হয় আইন বিভাগে। এখানে সুকৌশলে ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছে বিজেএমসির ব্যবস্থাপনা বিভাগ। 
দ্বিতীয় দফায় আইন বিভাগে পাঠানো ফাইলের নোটে বলা হয়েছে, বিজেএমসির ০৪/০১/২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত বোর্ডসভায় বিজেএমসিতে ‘উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। উক্ত বোর্ড সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সংস্থার আইন উপদেষ্টার নিকট থেকে পিও ২৭- ১৯৭২ এর আলোকে আইনগত মতামত গ্রহণের জন্য আইন বিভাগকে অনুরোধ করা যেতে পারে। ৩১/০১/২০১৭ তারিখে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সা. সেবা) মো. মামনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এতে স্বাক্ষর করেন। 
এই নোটের ভিত্তিতে আইন উপদেষ্টা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তার মতামতে বলেন, “নোটের অনুচ্ছেদ ২৬ পর্যালোচনা করলাম। পিও ২৭ এর ১৬ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে,  `A Corporation may appoint such officers, consultants, advisers, auditors and employees as it considers necessary for the efficient performance of its functions on such terms and conditions as it may determine.’
অতএব, উক্ত বিধানের আলোকে বিজেএমসির প্রয়োজনবোধে করপোরেশনের স্বার্থে কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে তার পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে প্রয়োজনীয় শর্তাধীনে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে।
কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, অবৈধ তিন উপদেষ্টা পরিচালক নিয়োগ দিতে গিয়ে আইনগত মতামত নিয়েও এক ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ‘উপদেষ্টা পরিচালক’ নিয়োগের পক্ষে মতামত সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়ে শুধু ‘উপদেষ্টা’ নিয়োগের পক্ষে মতামত চাওয়া হয়। এমন প্রেক্ষাপটে আইন উপদেষ্টা সুনির্দিষ্ট কাজে স্বল্প সময়ের জন্য ‘উপদেষ্টা’ নিয়োগের পক্ষে মতামত দেন। আর উপদেষ্টা কী ধরনের কাজ করতে পারবেন বা পারবেন না তা আগের মতামতে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ব্যবস্থাপনা কমিটি সেই মতামতকে অগ্রাহ্য করে নিয়োগপত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট সময় সীমা উল্লেখ না করে বে-মেয়াদি ‘উপদেষ্টা’ পদে নিয়োগ দিয়ে ওই তিনজনকে পরক্ষণেই পরিচালকের নির্বাহী ক্ষমতা দিয়েছেন। যা সব ধরনের আইন ও বিধিবিধানের লঙ্ঘন। একই সাথে প্রশাসনিক চরম অনিয়ম ও দুর্নীতিও বটে। 
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদায়ন ফেরত দিলো 
গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক মো. আজহারুল ইসলামকে বিজেএমসিতে পরিচালক পদে পদায়ন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাকে যোগদান করতে না দিয়ে ফেরত পাঠায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। গত ১৩/০৩/২০১৭ইং তারিখে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ (সংস্থাপন) অধিশাখার উপসচিব নিলুফার নাজনীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আজহারুল ইসলামের যোগদানপত্র গ্রহণ না করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, “জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৩/০২/২০১৭ তারিখের ০৫.০০.০০০০.১৩২.১৯.০০২.১৭-১৩৪ নং স্মারক সূত্রের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, মো. আজহারুল ইসলাম (পরিচিতি নং ৩৭২৩) পরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়-কে বিজেএমসিতে পরিচালক পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। যেহেতু বিজেএমসিতে দক্ষ উপদেষ্টা- পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন, সেহেতু মো. আজহারুল ইসলামের দোগদানপত্র গ্রহণ না করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নির্দেশক্রমে ফেরত প্রদান করা হলো।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বড় অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ এই তিন উপদেষ্টা পরিচালক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অন্য কর্মকর্তারা। 
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৬ আগস্ট ২০১৮ প্রকাশিত)