বুধবার, ১২-ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন

৪০তম বিসিএসের সার্কুলার ‘কোটায় আটকা’ 

Shershanews24.com

প্রকাশ : ২৮ জুন, ২০১৮ ০১:০৫ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: সাধারণত প্রতিবছর জুনের মধ্যে বিসিএসের সার্কুলার দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ৪০তম বিসিএস ক্যাডারে ২ হাজারের বেশি পদে কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য চাহিদাপত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় দেড় মাস আগে পাঠানো হয়েছে সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি)। কিন্তু কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় পিএসপি সার্কুলার দিতে পারছে না। আর সেই প্রজ্ঞাপনের ব্যাপারেও এখন পর্যন্ত কারো কাছে সুখবর নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে দেড় মাস আগে পাঠানো ৪০তম বিসিএসের চাহিদাপত্রে দুই হাজারের বেশি পদে নিয়োগের কথা আছে। চাহিদাপত্রে ৪০তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার পদ ২২৮টি, পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার ৭০টি, পররাষ্ট্র ক্যাডারে সহকারী সচিব ২৫টি, আনসার ক্যাডারে ১২, মৎস্য ক্যাডারে ৩৪৪, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারে সহকারী মহা-হিসাবরক্ষক ১৫, শিক্ষা ক্যাডারে বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাষক পদে প্রায় ১ হাজার নিয়োগের সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়। 

এছাড়া স্বাস্থ্য ক্যাডারের সহকারী সার্জন, সহকারী ডেন্টাল সার্জন, কৃষি ক্যাডারের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, সহকারী বন সংরক্ষক, ভেটেরিনারি সার্জন, সহকারী প্রকৌশলী, কর ক্যাডারের সহকারী করকমিশনার, তথ্য ক্যাডার, রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সমমানের পদ, ইকোনমিক ক্যাডারের সহকারী প্রধান, রেলওয়ে পরিবহন ও ডাক ক্যাডারে সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল পদে ৫ শতাধিক কর্মকর্তা নিয়োগের চাহিদার কথা রয়েছে।

পিএসসির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কিন্তু কোটায় আটকে আছে ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার। ১১ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ওই ঘোষণার আলোকে কোটার ব্যাপারে পরবর্তী প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে। তবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

সূত্রমতে, ৩৬তম বিসিএসের সার্কুলার দেয়া হয়েছিল ২০১৫ সালের ৩১ মে। ৩৭তম বিসিএসের সার্কুলার হয় ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। ৩৮তম বিসিএসের সার্কুলার হয় গত বছরের ২০ জুন। ৩৯তম বিশেষ বিসিএস হওয়ায় এর হিসাব আলাদা হয়। এটির সার্কুলার দেয়া হয় ৮ এপ্রিল। অবশ্য ৩৫তম বিসিএসের সার্কুলার দিতে দেরি হয়েছিল। ২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সেই সার্কুলার জারি হয়। 

এদিকে প্রতিবছর জুনের মধ্যে বিসিএসের সার্কুলার দেয়ার প্রচলন থাকলেও এবার দেরি হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। কেননা হাজার হাজার প্রার্থীর বয়স চলে যাচ্ছে। বিলম্ব করলে ওইসব প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না। 

নাম প্রকাশ না করে পিএসসির শীর্ষপর্যায়ের দুই কর্মকর্তা বলেন, কোটার বিষয়টি নিষ্পত্তি ছাড়া বিসিএসের নতুন সার্কুলার দিলে দুই ধরনের সমস্যা হতে পারে। প্রথমত: সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ফের আন্দোলনে নামতে পারে। দ্বিতীয়ত: কোন নীতির আলোকে প্রার্থী সুপারিশ করা হবে, সেটা সার্কুলার জারির সময়েই নির্ধারণ করতে হয়। বর্তমানে যে ৪টি বিসিএসের কাজ চলছে, সেগুলো কোটা সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া। তাই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর কোনো বিসিএসের সার্কুলার দিতে হলে আগেভাগেই কোটা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়া দরকার। এজন্যই পিএসসি প্রজ্ঞাপনের জন্য অপেক্ষা করছে।

কোটার কারণে এমন পরিস্থিতি হলেও খুব শিগগিরই কোটা সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিষ্পত্তি হচ্ছে না বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। কেননা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হলেও সেটি ফেরত আসেনি। এ কারণে কোটা পর্যালোচনার কাজও শুরু হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বুধবার এ তথ্য জানান। 

তবে কমিটি গঠন এবং কোটা পর্যালোচনার প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে কমপক্ষে আরও দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। 

পিএসসি কর্মকর্তারা জানান, তাদের ইচ্ছা দ্রুতই ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার দেওয়া। শুধু কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনের জন্য অপেক্ষার কারণে বিলম্ব হচ্ছে।

শীর্ষনিউজ/এইচএস