শুক্রবার, ১৯-জুলাই ২০১৯, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ২৮ দিন পর উদ্ধার 

রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ২৮ দিন পর উদ্ধার 

shershanews24.com

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৮:১১ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে এক সিজারের রোগীর পেটের মধ্যে কাপড়ের টুকরা রেখে সেলাই করা হয়েছে। অপারেশন করার ২৮ দিন পর ফের অপাশেনের মাধ্যমে কাপড়ের টুকরা বের করা হয়। 
গতকাল বৃহস্পতিবার কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের ভাটাডাঙ্গা গ্রামের মোশারেফ হোসেনের স্ত্রী চামেলী খাতুনের (২৭) পেট থেকে এই কাপড়ের টুকরা অপাশেনের মাধ্যমে বের করেন ঝিনাইদহ শহরে প্রাইম হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক ডা. মাছুদুল হক। যা দেখে ডাক্তার নিজেই হতবাক হয়ে পড়েন। 
চামেলীর স্বামী মোশারফ হোসেন জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর কালীগঞ্জ বাসস্টান্ডের ফাতেম প্রাইভেট হাসপাতালে আমার স্ত্রীর সিজার করা হয়। আব্দুল্লাহ কাফি নামে এক চিকিৎসক চামেলিকে সিজার করেন। সিজারের মাধ্যমে একটি মেয়ে শিশুর জন্ম দেয় চামেলী। তারপর আমরা তাকে বাড়ি নিয়ে যাই। কিন্তু আমার স্ত্রী কিছুতেই সুস্থ হচ্ছে না। পুনরায় আমরা ঐ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করি কিন্তু ৭৫ হাজার টাকা খরচ করার পরও রোগী সুস্থ না হওয়া গত ৮ জানুয়ারি ফাতেমা হাসপাতাল থেকে আমাদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সদর হাসপাতালের ডাক্তাররা রোগীর অবস্থা ভাল না বলে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। 
মোশাররফ জানান, এই অবস্থায় ঝিনাইদহ প্রাইম হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করি। চিকিৎসক অপারেশন করার পর রোগীর পেটের মধ্যে রক্ত পরিষ্কার করা কাপড়ের টুকরা (মফ) বের করে। একই সাথে প্রায় ২ কেজির মত দুর্গন্ধযুক্ত পুজ-রক্ত বের করা হয়। 
অপারেশনকারী ডা. মাছুদুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন চামেলীর পেটের মধ্যে মফ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন কালীগঞ্জের ফাতেমা ক্লিনিকে যে ডাক্তার অপারেশন করেছিল তিনি হয়তো ভুল বসত এই মফ রেখে সেলাই করে দেন। 
কালীগঞ্জের ফাতেম প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক একরামুল হক বলেন, আমরা তো রোগী সুস্থ করেই বাড়ি পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু বাড়িতে রোগী ঠিকমত ওষুধ সেবন না করায় তার ইউট্রাস ইনফেকশন হয়। চামেলীর অপারশেন করেছেন ডাক্তার আব্দুল্লাহ কাফি। কিন্তু ডাক্তার আব্দুল্লাহ কাফি বলেন, আমি কালীগঞ্জে অনেক দিন অপারেশন করিনি। অনেক সময় কালীগঞ্জের ক্লিনিক মালিকরা এ ধরণের অপকর্ম করে আমার নাম বলে চালিয়ে দেয়। 
এই প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন রাশেদা সুলতানা বলেন ঘটনা আমি জানি না। তবে পেটের মধ্যে যদি গজ পাওযার ঘটনা সত্য হয় তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  
শীর্ষকাগজ/প্রতিনিধি/এমই