বুধবার, ২২-আগস্ট ২০১৮, ০১:২১ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • বাংলা একাডেমিতে লাগামহীন দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতা
আইন-কানুন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না ডিজি

বাংলা একাডেমিতে লাগামহীন দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতা

Shershanews24.com

প্রকাশ : ২১ জুলাই, ২০১৮ ০৯:৪৯ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজের সৌজন্য: বাংলা একাডেমিতে চলছে লাগামহীন দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতা। খোদ একাডেমির ডিজি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগসহ এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কর্মকা-ে তিনি সরকারের কোনো আইন-কানুন বা নিয়ম-নীতিরই তোয়াক্কা করছেন না। কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় না। নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয় না। লিখিত বা মৌখিক কোনো রকমের নিয়োগ পরীক্ষাই নেয়া হয় না অর্থাৎ যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই স্বেচ্ছাচারী কায়দায় পছন্দের ব্যক্তি একের পর এক সরাসরি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে তাদেরই দফায় দফায় বহাল রাখা হচ্ছে। বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে সরকারি কোষাগার থেকে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপারে শীর্ষ কাগজের পক্ষ থেকে ডিজির কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি যুক্তিযুক্ত কোনো জবাব দিতে পারেননি। শুধু নিয়োগ বাণিজ্যই নয়, একাডেমির ডিজি শামসুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে বই মেলাসহ আরও বিভিন্ন কর্মকা-ে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ২৪ মে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পান শামসুজ্জামান খান। সেই থেকে নয় বছরের বেশি সময় ধরে টানা ডিজির দায়িত্বে আছেন। দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত বাংলা একাডেমির সব কর্মকর্তা, কর্মচারী তিনি অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। বিষয়টি অবিশ্বাস্য হলেও অকপটে তিনি স্বীকারও করে নিয়েছেন। তবে এর দায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাঁধে চাপানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা করতে ভুল করেননি ডিজি শামসুজ্জামান খান। শীর্ষকাগজের প্রতিবেদকের সঙ্গে গত ৫ জুলাই মোবাইল ফোনে আলাপকালে প্রথমে তিনি দাবি করেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ৪ মাস করে অস্থায়ীভাবে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছেন। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লিখিত কোনো নির্দেশ আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, ‘এটা লিখিত নির্দেশ নয়। নিয়মিত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়। যেহেতু বৈধভাবে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না, তাই ৪ মাস করে অস্থায়ী নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি।’ কিন্তু একবার যিনি নিয়োগ পেয়েছেন তিনি এর পর সেই পদেই থেকে গেছেন। এমন চিত্র দেখা গেছে শীর্ষকাগজের হাতে পৌঁছা বাংলা একাডেমির ৩৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়েগপত্র ও তাদের বেতন সিট পর্যালোচনা করে। এতে দেখা যায়, গত বছরে বিভিন্ন পদে কমপক্ষে ৩৭ জনকে ৪ মাসের অস্থায়ীভাবে চুক্তিভিত্তিক দেখিয়ে লিখিত বা মৌখিক কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বা যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়। যা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান নিজ ক্ষমতাবলে করেছেন বলে শীর্ষকাগজের এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন। কিন্তু এটি করার ক্ষমতা আছে কিনা? এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক দাবি করেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে এই নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা তার আছে। তবে কোথায় সেই ক্ষমতা তাকে দেওয়া হয়েছে, কোন আইনে আছেÑ তা জানাতে পারেননি দুর্নীতিবাজ এই ডিজি। ডিজির দাবি, বাংলা একাডেমি একটি বড় প্রতিষ্ঠান। এখানে ৪৫৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর অর্গানোগ্রাম (নিয়োগ বিধিমালা) ও প্রবিধান প্রণয়নের কাজ চলছে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এ কাজ শুরু করেছেন বলেও দাবি করেন। প্রবিধান ও অর্গানোগ্রাম পাস হলে বৈধভাবে সব নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান ২০০৯ সাল থেকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা শামসুজ্জামান খান। তবে স্বায়াত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলা একাডেমিকে দাবি করা হলেও দীর্ঘ সাড়ে নয় বছরে কেন প্রবিধান ও অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন এবং পাস করাতে পারেনি- এর সদুত্তর পাওয়া যায়নি মহাপরিচালকের কাছ থেকে। 
অবৈধভাবে ৩৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ
শীর্ষকাগজের কাছে আসা অবৈধ নিয়োগের কিছু কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে, গত বছর ১৮ জন কর্মকর্তাসহ ৩৭ জনকে বাংলা একাডেমিতে অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিমাসে সরকারের সাড়ে ৬ লাখ টাকার বেশি লুটপাট হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন- উপপরিচালক ড. অনু হোসেন (নিয়োগ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭), উপপরিচালক অদিতি ফাল্গুনী গায়েন (নিয়োগ ২৯ অক্টোবর ২০১৭), সহপরিচালক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (নিয়োগ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭), সহকারী ব্যবস্থাপক (বাংলা একাডেমি প্রেস) মমতাজ উদ্দিন (নিয়োগ ২২ অক্টোবর ২০১৭), মেশিনম্যান (বাংলা একাডেমি প্রেস) মো. সাইফুল ইসলাম (নিয়োগ ৩০ মে ২০১৭), সম্পাদনা সহযোগী মো. আবদুল মতিন ভূঁইয়া (নিয়োগ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭), সহ-সম্পাদনা সহযোগী রাজীব কুমার সাহা (নিয়োগ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭), সহ-অফিসার আবু মো. ইকবাল (নিয়োগ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭), মেকানিক এজেএম মোকারম হোসেন (নিয়োগ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭), রিটাচার মোজাফফর হোসেন (নিয়োগ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭), প্রোগ্রাম অফিসার শেক ফয়সল আমীন, সংগ্রহক-প্রদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন (নিয়োগ ৩০ মে ২০১৭), মুদ্রণ সম্পাদক শ্রী লুম্বিনী দেওয়ান (নিয়োগ ২৫ অক্টোবর ২০১৭), নি¤œমান সহকারী-মুদ্রাক্ষরিক মো. আশিকুর রহমান (নিয়োগ ১০ অক্টোবর ২০১৭), নি¤œমান সহকারী-মুদ্রাক্ষরিক মো. গোলাম সারোয়ার পাটোয়ারী (নিয়োগ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭), ক্রয়-বিক্রয় ও ভা-ার অফিসার মোহাম্মদ নোমান (নিয়োগ ২০ মার্চ ২০১৭), অনুবাদক ফারহানা শিরিন (নিয়োগ ২০ নভেম্বর ২০১৭), আলোকচিত্র শিল্পী মো. আনিসুর রহমান লয়েট (নিয়োগ ০৩ আগস্ট ২০১৭), মুদ্রণ সম্পাদক মোছা. নাজমা সুলতানা (নিয়োগ ২০ নভেম্বর ২০১৭)। সহ-সম্পাদনা সহযোগী মো. মাইনুল ইসলাম (নিয়োগ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭), পা-ুলিপি সম্পাদক একেএম মমিনুল ইসলাম, সহকারী সম্পাদক রেহানা পারভীন, সহগ্রন্থাগারিক মুহাম্মদ সানাউল্লাহ (নিয়োগ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭), লিফটম্যান জাহিদুল ইসলাম। 
অবৈধভাবে অন্য নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন, অফিস সহায়ক জনি রায় (নিয়োগ ২৭ আগস্ট ২০১৭), সুরভি রানী পাল, রেখা রানী, কৃষ্ণ রায়, বিপুল রায় (নিয়োগ ০২ অক্টোবর ২০১৭), মো. সেলিম (নিয়োগ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭), মো. নাসির উদ্দিন (নিয়োগ ৩০ মে ২০১৭), মো. মাহমুদুর হাসান (নিয়োগ ২৭ আগস্ট ২০১৭), ও মোছা. হাসনা বেগম, অফিস সহায়ক কাম মালী মো. খোরশেদ আলম, মালী কাম পরিচ্ছন্নতা কর্মী মো. জালাল মোল্যা, নিরাপত্তা প্রহরী মধু মিয়া (নিয়োগ ২৭ আগস্ট ২০১৭), মো. বাচ্চু ও মো. মামুন মিয়া (নিয়োগ ২৭ আগস্ট ২০১৭), দারোয়ান মো. আব্দুল বাতেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী আব্দুর রাজ্জাক (নিয়োগ ০২ অক্টোবর ২০১৭)। 
যা বলা আছে বাংলা একাডেমি আইনে
ইধহমষধ অপধফবসু ঙৎফরহধহপব, ১৯৭৮ সংশোধনসহ প্রণীত বাংলা একাডেমি আইন- ২০১৩ নামে (২০১৩ সানের ৩৩ নং আইন) ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। বাংলা একাডেমি আইনের ৩২ এর (১) ধারায় কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে বলা আছে, ‘সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, একাডেমি উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।’ সেই সাথে ৩২ এর (২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘একাডেমির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকুরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।’ 
এতে কোথাও বলা হয়নি, চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক নিজের ইচ্ছে মতো যখন যাকে খুশি নিয়োগ দিতে পারবেন। বরং মহাপরিচালকের নিয়োগ ও মেয়াদকালের ক্ষেত্রে আইনে ২৬ এর (৩) ধারায় বলা আছে, ‘মহাপরিচালক তাহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন : তবে শর্ত থাকে যে, একই ব্যক্তি দুই মেয়াদের অধিক নিয়োগ লাভ করিবেন না।’ মহাপরিচালকের দায়িত্ব সম্পর্কে আইনের ২৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘মহাপরিচালক একাডেমির সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি- (ক) একাডেমির কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য দায়ী থাকিবেন; (খ) একাডেমির উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়াদি ও প্রশাসনিক কার্যাবলির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা করিবেন; (গ) নির্বাহী পরিষদের সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন; (ঘ) একাডেমির কার্যাবলি এবং নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তসমূহ একাডেমির সভাপতিকে নিয়মিত অবহিত করিবেন; (ঙ) প্রতি অর্থ-বৎসরে একাডেমির কার্যক্রমের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিয়া উহা নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করিবেন; (চ) একাডেমির কার্যক্রমের বার্ষিক প্রতিবেদন নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে সাধারণ পরিষদের সভায় উপস্থাপন করিবেন; (ছ) সাধারণ পরিষদ বা নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক, সময়ে সময়ে, প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ বা দায়িত্ব পালন করিবেন; (জ) এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধানের বিধান প্রতিপালন নিশ্চিত করিবেন।’ অর্থাৎ নির্বাহী পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের সভায় গ্রহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠানের কার্যাদি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা হচ্ছে মহাপরিচালকের কাজ। তিনি নিজের ইচ্ছায় নিয়োগ বা যা খুশি তা করার অধিকার রাখেন না। বরং প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি হলে সব কিছুর জন্য পদাধিকারের কারণেই সেই দায়ও তার। অথচ তিনি কাউকে পাত্তাই দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এর চেয়ে বড় কথা হলো একজন মহাপরিচালক দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ৬ বছর এই পদে থাকার কথা আইনে আছে। অথচ শামসুজ্জামান টানা ৯ বছরের বেশি সময় একই পদে আছেন। যা বাংলা একাডেমি আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থি ও অবৈধ। কিন্তু একজন অবৈধ মহাপরিচালক গত ৯ বছরে ৪৫৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে বেশিরভাগই অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে বাংলা একাডেমিকেই কার্যত এখন একটি ‘অবৈধ’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। কারণ, এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর স্বাধীনতা পরবর্তীতে এটিকে সরকারি করা হয়। পরে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলা একাডেমি একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও কেন প্রতিষ্ঠানটি একটি অর্গানোগ্রাম ও প্রবিধান তৈরি করতে পারেনি- এ নিয়ে কোনো সদুত্তর নেই একাডেমির কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে মহাপরিচালক শামসুজ্জামানের কাছে। তাছাড়া এতবছর তাহলে কীভাবে পরিচালিত হলো বাংলা একাডেমি- তারও সদুত্তর দিতে পারেননি বর্তমান দুর্নীতিবাজ মহাপরিচালক। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগে কখনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া গণহারে অবৈধ নিয়োগের ইতিহাস নেই বাংলা একাডেমিতে। বরং শামসুজ্জামান খান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বগ্রহণের পরই কোনো ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটি, নিয়োগ বোর্ড গঠন বা কার্যনির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই মহাপরিচালক যখন যাকে খুশি নিয়োগ দিয়েছেন। এর অন্তরালে সরকারের অর্থ হরিলুটের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি। এসব নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যেরও অভিযোগ আছে। যদিও তা অস্বীকার করেছেন মহাপরিচালক।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৯ জুলাই ২০১৮ প্রকাশিত)