মঙ্গলবার, ১৩-নভেম্বর ২০১৮, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • স্কুলছাত্রীকে নিয়ে উধাও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা!

স্কুলছাত্রীকে নিয়ে উধাও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা!

Shershanews24.com

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৫:৪১ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, বরিশাল : প্রেম প্রস্তাবে রাজি করাতে না পেরে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চুনারচর গ্রাম থেকে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মিন্টু জমোদ্দার ও তার ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। 

অভিযুক্ত মিন্টু একই এলাকার মৃত আবদুল মালেক জমাদ্দারের ছেলে এবং একই ওয়ার্ডের উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি কাউন্সিলর মনির জমাদ্দারের ছোট ভাই। পদ-পদবী না থাকলেও মিন্টু স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে জড়িত বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলো- মিন্টু জমাদ্দার, মোহাম্মদ আলী জমোদ্দার, শাহে আলম দেওয়ান, ইউসুফ মোল্লা, গনি জমাদ্দার, আলী জমাদ্দার, ইকবাল জমাদ্দার, আমির চৌকিদার। এছাড়া ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। 

স্কুলছাত্রীর মা জানান, একই এলাকায় থাকার সুবাধে এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মিন্টু তার মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছিল। এ কারণে মাঝেমধ্যে তার মেয়ে স্কুলে যাওয়া থেকে বিরত থাকতো। বিষয়টি মিন্টুর ভাই কাউন্সিলর মনিরসহ তাদের আত্মীয়-স্বজনকে অবহিত করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তাছাড়া মেয়ের বাবা সৌদি থাকায় তার পক্ষে কঠোরভাবে কিছু করা সম্ভব ছিল না। 

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ৭-৮টি মোটর সাইকেলযোগে মিন্টু তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তাদের বাড়ি হানা দেয়। এক পর্যায়ে মিন্টুসহ ৪/৫ জন তাদের ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক তার মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় মেয়ে চিৎকার দিলে তিনি (মা) মেয়েকে রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু মিন্টু তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে মেয়েকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে চলে যায়। সাথে সাথে মিন্টুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খবর দেয়া হলেও মেয়ে এবং মিন্টুর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মিন্টুর পরিবার থেকে কোন সহযোগিতা না পেয়ে ওই রাতেই মেহেন্দিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করতে যান তিনি। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা নিতে ওসি শাহিন খান গড়িমসি করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলামের নির্দেশে এক পর্যায়ে মামলা নিতে বাধ্য হন ওসি। মামলা রুজু বাবদ বাদীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওসি শাহিন খানের বিরুদ্ধে। 

এদিকে উৎকোচ নেওয়ার কথা অস্বীকার করে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি শাহিন খান জানান, অপহরণের ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। অপহৃতাকে উদ্ধার এবং অপহরণকারীকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আব্দুল হক।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই