সোমবার, ১৫-অক্টোবর ২০১৮, ০২:১৯ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • নতুন বাজেটে ব্যাংক ‘ডাকাতদের’ বিশেষ সুবিধা, তোপের মুখে অর্থমন্ত্রী

নতুন বাজেটে ব্যাংক ‘ডাকাতদের’ বিশেষ সুবিধা, তোপের মুখে অর্থমন্ত্রী

Shershanews24.com

প্রকাশ : ২৮ জুন, ২০১৮ ০১:৩২ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজের সৌজন্য: জাতীয় সংসদে গত ৭ জুন ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত ও ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর আগে বর্তমান সরকারের শেষ বাজেট এটি। যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। যদিও এই বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে অর্থনীতিবিদদের। কারণ, বিগত ৫ বছরের কোনো বাজেটই বাস্তবায়ন হয়নি। অপরদিকে এই বাজেটে ব্যাংক লুটেরাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সংসদে কার্যকর কোনো বিরোধী দল না থাকলেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে। এছাড়া টিআইবি, এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন সংগঠন ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা ব্যাংক মালিকদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে করণীয় নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সাথে বিশৃঙ্খল ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইএমএফ-ও পরামর্শ দিয়েছে। 
এক নজরে বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
‘সমৃদ্ধ আগামী পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। দেশের ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেট থেকে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। মোট ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে (এডিপি) ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ধরা হয় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। সরকারের অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে ঋণ ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা আছে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা।
উন্নয়ন বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। পরিবহন ও যোগাযোগে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এরপরই বরাদ্দ পেয়েছে বেশি শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত-১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রস্তাবিত অনুন্নয়ন বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৪ কোটি টাকা। অনুন্নয়ন বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সরকারের সুদ পরিশোধে ১৮ শতাংশ। চলতি বাজেটে যা ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপরই বরাদ্দ পেয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত- ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে চলতি বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ কিছুটা বেশি ছিল, ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া বরাদ্দ কিছুটা কমেছে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বাজেটে আছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। পেনশন অবসর ভাতায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। 
যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে-কমছে
বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও দাম বাড়ছে এনার্জি ড্রিংক, সব ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী, সানস্ক্রিন, সানগ্লাস, আফটার শেভ লোশন, সিরামিক বাথটাব, ফিলামেন ল্যাম্প, পলিথিন, ১ হাজার থেকে ১৬শ স্কয়ার ফিট ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন ফি।
কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে- কৃষিজমির রেজিস্ট্রেশন ফি, রড, সিমেন্ট, হাইব্রিড মোটরকার, ক্যানসারের ওষুধ, টায়ার-টিউব তৈরির কাচামাল, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ।
ব্যাংক মালিকদের জন্য বাড়তি সুবিধা
বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের আরও বড় সুবিধা দিতে যাচ্ছে সরকার। তাদের বেশি মুনাফার জন্য ব্যাংকের করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংকের পাশাপাশি বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করও একই হারে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংক পরিচালকরা যখন যা চাইছেন, তাই পাচ্ছেনÑ এমন রীতি চালু হচ্ছে মনে করেন ব্যাংক খাত বিশেষজ্ঞরা। ব্যাংক মালিকদের চাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারকে বেশ কিছু নীতিনির্ধারণী পরিবর্তন আনতে হয়েছে ইতিপূর্বে। পরিবর্তন আনতে হয়েছে আইনেও। সুদের হার কমানোর আশ্বাসে ব্যাংক মালিকদের চাপে এসব সুবিধা দেওয়া হলেও কমেনি সুদ হার। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা কার্যকর হলে বাড়বে ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা। এতে ব্যাংকের পরিচালকরা আগের চেয়ে বেশি মুনাফার ভাগ পাবেন। সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে ২০১৩ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া নয়টি নতুন ব্যাংক। কারণ এসব ব্যাংক এখনো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। মুনাফা ভাগাভাগি করে নেবেন পরিচালকরা। অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ হবে। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ৪০ শতাংশ হবে। 
ব্যাংক লুটপাটে তোপের মুখে অর্থমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে কার্যকর কোনো বিরোধী দল নেই। তারপরও ব্যাংক লুটপাটকারী, ঋণের আড়ালে ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বাজেটে লুটেরাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবে সংসদে তোপের মুখে পড়তে হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে। সরকারে ও বিরোধী দলের দ্বৈত ভূমিকায় থাকা জাতীয় পার্টির অব্যাহত সমালোচনার মুখে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত ১২ জুন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার শুরুর দিনে সংসদ সদস্যরা অর্থমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেন। এর আগের দুদিনে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায়ও সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অর্থমন্ত্রীর সমালোচনায় মুখর ছিলেন।
সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় জাসদের নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকে টাকা দিয়েছেন, একবার করের ছাড়, একবার ভর্তুকি দিচ্ছেন। একটা সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিবার এ রকম করে ব্যাংককে রক্ষা করা যাবে। কিন্তু অর্থনীতি রক্ষা হবে না।’ জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নোমান বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় ডাব খেতাম, রস খেতাম। তখন বলত চুরি করেছি। আর এখন হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে, অথচ লুট বলা যাবে না। ব্যাংক কাদের টাকা দিচ্ছে? রাষ্ট্র ব্যাংক লুটকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। কেন জবাবদিহি করা হচ্ছে না? কেন এভাবে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে? লুট করেন, লুট করার সুযোগ দিচ্ছেন। শাস্তি না দিয়ে টাকা দিয়েছেন। আবারও একই অবস্থা হবে।’ একই দলের এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, ‘ব্যাংক খাতে কর্পোরেট কর আড়াই ভাগ কমানো হয়েছে। কিন্তু অন্য কর্পোরেট খাতে ৪০ শতাংশ রেখে দিয়েছেন। যে খাত ভালো করছে, সেখানে কর কমালেন না। যে খাতে লুটপাট হচ্ছে, কমালেন সেখানে!’ ব্যারিস্টার শামীম হায়দার বলেন, ‘এতবড় বাজেট বক্তৃতায় বিচার বিভাগ নিয়ে দুটি কথা বলা হয়েছে। এই বাজেট ব্যুরোক্রেটিক বাজেট। যখন এ ধরনের বাজেট হয়, তখন বিচার বিভাগের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এত বেশি বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে, যে কারণে ব্যয় বেড়ে গেছে। উন্নয়নে বরাদ্দ কমছে। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার, নাকি গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের সরকার?’
এর আগে ১০ জুন সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় এমপিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা ব্যাংক লুট ও অর্থপাচারকারীদের ধরতে না পারা এবং পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে ব্যর্থ হওয়াকে অর্থমন্ত্রীর অদক্ষতার বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেছেন। সেই সাথে ব্যাংক মালিকদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এমপিরা। এদিন শুরুতেই অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ। এরপর তার সঙ্গে সুর মেলান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (সম্প্রতি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়া) রুস্তুম আলী ফরাজী। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রুস্তুম আলী ফরাজী বলেছেন, ‘কিছু মানুষ ব্যাংকিং খাতে লুটপাট করবে, এটা হতে পারে না। ঋণ খেলাপি হবে, অর্থ পাচার করবে এই ঋণ খেলাপি অর্থ পাচারকারীদের আপনি (অর্থমন্ত্রী) ধরেন।’ রুস্তুম আলী ফরাজী আরও বলেন, ‘ব্যাংকে টাকা রাখলে পাচার হবে, মানুষ এই আতঙ্কে আছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঋণ খেলাপিরা টাকা দেশেও রাখে না, বিদেশে পাচার করে। এরা ব্যাংকের কিছু আর রাখবে না।’ প্রশাসনে অনিয়ম চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বেতন বাড়ানো হলো তারপরেও কর্মকর্তারা ঘুষ খায়। তারা বেতন নিলে ঘুষ বন্ধ করতে হবে। আর ঘুষ নিলে বেতন বন্ধ করতে হবে।’
কাজী ফিরোজ রশিদ বলেছেন, ‘সামনে নির্বাচন, নির্বাচনের আগে লুটপাটকারী ব্যাংক মালিকরা দেশে থাকবে না, তাদের খুঁজেও পাবেন না। তারা বিদেশে পালিয়ে যাবে, ইতিমধ্যে ভিসা লাগিয়ে ফেলেছে।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে যে লুটপাট হয়েছে, সেটিকে ভারতের সোমনাথ মন্দিরের লুটপাটের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তখন সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করে ২০ বিলিয়ন ডলার লুটপাট করা হয়েছিল। আর বাংলাদেশে ব্যাংক লুটপাটের আগ পর্যন্ত এতো বড় লুটপাটের ঘটনা আর ঘটেনি।’ অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, ‘ব্যাংক খেলাপি কারা? এটা কি আপনি (অর্থমন্ত্রী) জানেন না? কেন তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন না? এরা ২৪ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে, এই সমস্ত ভুয়া বাজেট দিয়ে কাজ হবে না। এই বাজেটের মধ্যে কিছু নেই। আপনি ধনিকে খুশি, গরিবকে নিঃস্ব আর ব্যাংক ডাকাতদের উৎসাহিত করেছেন এই বাজেটের মাধ্যমে। কিন্তু ব্যাংক মালিকরা আপনাদের ভোট দেবে না। ভোটের মালিক সাধারণ মানুষ।’ 
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হওয়াকে ‘ব্যাংক ডাকাতি’ বলে অভিহিত করে এই ডাকাতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)। এদিকে ব্যাংক ব্যবসায়ীদের চাপে করপোরেট কর হার কমানোর সিদ্ধান্ত অনিয়ম উসকে দেবে বলে মন্তব্য করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডি। অপরদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়াও বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনীতিবিদ প্রস্তাবিত বাজেটের নানাদিক নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। এটিকে নির্বাচনী ‘ঘুষ বাজেট’ বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।  
‘ব্যাংক ডাকাতদের’ শাস্তি চায় এফবিসিসিআই : এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেছেন, ‘একশ্রেণির লোক আছেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংকের টাকা তছরুপ করেছেন, ব্যাংকের টাকা ডাকাতি করেছেন। আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যারা ব্যবসা করতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সহায়ক ভূমিকা দেখতে চাই।’ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গত ৯ জুন মতিঝিলের ফেডারেশন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআইয়ের পর্যালোচনা তুলে ধরতে গিয়ে সংগঠনটির সভাপতি এসব কথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি ব্যাংক লুটপাটের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেন। 
ব্যাংক খাতকে আরও অনৈতিক সুবিধা দেয়া হয়েছে : নৈরাজ্য বন্ধ না করে ব্যাংক ব্যবসায়ীদের চাপে করপোরেট করহার কমানোর সিদ্ধান্ত অনিয়ম উসকে দেবে বলে মনে করে সিপিডি। গত ৮ জুন ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট পর্যালোচনা পেশকালে বেসরকারি গবেষণা সংস্থাটি এ মন্তব্য করে। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ধরে রাখা কঠিন।
ব্যাংক খাত সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় টিআইবির উদ্বেগ : উন্নয়ন পরিকল্পনার সঠিক তদারকি ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নে নজরদারি বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে টিআইবি। গত ১০ জুন এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেছেন। বাজেটে সরকারি আয় বৃদ্ধিতে বর্ধিত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর আরোপের প্রস্তাবের প্রভাব এবং সংকটাপন্ন ও অনিয়মে জর্জরিত ব্যাংক খাত সংস্কারে প্রতিশ্রুত উদ্যোগ না থাকায় বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। একই সঙ্গে বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত লোকসানি খাতের ঘাটতি পূরণে জনগণের করের টাকায় ভর্তুকি অব্যাহত রাখা ও বিশেষ কৌশলে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা-টিআইবি।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে
ব্যাংকে কর কমানোর কোনো যুক্তি নেই : প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, ব্যাংকের মুনাফার ওপর করপোরেট কর কমানোর কোনো অর্থনৈতিক যুক্তি নেই। এটি বড়লোকদের পক্ষে গেছে। ব্যাংক মালিকরা ধনী লোক, তাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া প্রশ্ন হলো, এই বাজেট অর্জিত হবে কি না। রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি বড়জোর ১৬-১৭ শতাংশ হতে পারে। কিন্তু রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কিছুতেই ৩০-৩২ শতাংশ হবে না। ব্যাংক খাতে করপোরেট হার কমানোর ফলে এই খাতে বড় অঙ্কের কর কমবে। একই অবস্থা শুল্ক খাতেও। কর নীতিতে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তাতে বাড়বে না, বরং কমতে পারে। আর ৩০ শতাংশের মতো রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশ্বব্যাংকের এই কর্মকর্তা মনে করেন, এবারের বাজেটে সেবা খাতের সংস্কারে কিছু কথা বলা হয়েছে। যেমন সড়ক নিরাপত্তা, শহর এলাকায় যানবাহন সমস্যা, পেনশন ইত্যাদি। বাজেটে এসব সম্পর্কে আইডিয়া (ধারণা) দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগের কথা বলা হয়নি। এই বাজেট থেকে সাধারণ মানুষের বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, বাজারমূল্য কেমন হবে। চালে ২৮ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। চালের দাম যাতে বেশি পড়ে না যায়, সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে হয়তো উৎপাদকের কিছুটা উপকার হবে। কিন্তু যারা বাজার থেকে চাল কিনে খান, তাদের খুব বেশি সুবিধা হবে না। এই উদ্যোগের সঙ্গে ভোক্তা ও উৎপাদকের স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে বলেও মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।
বাজেটে ‘নির্বাচনী ঘুষ বরাদ্দ’ ১৮ হাজার কোটি টাকা : পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন পক্ষকে খুশি করতে চেয়েছেন। কিন্তু এই খুশি করতে গিয়ে, ঝুঁকি না নিতে গিয়ে গভীরতর ঝুঁকিগুলো থেকে গেল। প্রস্তাবিত বাজেটকে জনতুষ্টিমূলক বলতে পারি। নির্বাচনের বছরে এটা কাম্যও বটে। বাজেটে মাদ্রাসা ও স্কুলের সংস্কারে ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটা মোট বাজেটের ৪ শতাংশ। এই বরাদ্দ মূলত এমপিদের জন্য। এটা একধরনের ‘নির্বাচনী ঘুষ’। এখানে তদারকির বিষয়টি এমপিদের হাতে। আমাদের দেশে এ ধরনের প্রকল্পে কী হয়, তা আমরা ভালো করে জানি। সাবেক এই উপদেষ্টা আরও বলেছেন, ‘অর্থমন্ত্রী অস্বস্তির সঙ্গে একটি স্বীকারোক্তি করেছেন। গত ৫-৬ বছর ধরে বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশ অবাস্তবায়িত থেকে যাচ্ছে। গত বছর ২১ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়নি। এই ধারাবাহিকতা যদি থাকে, তাহলে প্রস্তাবিত বাজেট আসলে ৩ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকার। বড় আকারের বাজেট করে কতটা লাভ হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।’ হোসেন জিল্লুরের মতে, ‘এই অবাস্তবায়নের জন্য তিন ধরনের দক্ষতার সংকট রয়ে গেছে। প্রথমটি, প্রকল্প প্রণয়নের দক্ষতার সংকট। দ্বিতীয়টি, ব্যয়ের দক্ষতার সংকট। তৃতীয়টি, বাস্তবায়নে অদক্ষতা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার কমছে। এর কারণ হলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এই জন্য যে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি দরকার, তা নেই প্রস্তাবিত বাজেটে।’ 
ব্যাংক মালিকরা যা চাইছেন তাই পাচ্ছেন : ‘প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিবারের মতো এবারও ব্যয়ের মাত্রা অনেক বেশি এবং সরকারের আয়ের সাফল্য কম। বাজেটের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনের সম্ভাবনাও কম। এককথায়, এই বাজেট বাস্তবায়ন ও রাজস্ব আদায় অসম্ভব ব্যাপার।’ এমনটাই মনে করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। ব্যাংক মালিকরা যা চাইছেন, তা-ই পাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘একমাত্র ব্যাংক খাতের জন্যই কর আড়াই শতাংশ কমানো হয়েছে। এটা কোনোভাবেই জনবান্ধব নয়। এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কমবে, খাতেরও কোনো উন্নতি হবে না।’ 
ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৩ সুপারিশ আইএমএফের 
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তিনটি পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এগুলো হচ্ছে- শক্তিশালী প্রবিধান, কঠোর নজরদারি ও সুশাসন নিশ্চিত করা। সংস্থাটি জানিয়েছে, শৃঙ্খলা না থাকায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ভালো পারফরম্যান্স করতে পারছে না। বরং অব্যাহতভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। 
গত মার্চে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার আর্টিকেল ফোর মিশন সম্পন্ন করে আইএমএফ। সেই মিশনের সার্বিক পর্যবেক্ষণ নিয়ে গত ৮ জুন সংস্থাটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা করেছে আইএমএফ। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও অস্থিরতার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। আইএমএফের প্রতিবেদনে ব্যাংক খাত ছাড়াও সরকারের রাজস্বনীতি, অর্থনীতির বিভিন্ন শক্তিশালী দিক এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 
আইএমএফ মিশনের প্রধান ডাইসাকু কিহারা বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা করছে আইএমএফ। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও অস্থিরতার ঝুঁকি রয়েছে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের দু’জনের পরিবর্তে চারজন সদস্য এবং ব্যাংক পরিচালকদের মেয়াদ ৬ বছর থেকে বাড়িয়ে ৯ বছর করা হয়েছে, যা সুশাসনের ক্ষেত্রে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়া নতুন ব্যাংক দেওয়ার উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছে আইএমএফ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণের হার ক্রমাগতভাবেই বাড়ছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় ৩০ শতাংশই খেলাপি। 
ভোটের আগেই বাড়ছে মধ্যবিত্তের ব্যয়
প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে আয় বৃদ্ধির জন্য নেওয়া পদক্ষেপের কারণে মধ্যবিত্ত শ্রেণি চাপে পড়বে। ৫টি মৌলিক চাহিদার ৩টিতেই কোনো না কোনোভাবে কর বাড়ানো হয়েছে। বিরূপ প্রভাব এরই মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে চালের পাইকারি বাজারে। বাজেট উত্থাপনের দু’দিনের মাথায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাইকারি বাজারে চাল কেজিতে ২-৩ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এসব চাল শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়েই ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে। কিন্তু বাজেটে ২৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় নির্বাচনের বছরে চালের দাম বৃদ্ধি সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে ৪৫ টাকার নিচে কোনো চাল মিলছে না। মান ভেদে ৭০ টাকা পর্যন্ত প্রতিকেজি সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে দেশে। 
বিশ্লেষকরা বলছে, পুরো বাজেটে প্রত্যক্ষ করের চেয়ে পরোক্ষ করে বেশি জোর দেয়া হয়েছে। যা ভোক্তা শ্রেণির ব্যয় বাড়াবে। বাজেটে তুলনামূলকভাবে উচ্চ আয়ের মানুষকে সুবিধা দেয়া হয়েছে। এসব কারণে ভোটের আগেই প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ অর্থনীতির সাম্যনীতির পরিপন্থি বলছেন অর্থনীতিবিদরা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, রাজনৈতিক অর্থনীতির প্রভাবে এবারের বাজেটে মধ্যবিত্তরা চাপে পড়বে। 
ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনের টাকা সংগ্রহের জন্য সম্পদশালীদের গুরুত্ব দেন। এ জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে তাদেরকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলেও মনে করেন দেবপ্রিয়। কিন্তু বিকাশমান শিক্ষিত মধ্যবিত্তের ভূমিকাকে এখনও মূল্যায়ন করেন না। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে অর্থনীতির সুষ্ঠু বিকাশ এবং শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নসহ সমাজে কাক্সিক্ষত ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে না। অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, যাদের দৈনিক আয় ১০ থেকে ৪০ ডলারের মধ্যে, তারাই মধ্যবিত্ত। তবে আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, সামাজিক মর্যাদা, মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক সুযোগ-সুবিধাকেও মানদ-ে আনতে হবে। ওই বিবেচনায় বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যা ৩ কোটির মতো। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিবছরের বাজেটেই আয় বাড়াতে হয়। আর এ আয়ের বড় অংশ দেশের ভেতর থেকেই সংগ্রহ করা হয়। ফলে বাজেটের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। এ বছরও বাজেটের আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে মধ্যবিত্তদের টার্গেট করা হয়েছে। এ কারণে ব্যক্তি শ্রেণির ন্যূনতম করসীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
সিপিডির পর্যালোচনায় বলা হয়, বাড়তি কর যা আসবে তার ২৯ শতাংশ আসবে প্রত্যক্ষ কর থেকে। ভ্যাট বা পরোক্ষ কর থেকে আসবে ৩৫ শতাংশ। এর মানে মধ্যবিত্ত, নি¤œবিত্ত ও সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়াবে। 
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৫ জুন ২০১৮ প্রকাশিত)