রবিবার, ১৮-আগস্ট ২০১৯, ১১:০৯ অপরাহ্ন
  • শিক্ষা
  • »
  • ডাকসুকে কেন্দ্র করে ‘নিপীড়িতদের’ এক কাতারে আসার আহ্বান

ডাকসুকে কেন্দ্র করে ‘নিপীড়িতদের’ এক কাতারে আসার আহ্বান

shershanews24.com

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন

শীর্ষকাগজ, ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন এবং প্রতিপক্ষের হাতে নিপীড়িত ছাত্র সংগঠনগুলোকে এক কাতারে আসার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবক, নাগরিক সমাজ এবং ছাত্র সংগঠনের নেতারা। শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের উদ্যোগে ‘ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ: অভিভাবক ও নাগরিকদের প্রত্যাশা ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন থেকে আমরা একটা বিষয় স্পষ্ট দেখেছি যে, দুর্নীতিকে টিকিয়ে রাখতে একটা ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে বলার চেষ্টা করছি যে আপনারা রাষ্ট্রীয় কিংবা প্রশাসনের মতো আচরণ করছেন কিংবা তাদের ভাষায় কথা বলছেন। আগে আনুগত্য চাইতে হলেও অনেক রকম কলা কৌশল করে, বিপদে ফেলে, নানাভাবে আটকিয়ে তারপর চাইতে হতো। আনুগত্য এখন নিজে থেকে দেখিয়ে গিয়ে বলতে হয়- ‘আমি আপনার অনুগত’। অর্থাৎ একজন দুর্নীতি টিকিয়ে রাখতে তার ঊর্ধ্বতনের কাছে আনুগত্য প্রকাশ করছেন। তার নিচের জনও একই কাজ করছেন। এভাবে ধারাবাহিকতায় একটা ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ঐক্য ভাঙা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন যারা আছে এটা বড় রকমের সংঘটিত শক্তি। এদের ঠেকাতে হবে। কিন্তু কীভাবে তাদের ঠেকানো হবে তা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।’
নিজ বক্তব্যে কথাসাহিত্যিক রাখাল রাহা বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি আমাদেরকে মারা হচ্ছে, এগুলো কিছু না। কারণ তারা (প্রশাসন) যেটা বলছে সেটাই সত্যি। এই যে পরিস্থিতি, এর মধ্যে আমাদের অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা যদি মনে করি যে, আমাদের ছেলে-মেয়েরা মারা যাবে না। তাদের শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে হবে, তাহলে আমাদের কথা বলতে হবে। আজ ডাকসুকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি অবস্থায় এসেছে, সরকারি দল যেভাবে চাচ্ছে ৩০ ডিসেম্বরের মতো একটা নির্বাচন করতে, সেই অবস্থা আমাদের প্রতিহত করতে হবে। যদি প্রতিহত করতে না পারি, তাহলে আজ যে হামলা ও নির্যাতন হচ্ছে, তা আমরাও ভোগ করেছি, আমাদের ছেলে-মেয়েরাও ভোগ করছে, সেটা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘অবস্থার পরিবর্তনে ছাত্রসংগঠনগুলোকে ন্যুনতম জায়গায় একত্রিত হতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই জায়গায় যদি আপনারা পৌঁছাতে পারেন, তাহলে বৃহৎ দাবিতে এগোতে পারবেন।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বিডি রহমতুল্লাহ বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যেগুলো কথা সামনে আসছে, এখানে আমি দুটি প্রস্তাবনা দেবো। এক- একে কবরের শান্তি হিসেবে গ্রহণ করা। আরেকটি হলো- তোমরা যদি নির্বাচন করে গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত হতে চাও, তাহলে একটা প্রতিরোধের বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে। আমি সোজা গেলাম, ভোট দিয়ে আসলাম- এটা আত্মসমর্পণ। কারণ ক্ষতাসীনরা কিছুতেই ডাকসু নির্বাচনে অন্য দলকে ক্ষমতায় আসতে দেবে না। তাদের কাছে এটা অস্তিত্বের বিষয়। সুতরাং একে প্রতিরোধ করতে হবে। প্রতিরোধে আরও ছাত্রদের জোগাড় করতে হবে, আরও অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। এই প্রতিরোধই পারে আগামী দিনের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে।’
ডাকসুর দাবিতে অনশন পালন করা ওয়ালিদ আশরাফ বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন খুব সুন্দরভাবে হওয়া জরুরি। শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য না, গোটা দেশের জন্য এটা একটা চ্যালেঞ্জ। এটা আমাদের জয় করতে হবে। আমরা কিন্তু সন্ত্রাসী না, আমরা আমাদের প্রগতিশীলতা দিয়ে প্রতিহত করবো। এটাই আমাদের শক্তি। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে আমাদের জাতীয় চেতনার ভিত্তিতে।’
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান অভিযোগ করেন, ‘ডাকসু নির্বাচন তথাকথিত হবে এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে বৈধতা দেওয়া হবে সাধারণ ছাত্রদেরকে নিপীড়ন করার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘আজকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি অতীতের মতো নির্বাচন করতে চায়, তাহলে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তা নিশ্চিত না করে যদি ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেই নির্বাচনের আসলে কোনও দরকার নেই। এটা তথাকথিত নির্বাচন হবে বলে আমরা মনে করি। আজকে শুধু আমাদের সংগঠন না, প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের কর্মীরাও নির্যাতিত হচ্ছেন। তাই এই ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের সবাইকে এক কাতারে আসা উচিত। যেই অন্যায়-অবিচার ক্যাম্পাসে হচ্ছে এগুলোকে রুখে দিতে হবে।’

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরু বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪টি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে মিটিং করেছে। সেখানে ১২টি ছাত্র সংগঠনই ভোট কেন্দ্র হলের বাইরে করার কথা বলেছে। যেটা ছাত্রলীগ ১৯৯৪ সালে দাবি করেছিল। কারণ তখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তারা বিরোধী দলে ছিল। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে তারা নির্বাচন হতে দেয়নি। এখন যখন সব ছাত্র সংগঠন বলছে ভোট কেন্দ্র হলের বাইরে করতে, তখন প্রশাসন ন্যুনতম বিবেচনা না করে ভোট কেন্দ্র হলে করার কথা বলেছে। ছাত্র সংসদের ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকও মতামত দিচ্ছেন। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, এটা নিয়ে তারা কি করতে পারেন। সেই প্রেক্ষাপটে আজকে যারা নির্যাতিত তাদেরকে এক কাতারে আসতে হবে।’
সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেও ডাকসু নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের প্রতিহত করা যাবে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হল তাদের দখলে, শিক্ষক, প্রশাসন সবকিছুই তাদের দখলে। তাদের রয়েছে সাঁজোয়া বাহিনী ছাত্রলীগ। ফলে এত কিছুকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। যে কারণে ধরেই নেওয়া যায় সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না। তারা আবারও ৩০ ডিসেম্বরের মতো নির্বাচন করার চেষ্টায় আছে। ফলে কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সেই বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম। এতে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, ছাত্র ফেডারেশনের (বদরুদ্দীন ওমর) কেন্দ্রীয় সভাপতি এম এম পারভেজ লেলিন প্রমুখ।
শীর্ষকাগজ/জে