মঙ্গলবার, ২০-নভেম্বর ২০১৮, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন

নরসিংদীতে ছেলের হাতে বাবা খুন

Shershanews24.com

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:১৫ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, নরসিংদী: নরসিংদীতে ফজলুল করিম (৫৫) নামের এক বাবা তার দুই ছেলের শাবলের আঘাতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পৌর শহরের চৌয়ালা এলাকায় ছেলেরা শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই বাবার মৃত্যু হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের ঘাতক দুই ছেলের নাম- মাসুম মিয়া (২২) ও মামুন মিয়া (১৮)। তারা দুজনেই নেশাগ্রস্ত ছিল বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাসুম মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফজলুল করিম পেশায় একজন মুদি দোকানদার ছিলেন। তার কমলা বেগম, মাসুমা বেগম, মিনা আক্তার নামের তিন মেয়ে এবং মাসুম মিয়া, মামুন মিয়া ও মানজারুল ইসলাম নামের তিন ছেলে আছে। এরমধ্যে মানজারুল মালয়েশিয়া প্রবাসী। গত ছয় বছর আগে ফজলুল করিমের প্রথম স্ত্রী রওশন আরা মারা যাওয়ার পর গত চার বছর আগে স্বপ্না আক্তার নামের আরেকজনকে বিয়ে করেন তিনি। এরপর থেকেই বড় দুই ছেলে তাদের সম্পদ রেজিস্ট্রি করার দাবিতে বাবা ফজলুল করিমকে একাধিকবার পিটিয়ে আহত করেন। কিন্তু ছেলেরা নেশাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন করে না দিয়ে দৈনিক খরচের জন্য প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে দিতেন। পাশাপাশি তাদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে একাধিকবার পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন বাবা ফজলুল করিম।
শুক্রবার ছোট মেয়ে মিনা আক্তারের প্রবাস ফেরত স্বামীকে আনতে ফজলুল করিম বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য বাসার সামনের সড়কে গেলে দুই ছেলে মাসুম ও মামুন তার কাছে টাকা দাবি করে। এসময় তিনি পরে টাকা দেবেন জানালে মামুন রড দিয়ে বাবা ফজলুল করিমের মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শরীরে একাধিকবার আঘাত করে ছেলেরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পরই মামুন একটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে গেলেও মাসুমকে স্থানীয়রা আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে এবং মাসুমকে ধরে নিয়ে যায়।
নিহতের মেয়ে কমলা বেগম বলেন, ‘আমার বাবা ভাইদের সবসময় টাকা দিত। তারপরও তারা নেশাদ্রব্য খাওয়ার জন্য বাবাকে অনেক নির্যাতন করতো। আমি দুই ভাইয়ের ফাঁসি চাই।’
নিহতের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বলেন, ‘মেয়েদের জামাতা ও ছেলেদের ইচ্ছাতেই আমাকে বিয়ে করে আনা হয়েছে। আমার সঙ্গে তাদের সুসস্পর্ক ছিল। কিন্তু ছেলে মাসুম ও মামুন সবসময় সম্পদ লিখে দেওয়ার জন্য তাদের বাবাকে নির্যাতন করতো। তিনি দুবার তাদের পুলিশে দিয়েছিলেন। আবার নিজেই ছাড়িয়ে এনেছিলেন। ছেলেদের প্রত্যেককে দৈনিক ২০০ টাকা করে খরচের জন্য দিতেন আমারা স্বামী।’
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সৈয়দুজ্জামান বলেন, ‘নিহতের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের এক ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ছেলেরা মূলত নেশাগ্রস্ত ছিল। তারা টাকার জন্য ও সম্পদ লিখে দেওয়ার জন্যই বাবাকে হত্যা করেছে বলে পরিবারের লোকজন জানান। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 
শীর্ষনিউজ/এনএস