শুক্রবার, ২৩-আগস্ট ২০১৯, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

পাকিস্তান যা পারছে বাংলাদেশ কেন তা পারছেনা?

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৮:২২ অপরাহ্ন

আহমেদ আরিফ: ভারত-পাকিস্তানের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের পাকিস্তান সফর শেষ হয়েছে। অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত পাকিস্তানের জন্য সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সফর এতটাই গুরুত্বপূর্ন ছিল যে,  পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীরের পালওয়ামায় ঘটে যাওয়া হামলা নিয়ে তখনই ভারতের সাথে বাকযুদ্ধে জড়াননি। পুরো ফোকাস দিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্সের পাকিস্তান সফরে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের পাকিস্তান সফর শেষ হওয়ার পরেই কাশ্মীরের পালওয়ামায় ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন ইমরান খান। 
ক্রাউন প্রিন্সের পাকিস্তান সফরকে হাইপ্রায়োরিটি দিয়ে রীতিমত বাজিমাতই করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ২০০০ কোটি ডলারের সমঝোতা স্বারক সাক্ষর হয়েছে পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে। অর্থ সহায়তার চুক্তির পাশাপাশি পাকিস্তানের মানবিক আহবান বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবের জেল থেকে ২১০৭ জন পাকিস্তানি বন্দিকে মুক্তির নির্দেশ দেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স। 
নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক আহবানে সাড়া দিয়ে ২১০৭ জন বন্দী মুক্তির নির্দেশের ব্যাপারটি রীতিমত চমকপ্রদ। পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে প্রবাসী পাকিস্তানীদের কাছে  প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অসাধারণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সৌদি আরবের কারগারে বন্দী থাকা পাকিস্তানী নাগরিকদের বিষয়টি যেভাবে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সাথে আলোচনার সময় তুলে ধরেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। কারণ, ইমরান খান শুধু অর্থ সহায়তা আদায় নয়, সৌদি জেলে থাকা নিজ দেশের নাগরিকদেরও সমান গুরত্ব দিয়েছেন।

না, শুধু অর্থ সহায়তা চুক্তি কিংবা বন্দী মুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি পাকিস্তানের  সাফল্য। সংবাদ মাধ্যম সৌদি গেজেটের তথ্যমতে, পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য ফ্যমিলি ভিজিট ভিসার ফিও কমিয়েছে সৌদি সরকার। ২০০০ রিয়াল থেকে কমিয়ে মাত্র ৩৩৮ রিয়াল করা হয়েছে ফ্যমিলি ভিজিট ভিসার ফি । এতে করে লাভবান হবে লাখ লাখ সৌদি প্রবাসী পাকিস্তানী নাগরিকরা। অল্প খরচেই পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব নিয়ে যেতে পারবে প্রবাসী পাকিস্তানিরা।

পাকিস্তান যেখানে সৌদি আরবের সাথে একের পর এক কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করছে সেখানে বাংলাদেশ দিনদিন পিছিয়ে পড়ছে সৌদি আরবের শ্রম বাজারে। চরম বিতর্কিত নির্বাচনে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামীলীগ সরকারের অন্যতম দাবী হচ্ছে, বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক অতীতের যে কোন সময়ের চাইতে ভাল। কিন্তু, তথাকথিত এই 'ভাল সম্পর্ক' কি আসলেই ২৫ লাখের বেশী সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীদের কোন উপকারে আসছে? সহজ উত্তর, না।

বাংলাদেশের বিতর্কিত নির্বাচনের বিতর্কিত সরকার গত ১০ বছরে ২৫ লাখের বেশী প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য উল্লেখযোগ্য কোন সুবিধা আদায় করতে পারেনি সৌদি আরবের কাছ থেকে। পাকিস্তান সরকার যেখানে সৌদি প্রবাসী পাকিস্তানীদের জন্য নানারকম সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ সরকারের দৌড় বিনা খরচে প্রবাসী বাংলাদেশীদের লাশ ফেরতের কিংবা কম খরচে সৌদি আরবে কাজের মহিলা তথা খাদ্দামা পাঠানোর কূটনীতিতে! অথচ এসব মহিলা শ্রমিক নিয়ে কম কেলেংকারি হয়নি ইতিমধ্যে।

[email protected]