সোমবার, ১৬-সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন

সবজির দাম চড়া, পেঁয়াজ-রসুনে ঝাঁজ

shershanews24.com

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট, ২০১৯ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: বাজারে পর্যাপ্ত সরবারহ থাকার পরও কোনোভাবেই কমছে না সবজির দর। ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতার সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে দাম বেশি নিচ্ছে। অথচ সব সবজিই বাজারে রয়েছে। এমনকী শীতকালীন আগাম সবজিও বাজারে বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। তবুও কেন ঊর্ধ্বমুখী রাজধানীর সবজির বাজার?
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর হাতিরপুল, কাঁঠালবাগান, কলাবাগান, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগর কাঁচাবাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 
ক্রেতারা বলছেন, শীতকাল না হলেও বর্তমান বাজারে রয়েছে পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ। বাঁধাকপি, ফুলকপি, গাজর, শসা, টমেটো, বেগুনসহ আরও নানান সবজি দেদারসে বিক্রি হলেও দাম কমছে না মোটেও। প্রতিদিন বেড়েই চলেছে এসবের দাম।

অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরাঞ্চলে বন্যার কারণে পাইকারি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজিসহ কাঁচা মালামালের সরবরাহ কমেছে। তাই দামও বেশি।
অন্যদিকে কয়েকসপ্তাহ ধরেই বেশ চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে আদা, রসুন ও পেঁয়াজ। তবে কিছুটা নিম্নমুখী রয়েছে মাংসের বাজার। অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও ডিমের দাম।
বাজারভেদে প্রতিকেজি টমেটো প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, গাজর ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতিকেজি পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, উস্তা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁডস ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ১২০ টাকা, কচুরছড়া ৬০ টাকা, কচুরলতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া প্রতি পিস বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কলা ২৫ থেকে ৪০ টাকা হালি, লাউ প্রতিপিস ৫০ থেকে ৮০ টাকা, জালিকুমড়া প্রতিপিস ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের শাক। প্রতি আঁটি লালশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, মুলার শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কুমড়ার শাক ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ থেকে ৩০ টাকা, কলমিশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়।
কাঁঠালবাগান বাজারের সুমন নামে এক সবজি বিক্রেতা গণমাধ্যমকে বলেন, সম্প্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা হওয়ায় সবজি মাঠের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে। পাইকারি বাজারে মালের সরবরাহ কম হওয়ায় আমাদের বাড়তি দাম দিয়ে কিনে আবার বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।
তবে তার যুক্তির সঙ্গে একমত না এ বাজারের নিয়মিত ক্রেতা জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, বন্যা এক অঞ্চলে হয়েছে। কিন্তু রাজধানীতে সবজি আসে সারাদেশ থেকে। আবার এখন শীতকাল না হলেও বাজারে শীতের সবজি রয়েছে। তবে কেন বন্যার অজুহাত, মূলত বেশি মুনাফার আশায় দাম বাড়ানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ব্যবসায়ীদের কারণেই প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম।
রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে প্রতিটি সবজিতে কেজিপ্রতি ১০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম রাখা হচ্ছে। কাঁঠালবাগান বাজারে কাঁকরোল-বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা, সেই একই সবজি হাতিরপুলে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। 
এছাড়াও কলাবাগান, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগর বাজারেও দামের একই হেরফের লক্ষ্য করা গেছে।
 
গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের বাজার স্থিতিশীল দেখা গেছে। যদিও বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেশি, তারপরও রুই-পাবদা-তেলাপিয়াসহ অন্যান্য মাছের দামে খুব বেশি পার্থক্য দেখ যায়নি। 
  
অন্যদিকে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা। দেশি রসুন প্রতিকেজি ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, ইন্ডিয়ান ১৯০ টাকা থেকে ২০০, আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, পেঁয়াজ দেশি ৫৫ থেকে ৭০ টাকা, ইন্ডিয়ান ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
শীর্ষনিউজ/এম