সোমবার, ১৫-অক্টোবর ২০১৮, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • দুর্নীতির তদন্ত ধামাচাপা দিয়ে প্রাণিসম্পদ ডিজির পদোন্নতির প্রস্তাব এসএসবিতে প্রেরণ
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে কৈফিয়ত তলব

দুর্নীতির তদন্ত ধামাচাপা দিয়ে প্রাণিসম্পদ ডিজির পদোন্নতির প্রস্তাব এসএসবিতে প্রেরণ

Shershanews24.com

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট, ২০১৮ ০৪:০৪ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজের সৌজন্য: প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ‘দুর্নীতিবাজ’ উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্বে পরিচালক, প্রশাসন এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিজি) ডা. মো. আইনুল হক। আইনুল হকের দুর্নীতির বিষয়ে দুদকের তদন্ত চলছে। ফৌজদারি মামলায়ও তিনি আসামি। সেই সাথে বিভাগীয় কর্মকাণ্ডে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের তথ্য থাকায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তারপরও এতোসব ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে আইনুল হককে পরিচালক পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য প্রস্তাব এসএসবি (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড)-এ পাঠানো হয়। কিন্তু এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) আইনুল হকের পদোন্নতির প্রস্তাব স্থগিত রেখেছে এবং তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দুর্নীতির তদন্ত ধামাচাপা দিয়ে প্রাণিসম্পদ ডিজির পদোন্নতির প্রস্তাব
পরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আইনুল হক এবং উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্বে পরিচালক) হীরেশচন্দ্র ভৌমিকের নাম পাঠানো হয় এসএসবিতে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রইছউল আলম মন্ডল এই প্রস্তাব পাঠান। এই দুই উপ-পরিচালকের কারোরই এ পদে তিন বছর মেয়াদ পূর্ণ হয়নি। তাই পদোন্নতি দিতে প্রমার্জনের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকলে তা তুলে ধরা, দুদকের ক্লিয়ারেন্স এবং চাকরি জীবনে যেকোনো ধরনের অপরাধ সংঘটনের রেকর্ড বা বিরূপ মন্তব্য থাকলে তা পদোন্নতির প্রস্তাবের সাথে তুলে ধরার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা এক্ষেত্রে মানা হয়নি। আইনুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় দুদকের তদন্ত, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চালু হওয়া অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত এবং ফৌজদারি মামলাসহ বিভাগীয় দায়িত্বপালনে নানা অনিয়মের রেকর্ড রহস্যজনক কারণে তুলে না ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রইছউল আলম মন্ডল ওই প্রস্তাবনা পাঠান এসএসবিতে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতির তথ্য ধামাচাপা দিয়ে পদোন্নতি বাগিয়ে নিতে আইনুল হক মন্ত্রণালয়কে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু এসএসবি তথা সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড আইনুল হকের নানা অপকর্ম, অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির তদন্তের তথ্য ও প্রমাণ অন্য মাধ্যম থেকে পাওয়ার পরে তার পদোন্নতির প্রস্তাব স্থগিত রাখে। সেই সাথে দুর্নীতির তদন্ত চলার বিষয়টি কেন ধামাচাপা দিয়ে পদোন্নতির প্রস্তাব পাঠানো হলো- এর কারণ জানতে চেয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে এসএসবি। তবে হীরেশচন্দ্র ভৌমিককে প্রমার্জন করে তার পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে এসএসবি সভায়। বিষয়টি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মহলে জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয় বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, হীরেশচন্দ্র ভৌমিক পরিচালক পদে পদোন্নতি পেলে আইনুল হককে অতিরিক্ত দায়িত্ব- মহাপরিচালকের (ডিজি) পদ হারাতে হবে। কারণ, অধিদফতরে একজন পরিচালক থাকা অবস্থায় কখনই উপ-পরিচালক হয়ে পরিচালকের চলতি দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ডিজির পদে থাকার সুযোগ নেই। তাছাড়া, ডিজির পদ হারোনোর সঙ্গে পরিচালকের চলতি দায়িত্বের পদও হারাতে পারেন আইনুল হক। এমন আশঙ্কায় পরিচালকের চলতি দায়িত্ব ধরে রাখতে গত কিছু দিন ধরে মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক লবিং-তদবির চালিয়েছেন আইনুল হক। অবশ্য, বর্তমানে তিনি দেশে নেই।
দুদকে অভিযুক্ত প্রাণিসম্পদ ডিজির যত অপকর্ম
উপ-পরিচালক পদেও আইনুল হক একজন জুনিয়র কর্মকর্তা। এই পদে ১৮ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ডিজির পদ বাগিয়ে নেন তিনি। ‘সৌভাগ্যবান’ কর্মকর্তা আইনুল হক ফৌজদারী মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানার তথ্য গোপন করে এর আগে উপ-পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি নিয়েছিলেন। আর উপ-পরিচালক হয়েও দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডিজির দায়িত্ব পালনের সুবাদে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে ফ্ল্যাট-বাড়িসহ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। এর মধ্যে বিলুপ্ত প্রকল্পের ১৯৮ জন কর্মচারীর নামে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ লুটপাটে আইনুল হকের জড়িত থাকার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া চাকরি জীবনের শুরু থেকেই আইনুল হক ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে তার সীমাহীন এমন অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ-বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। কিন্তু ওই তদন্তকেও ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আইনুল হক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইনুল হকের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিয়ে একটি চিঠি ইস্যু করেন দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ার। এ নির্দেশ পেয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের দুর্নীতিবাজ এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ অনুসন্ধানে নামেন দুদকের ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মেফতাহুল জান্নাত। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ওই অফিস আদেশ পাঠানো হয় দুদকের বিভাগীয় কার্যালয় থেকে। যা হাতে পেয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মেফতাহুল জান্নাত- আইনুল হকের দুর্নীতি তদন্ত শুরু করেন।
দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা-২০০৭ অনুযায়ী যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। একই সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও অবহিত করতে এ আদেশের অনুলিপি দুদকের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালককেও (অনুঃ ও তদন্ত-১) দেয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্ত ডিজি তার দুর্নীতি ধামাচাপা ও দুদকের তদন্ত ঠেকাতে উঠেপড়ে লেগেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের জুনিয়র কর্মকর্তা হয়েও অনিয়মের মাধ্যমে সংস্থাটির প্রধান পদ দখলকারী আইনুল হকের বিরুদ্ধে দুদকে আনীত অভিযোগে বলা হয়, তথ্য গোপন করে পদোন্নতিসহ উপ-পরিচালক হয়ে মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. মো. আইনুল হক।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্তের প্রক্রিয়া
ইতিপূর্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকেও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ডিজি আইনুল হকের অনিয়ম, দুর্নীতি তদন্তের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দিয়েছিল। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের একজন পরিচালকের পক্ষে আইনুল হকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওই চিঠি পাঠিয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ওই অভিযোগের পর গত বছরের ২৯ জুন তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ডা. মো. আইনুল হক (পরিচালক ও মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব) এর বিরুদ্ধে প্রশাসনকে অবজ্ঞা করে দুর্নীতির মাধ্যমে পদোন্নতি, পরিচালকের চলতি দায়িত্ব ও মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সাথে অনুমতি বিহীন দুর্নীতির অর্থে জমি, ফ্ল্যাট ক্রয় ও ভবন নির্মাণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ফৌজদারী মামলায় আদালত হতে জামিন পাওয়ার কথা গোপন রেখে তিনি চাকরি করে আসছেন। ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, এ অবস্থায় অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, শৃঙ্খলা-৩ শাখা থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সহকারী সচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিবকে দেয়া তদন্তের নির্দেশের পর মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য দুর্নীতিবাজ ডিজি সচেষ্ট হন। এতে সফলও হন তিনি। যে কারণে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবৈধভাবে ডিজির পদ দখলে রাখতে সক্ষম হন আইনুল হক। এমনকি তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো ধরনের ব্যবস্থাও নেয়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। উল্টো তাকে পদোন্নতি দিতে প্রস্তাব পাঠানো হয় এসএসবিতে।  
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি পাওয়ার আগে ডা. মো. আইনুল হক একটি ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত হন। ওই মামলায় আদালত থেকে জামিন নেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি গোপন করে পদোন্নতি নেন আইনুল হক। যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধির লঙ্ঘন এবং দুর্নীতি আইনে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধও। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরিরত অবস্থায় ফ্ল্যাটজমি ক্রয় অথবা বাড়ি নির্মাণসহ বড় ধরনের কেনাকাটার ক্ষেত্রে আয়ের উৎস কী- তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়ার বিধান থাকলেও তা মানেননি আইনুল হক। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয় এবং বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের প্রধানের দায়িত্বে থাকাকালে।
জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের বিলুপ্ত ঘাস চাষ প্রকল্পের ১৯৮ জন কর্মচারীর নামে অবৈধভাবে সরকারের কোষাগার থেকে প্রায় ৮ কোটি টাকা উত্তোলন করার সঙ্গে আইনুল হকের যোগসাজশ থাকার প্রমাণও রয়েছে। ইতিপূর্বে এক তদন্তে এ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ মিলেছে। অথচ তথ্য গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে আইনুল হকের পদোন্নতি নেয়ার চাঞ্চল্যকর অপরাধসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা মন্ত্রণালয় জানার পরও তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। বরং এতো সবের পরও মন্ত্রণালয় অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে তাকে ফের পদোন্নতির প্রস্তাব করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, আইনুল হকের শাস্তি না হলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। এতে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী তৎপরতাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৩ জুলাই ২০১৮ প্রকাশিত)