মঙ্গলবার, ২০-আগস্ট ২০১৯, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

পীরগঞ্জে ৩৭ ছাত্রী হাতপাতালে!

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৭ জুলাই, ২০১৯ ১১:২৯ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, রংপুর : রংপুরের পীরগঞ্জে একই বিদ্যালয়ের ৩৭ ছাত্রী অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হলে তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ওই ছাত্রীদেরকে অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর কালসারডারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে।

সূত্র জানায়, উপজেলার আবদুল্লাহপুর কালসারডারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও ক্লাস চলছিল। এ সময় ষষ্ঠ শ্রেণির তাহমিনা ও বিথী, সপ্তম শ্রেণির নুপুর, অষ্টম শ্রেণির রিপা ও পুর্ণিমা, নবম শ্রেণির কল্পনা ও দশম শ্রেণির নুরজাহান অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাদেরকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

বিদ্যালয়টি ছুটির পর ছাত্রীরা বাড়ি গেলে পর্যায়ক্রমে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত আরও ৩০ ছাত্রী অসুস্থ হয়। তাদের সবাইকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়টির দেড়শ গজের মধ্যে একটি ইটভাটা ও একটি হাঁসের খামার রয়েছে। খামারটিতে প্রায়ই বিষাক্ত ওষুধ স্প্রে করা হয়ে থাকে। সম্ভবত ওই ওষুধে আক্রান্ত হতে পারে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হবিবর রহমান সরকার জানান, মঙ্গলবার হঠাৎ করে কয়েক ছাত্রী অসুস্থ হলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ৫ জনকে ছেড়ে দিলেও ২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি বলেন, বিদ্যালয় ছুটির পরে বিকালে আরও ৭ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়া হয়। রাত ৮টার পর সহপাঠীদের দেখতে আসা অপর ছাত্রীরাও ধাপে ধাপে অসুস্থ অনুভব করলে গভীর রাত পর্যন্ত ৩৭ জন ছাত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বকুল চন্দ্র জানান, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ ছাত্রী মাথাব্যথা ও বুকে জ্বালার কথা বললেও কয়েকজন শ্বাসকস্টের কথা জানায়।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইনচার্জ সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান জানান, গত মঙ্গলবার বিকালে ছাত্রী অসুস্থতার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। বিদ্যালয় ও আশেপাশে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। পরে বিষাক্ত কোনো গ্যাসে এ ঘটনা ঘটেনি বলে তারা নিশ্চিত হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুহুল আমিন বুলেট জানান, অধিকাংশ ছাত্রী সকালে বাড়ি থেকে খাবার খেয়ে বিদ্যালয়ে আসে। দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকার পর বিদ্যালয়ে ঝালমুড়ি বা চানাচুর জাতীয় খাবার খেলে পেটে গ্যাস/এসিড হতে পারে। একসঙ্গে এতো সংখ্যক ছাত্রী অসুস্থ এটা ‘মাস সাইকোজেনিক ইলনেস’। অতিরিক্ত ভীতি বা আতঙ্কের কারণে ঘটেছে। তিনি আরও জানান, ৩৭ জনের মধ্যে বুধবার সকাল পর্যন্ত ৪ জন ছাত্রী হাসপাতালে রয়েছে এবং তারা এখন সুস্থ।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই