শুক্রবার, ২২-ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • ধর্ষণের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি, দুই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

ধর্ষণের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি, দুই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৯:৫৬ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ, মানিকগঞ্জ : সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে আটকে রেখে দুই দিন ধরে ধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। পুলিশ সুপারের নির্দেশে গঠিত কমিটি তদন্তের শুরুতেই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। এ ঘটনায় সাটুরিয়া থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী সোমবার রাতে সাটুরিয়া থানায় অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন সাটুরিয়া থানায় উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মাজহারুল ইসলাম। এই ধর্ষণ মামলার তদন্তভার ন্যস্ত করা হয়েছে সাটুরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদের ওপর। শিগগিরই ওই তরুণীর মেডিক্যাল পরীক্ষাসহ প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তদন্ত টিমের প্রধান মানিকগঞ্জ সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান জানান, ‘সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় নিয়ে সোমবার দিনভর তদন্ত চালান তারা। এ সময় নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী ঘটনার বর্ণনা দেন। প্রাথমিক তদন্তে তার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।’
অপরদিকে সাটুরিয়া থানার ওসি আমিনুল ইসলাম মামলা রুজুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 
তিনি জানান, ‘ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় উপ-পুলিশ পরিদর্শক সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক মাজহারুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিরা বর্তমানে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত রয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগ করেন, সাটুরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন তার খালার কাছ থেকে ৫ বছর আগে এক লাখ টাকা নেন। লাভসহ ফেরত দেওয়ার কথা বলে এই টাকা নেন তিনি। কিন্তু বারবার ফেরত চেয়েও টাকা পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই পাওনা টাকা আনতে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে খালার সঙ্গে সাটুরিয়া থানায় যান তিনি। সেখানে সেকেন্দার হোসেনের সঙ্গে দেখা হলে তিনি দুইজনকে নিয়ে সাটুরিয়া ডাকবাংলোয় যান। কিছুক্ষণ পরে সেখানে উপস্থিত হন একই থানার আরেক এএসআই মাজহারুল ইসলাম। কিছুক্ষণ পর তাকে ও তার খালাকে আলাদা ঘরে নিয়ে আটকে রাখে পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা। একপর্যায়ে ওই তরুণীকে অস্ত্রের মুখে ইয়াবা সেবনে বাধ্য করা হয়। পরে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আটকে রেখে তাদের দুইজনকে ডাকবাংলো থেকে বের করে দেয় তারা।
রোববার দুপুরে ওই তরুণী মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।
শীর্ষকাগজ/প্রতিনিধি/এমই