শুক্রবার, ২২-ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

ভারতের ওপরে চীনের কৌশলগত সুবিধা অর্জন?

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

সিরাজুল ইসলাম: ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হতো যে, গত দু’টার্ম বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আওয়ামী লীগকে বসিয়ে ভারত তাদের দাবী দাওয়া সবটা হাসিল করে নিয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে আ’লীগের সাথে ভারতের মাখামাখি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পূর্বক্ষণে তাদের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংকে ঢাকায় পাঠিয়ে নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করেছিল ভারত। সে নির্বাচন নিয়ে আন্তজার্তিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দেয়। তবে ২০১৭ সালের নভেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ঢাকায় এসে কথা দিয়ে যান যে, বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক এবং সুষ্ঠু হবে। তদুপরি আওয়ামীলীগ আশা করেছিল, তাদেরকে আগের দু’বারের মত ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য ভারত সবকিছু করবে।
কিন্তু এবারের নির্বাচনে শেখ হাসিনার সরকার ভারত থেকে সেই আশ্বাস ও সমর্থনের উপস্থিতি পায়নি, যেটা কংগ্রেস নিয়ন্ত্রিত সরকার করেছিল ২০১৪ সালে। অন্যদিকে ২০১৭ সালে অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের পরে বাংলাদেশে চীনের বিশাল বিনিয়োগের আশ্বাস, সেই সাথে শেখ হাসিনার সরকার চীনের রোড ইনিশিয়েটিভ বা OBOR (যার বিরোধিতা করে আসছিল ভারত) যোগ দিতে আগ্রহ জানানোর পরে দিল্লির কপালে ভাঁজ পড়ে, যদিও ঢাকা বোঝানোর চেষ্টা করে চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের সাথে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না, এতে ভারত আশ্বস্ত হতে পারেনি। 
ভারত ধরে নিয়েছিল ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নিজস্ব মেকানিজম নিয়ে ক্ষমতায় ফেরত আসতে পারবে। ঐ নির্বাচনে চীনের প্রভাব সম্পর্ক ভারত আগেভাবে তেমনটা বুঝতে পারেনি, তবে বিষয়টি তাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাড়ায়, যখন শেখ হাসিনা নতুন কেবিনেট গঠন করতে গিয়ে ভারতপন্থী ২৭ জন সিনিয়র মন্ত্রীকে বাদ দেন। এতদিন এইসব মন্ত্রীদের দ্বারাই ভারত তাদের সুযোগ সুবিধা হাসিল করে নিত। এতগুলো মন্ত্রী বাদ দেয়া নিয়ে নয়াদিল্লির কাছে সামান্য পূর্ণা ধারণা ছিল না। এটা তাদের জন্য ছিল সম্পূর্ন নতুন অভিজ্ঞতা এবং পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত।
ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশগুলির তালিকা থেকে বাদ পড়ে।
সরকার গঠনের পরও শেখ হাসিনা সিএনএন-এর সাথে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেন, ভারত একটি বড় দেশ, চীনের রোড ইনিশিয়েটিভ নিয়ে তাদের টেনশন করা উচিত নয়! নতুন এ ব্যবস্খার ফলে শেখ হাসিনার সরকারকে সম্ভবত চীনের কৌশলগত স্বার্থে অনেক কাজ করতে দেখা যাবে, যাতে নয়াদিল্লির প্রভাব খর্ব হবে। চীন ভারতের টানাটানির মধ্যে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার কাজটি এত সহজ হবে না, বিশেষ করে তাদের জটিল এবং কঠিন কূটনীতির খেলায় নিপতিত হবে। এখন থেকে নতুন দিল্লি আগের মত বিনা প্রশ্নে সবকিছু পেয়ে যাবে না। তবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূতগণ এবং গণমাধ্যম বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে নয়াদিল্লির হতাশা প্রকাশ করেছেন, যারা ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পক্ষে ওকালতি করতো, কিন্তু তারা ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে কোনো উৎসাহ দেখাচ্ছেন না, কেননা তারা জানতেন এটি চীনকে কৌশলগত সুবিধা দিয়াছে।
লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত