মঙ্গলবার, ১৬-জুলাই ২০১৯, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • বিয়ের আগে থেকেই নয়ন উত্ত্যক্ত করতো: মিন্নি

বিয়ের আগে থেকেই নয়ন উত্ত্যক্ত করতো: মিন্নি

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৭ জুন, ২০১৯ ০৫:০২ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ, বরগুনা : “বিয়ের আগে থেকেই নয়ন আমাকে বিরক্ত করতে থাকে। তার সাথে ফোনে কথা বলতে হবে, কথা না বললে মেরে ফেলবো, রাস্তাঘাটে আমার রিকশায় জোর করে উঠবে। এসব কথা কাউকে বললে মেরে ফেলবো বলে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিল। এরপর বিষয়টি পরিবারকে জানালে রিফাতের সাথে আমার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।” কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই বলছিলেন নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি।

তিনি দেশ আরও বলেন, “বিয়ের আগে থেকেই রিফাতের সঙ্গে আমার ভালোবাসার সম্পর্ক ছিলো। বিয়ের পরও নয়ন আমাকে বিরক্ত করে আসছিলো। বিষয়টি আমি আমার স্বামীকেও জানিয়েছিলাম।”

“ঘটনার দিন বুধবার সকালে আমি রিফাতের সাথে কলেজে গিয়েছিলাম। কলেজের গেটে ওৎপেতে থাকা কিছু সন্ত্রাসী এ সময় রিফাতকে কলেজ গেট থেকে টেনে নিয়ে নয়ন ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের কাছে নিয়ে যায়। এসময় তাদের মধ্য থেকে নয়ন ও রিফাত ফরাজি নামের দুইজন আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।” বলেন আয়েশা।

“আমি আমার স্বামীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করি। কিন্তু এসময় উপস্থিত সেখানে অনেকেই অস্ত্রের ভয়ে আমাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি।”

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে রিফাতের স্ত্রী বলেন, “যাতে দোষীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়।” এসময় তিনি নয়ন মন্ডল, রিফাত ফরাজি ও রিশান ফরাজিকে আইনের আওতায় এসে ফাঁসির দাবি করেন।  

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আয়শা আক্তার মিন্নির সঙ্গে দুই মাস আগে রিফাত শরীফের বিয়ে হয়। বুধবার সকাল ১০টার দিকে রিফাত ও তার স্ত্রী মিন্নি বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ওৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা রাম দা নিয়ে রিফাতের ওপর চড়াও হয়।

এ সময় মিন্নি তাদের বাধা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। কিন্তু, তার বাধা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীরা রিফাতকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে বারবার আত্মরক্ষার চেষ্টা চালান রিফাত। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। সন্ত্রাসীরা তার হাত-পা, বুক, পিঠসহ সারা শরীর কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। এই হামলার স্থিরচিত্র ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, মিন্নি এ সময় একবার সন্ত্রাসী নয়নকে, আরেকবার নয়নের সহযোগী রিফাত ফরাজীকে আটকানোর চেষ্টা করেন এবং বাঁচাও, বাঁচাও, না না বলে চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু, ততক্ষণে রাম দার কোপে মারাত্মক আহত  হন রিফাত।

এরপর তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেলে রিফাত শরীফ মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ ১২জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত চন্দন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শীর্ষকাগজ/এসএসআই