মঙ্গলবার, ১১-ডিসেম্বর ২০১৮, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
  • শিক্ষা
  • »
  • তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় চবি শিক্ষক রিমান্ডে

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় চবি শিক্ষক রিমান্ডে

Shershanews24.com

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০৫:০৭ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ, চট্টগ্রাম: তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত¡ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলামকে তিনদিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। 
অপরদিকে শিক্ষক মাইদুল ইসলামের মুক্তি চেয়ে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম এস এম শহীদুল্লাহ কায়সার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে মাইদুল ইসলামকে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড শুনানিতে অংশ নেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) বিজন কুমার বড়–য়া।

বিজন কুমার বড়ুয়া বলেন, শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকর্মকর্তা। রাষ্ট্রপক্ষে আমি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করি। শেষে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 
আদালত প্রাঙ্গণে মাইদুলের মুক্তি চেয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বিচারকার্যে এর কোন প্রভাব পড়েনি। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করায় আইনশৃঙ্খলারও কোন অবনতি হয়নি। 

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে গত ২৩ জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত¡ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারায় মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সদস্য ইফতেখারুল ইসলাম।

মামলা দায়েরের পর হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন নেন শিক্ষক মাইদুল ইসলাম।

ওই জামিনের মেয়াদ শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর মাইদুল ইসলাম চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়ার পর গত ২৫ সেপ্টেম্বর এই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে স্ট্যাটাস লিখেন শিক্ষক মাইদুল ইসলাম ও আলী আল রাজী। এ নিয়ে দুই শিক্ষককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। হুমকির মুখে দুই শিক্ষক ক্যা¤পাসে যাওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হন। এমনকি মাইদুল ইসলাম চবি ক্যা¤পাসের বাসাও ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।

শিক্ষক আলী আল রাজী যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনিসহ শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে গত ১৭ জুলাই বিশ^বিদ্যালয় থেকে চাকুরিচ্যুত করার দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু।

শিক্ষক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বাদী ইফতেখারুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর টিপুর অনুসারী হিসেবে ক্যা¤পাসে পরিচিত।

শিক্ষক মাইদুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থী রাশেদুল আলম টিটু বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে মত দেওয়ায় শিক্ষক মাইদুল ইসলাম ও আলী আল রাজীকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা তার প্রতিবাদ করছি।
শীর্ষ নিউজ/এন