বুধবার, ২১-আগস্ট ২০১৯, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • হেঁটে বাসায় ফিরলেন বাসচাপায় পা হারানো রাসেল

হেঁটে বাসায় ফিরলেন বাসচাপায় পা হারানো রাসেল

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ১১:৩১ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ, সাভার: কৃত্রিম পা সংযোজনের পর মাত্র এক সপ্তাহের অনুশীলনেই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সামর্থ্য অর্জন করলেন গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো সেই রাসেল সরকার। অবশেষে ওই কৃত্রিম পায়ে হেঁটেই তিনি নিজের বাসায় ফিরে গেলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সংযোজনকৃত কৃত্রিম পায়ে হেঁটেই রাসেল সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) থেকে বের হয়ে একটি মাইক্রোতে চড়েন এবং ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

গত ১৮ এপ্রিল সকাল পৌনে ১১টার দিকে সিআরপির অঙ্গ সংযোজন বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ শফিক তার কৃত্রিম পা সংযোজন করেন।

নতুন পায়ে হেঁটে যাওয়া উচ্ছ্বসিত রাসেল বলেন, 'আমি সিআরপির কাছে কৃতজ্ঞ। সিআরপি ছাড়া মনে হয় আমার আর হাঁটাচলা সম্ভব হতো না। আজকে আমার অনেক আনন্দ লাগছে, যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। ছোটবেলায় যেভাবে মানুষ হাঁটতে শিখে, আমিও তেমনি আবার নতুন করে হাঁটা শিখলাম।'

তবে তিনি এখন আর আগের মতো ড্রাইভিং করে সংসার চালাতে পারবেন না। তাই ছোট কোনো ব্যবসা করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া পরিবহন শ্রমিকদের নেশাগ্রস্ত হয়ে এবং রেষারেষি করে গাড়ি না চালানোর জন্যও আহ্বান জানান রাসেল।

সিআরপির চিকিৎসক মোহাম্মদ শফিক বলেন, রাসেল সরকার চার সপ্তাহের অনুশীলন মাত্র এক সপ্তাহেই শেষ করেছেন। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর অনুশীলনের কারণে এক সপ্তাহের মধ্যে রাসেল স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন। তাই আজকে তিনি সিআরপিতে চিকিৎসা শেষ করে বাড়িতে চলে গেছেন। এ ছাড়া যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন সিআরপির পক্ষ থেকে তার পায়ের যাবতীয় চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। তবে সে ক্ষেত্রে একদিন আগে সিআরপিকে অভিহিত করতে হবে। এমনকি রাসেল যদি ব্যবসা করেন, সে ক্ষেত্রেও তাকে আর্থিক সহযোগিতা করবে সিআরপি।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রাসেল সরকার রাজধানীর আদাবর এলাকায় স্থানীয় একটি 'রেন্ট-এ-কার' প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালাতেন। গত বছরের ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথাকাটাকাটির জেরে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসের চালক ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেলকে চাপা দেয়। এতে তার বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ ঘটনায় রাসেল সরকারের বড় ভাই আরিফ সরকার বাসচালক কবির মিয়ার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রিনলাইনকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রায় দেন হাইকোর্ট। গত ১০ এপ্রিল পাঁচ লাখ পরিশোধ করে গ্রিনলাইন।
শীর্ষকাগজ/এসএসআই