সোমবার, ১৯-আগস্ট ২০১৯, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • দুই জেলায়  ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩, গুলিবিদ্ধ ১

দুই জেলায়  ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩, গুলিবিদ্ধ ১

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

শীর্ষকাগজ, কক্সবাজার ও কুষ্টিয়ায়  বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার  সকালে এ বন্দুকযুদ্ধে ঘটেছে।
কক্সবাজার: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই জলদস্যু নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, দুই রাউন্ড কার্তুজ ও ১২টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে উপজেলার লেমশীখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে।
তবে নিহত দুই জলদস্যুর নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের কনেস্টবল তাপস পাল ও সাইদুল ইসলাম নামের দুই আহত হয়েছেন। 
কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ফেরদাউস জানান, ভোরে লেমশীখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় দুই জলদস্যু বাহিনীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হচ্ছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জলদস্যুরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে পালিয়ে যান জলদস্যুরা। 
পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই জলদস্যুকে কুতুবদীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ১২ রাউন্ড কার্তুজ ও ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়। নিহত দুই জলদস্যুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান ওসি দিদারুল।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রফিক উদ্দিন (৩৫) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। 
শুক্রবার ভোরে উপজেলার ভাদালিয়া স্বস্তিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রফিক উদ্দিন সদর উপজেলার বাড়াদী এলাকার দাউদ আলীর ছেলে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) দিনগত রাত ৩টার পর পুলিশের কাছে খবর আসে ভাদলিয়া স্বস্তিপুর এলাকায় মাদক বিক্রেতাদের দু’গ্রুপের মধ্যে গুলি বিনিময় হচ্ছে। এমন খবরে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের দু’টি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। একপর্যায়ে মাদক বিক্রেতারা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, দু’টি ম্যাগাজিন ও ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তি একজন চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা। তার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মাদক মামলা রয়েছে। তার মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফের আলীখালী রোহিঙ্গা শিবিরে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীর গুলিতে অছি উল্লাহ (৩০) নামে এক রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। 
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার টেকনাফের হ্নীলা আলীখালী রোহিঙ্গা শিবিরের ডি ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। 
টেকনাফ নিবন্ধিত নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবদুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গুলিবিদ্ধ অছি উল্লাহ টেকনাফের হ্নীলা আলীখালী রোহিঙ্গা শিবিরের ডি বক্লের ১১ নম্বর রুমের মোহাম্মদ লালুর ছেলে। ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাদের অভিযানে মুখে পরে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে সেখানে আশ্রয় নেয়। 
টেকনাফের আলীখালী রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা মোস্তফা কামাল জানান, গভীর রাতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হ্নীলা আলীখালী রোহিঙ্গা শিবিরের ডি ব্লকে এসে আব্দুল বাসেদকে (১৪)  অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়ার সময় তার বড় ভাই অছি উল্লাহ বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা গুলি করে বাসেদকে অপহরণ করে নিয়ে পাহাড়ে ঢুকে পরে। পরে স্থানীয় রোহিঙ্গারা এগিয়ে এসে গুলিবিদ্ধ অছি উল্লাহকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার পাঁঠায়। এদিকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে অপহৃতকে উদ্ধার করে। 
টেকনাফ নিবন্ধিত নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবদুস সালাম বলেন, আলীখালী রোহিঙ্গা শিবিরে অস্ত্রধারী গুলিতে এক রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
শীর্ষকাগজ/এম