মঙ্গলবার, ১১-ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
  • অর্থনীতি
  • »
  • ঋণখেলাপিরা নির্লজ্জ : অর্থমন্ত্রী

ঋণখেলাপিরা নির্লজ্জ : অর্থমন্ত্রী

Shershanews24.com

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৯:১৯ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : ঋণখেলাপিরা নির্লজ্জ। তাদের মনোভাব পরিবর্তন হয়নি। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তারা ফেরত দিতে চান না। এটি খুবই দুঃখজনক।
বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে ৩০ বছর আগে একজন আমাকে বলেছিল সে ঋণ নিয়েছে, কিন্তু তা ফেরত দেবে না। কারণ ঋণটি অনেক কষ্ট করে নিয়েছেন। ঋণ নিতে কয়টি জুতা নষ্ট হয়েছে তার হিসেবেও তিনি রেখেছিলেন। ঋণগ্রহীতা বলেছিলেন, এই ঋণ আমি কোনো দিন ফেরত দেব না। এখনো সে মনোভাবই রয়ে গেছে। মন্ত্রী বলেন, জানি না কেন ঋণগ্রহীতারা এমন আচরণ করেন।
আগামী নির্বাচনে আপনি (অর্থমন্ত্রী) প্রার্থী হবেন না, নতুন অর্থমন্ত্রী যিনি আসবেন তার জন্য কোনো বাণী থাকবে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি খেলাপি ঋণ কীভাবে আদায় করা যায় এ বিষয়ে একটা প্রতিবেদন তৈরি করছি। আগামী নভেম্বরে প্রতিবেদনটি আমার উত্তরীয়দের দিয়ে যাব। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সাহায্য নিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। ওই প্রতিবেদনে একটা বিষয় উল্লেখ থাকবে যে, ১০ শতাংশ খেলাপি ঋণ হলেই অ্যাকশনে যেতে হবে। খেলাপির হার ১০ শতাংশের নিচে নামাতে পারলে সে নিরাপত্তা।
খেলাপির জন্য ব্যাংকারদের ব্যক্তিগত দায়বন্ধ করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমি এ ব্যাপারে বলতে পারছি না।
কোটা পদ্ধতি তুলে দেয়া হলে স্বাধীনতাবিরোধীরা প্রবেশ করবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী একজন থাকতে পারে। এ জন্য তার সন্তানকে শাস্তি দেয়া উচিত না। এটি আমার নিজের বিশ্বাস।
কোটা বাতিল হলে সরকার চ্যালেঞ্জ মুখে পড়বে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোটা বাতিল হলে বাতিল গ্রুপ চিৎকার করবে। দেখতে হবে এখন চিৎকার কোন গ্রুপের বেশি। বাতিল চায় যারা তাদের বেশি। প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ হচ্ছে কোটা বাতিলের গ্রুপের চিৎকার বেশি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে কোনো এক অনুষ্ঠানে মেয়েদের কোটা রাখার সুপারিশ করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কোটা বাতিলের জন্য চিৎকার বেশি করেছে মেয়েরাই।
প্রশ্নপর্বের আগে আইবিএফবি’র প্রেসিডেন্ট হুমায়ন রশীদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ব্যবসা বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নে ১১ দফা দাবির প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীকে দিয়েছে প্রতিনিধিদলটি।
প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে করের পরিধি বাড়িয়ে কর জিডিপির অনুপাত ২০ শতাংশে উন্নীত করা, জমি রেজিস্ট্রেশন, বিদ্যুৎ ও ঋণ পাওয়া সহজীকরণ ও কর পরিশোধ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।
এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিমান কার্গো হ্যান্ডেলিং ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়।
আইবিএফবি প্রস্তাবে আরও বলা হয়, প্রত্যেক জেলা উপযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, রফতানি বাড়াতে প্রণোদনার ব্যবস্থা, বিকল্প রফতানি খাত শনাক্ত করা, শিল্পকারখানায় গবেষণা কাজে বিনিয়োগের ওপর কর ছাড়, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্বতন্ত্র সংস্থা তৈরি করতে হবে।
শীর্ষনিউজ/এমই