বুধবার, ১৯-সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
কালান্তরের কড়চা

পিনাকবাবুর বঙ্গদর্শন প্রসঙ্গে

Shershanews24.com

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৮:৩২ অপরাহ্ন

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী: এমন একদিন ছিল যখন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কেন সারা উপমহাদেশের অতীত ইতিহাস জানার জন্য বিদেশি দূত এবং বিদেশি পর্যটকদের লেখা বইপত্র আমাদের পড়তে হতো। বাংলাদেশে যে এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত (শায়েস্তা খানের আমলে) এ কথা আমাদের জানতে হয়েছে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙের বই পড়ে। নবাব সিরাজউদ্দৌলার দরবারে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির দূত রবার্ট ক্লাইভের আত্মজীবনী পড়ে জানতে হয়েছে, নবাবি আমলে মুর্শিদাবাদ ছিল লন্ডনের চেয়ে অনেক উন্নত ও সমৃদ্ধ শহর।
আমাদের অভ্যাস ও আবশ্যকতা এখনো দূর হয়নি। আমরা পরের মুখে ঝাল খেতে ভালোবাসি। নিজের চোখের সামনে দৃশ্যমান অনেক কিছু বিশ্বাস না করে পরের লেখা বা বলা বিবরণ বিশ্বাস করতে পছন্দ করি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে কি দেশের অর্থনীতি ‘তলাবিহীন ঝুড়িতে’ পরিণত হয়েছিল, না একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ অভাবিত দ্রুততার সঙ্গে যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ থেকে বেরিয়ে আসছিল? তথাপি আমরা অনেকে নিজেদের চোখে দেখা ঘটনা বিশ্বাস না করে আমেরিকার হেনরি কিসিঞ্জারের কথায় ধেই ধেই করে নেচেছি।
এসব পুরনো কথা মনে পড়ল বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বা রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর একটি লেখা পড়ে। লেখাটি সাউথ এশিয়ান মনিটর ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখান থেকেই ঢাকার ইংরেজি দৈনিক নিউ এজে পুনর্মুদ্রিত হয়েছে। তিনি ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ঢাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার ছিলেন। এরপর ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ছিলেন হাইকমিশনার।
সুতরাং লেখাটি সহজেই আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র এবং পিনাকবাবুও বাংলাদেশে কূটনৈতিক  দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি নিশ্চয়ই পশ্চিমা কূটনীতিকদের স্বার্থান্ধ চোখে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন না, বরং তাঁর পর্যবেক্ষণে একটি সুস্থ, নিরপেক্ষ অথচ মিত্রের চোখে দেখা বাংলাদেশের ছবি দেখব—এটা আশা করেছিলাম। তিনি আমার আশা সর্বতোভাবে পূর্ণ করেননি।


বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যাঁরা ভারতের রাষ্ট্রদূত হয়ে ঢাকায় এসেছেন, তাঁদের অনেকের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। দীর্ঘকাল বিদেশে অবস্থানের কারণে পরবর্তী অনেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়নি। যেমন হয়নি পিনাক বাবুর সঙ্গে। কিন্তু তাঁর কূটনৈতিক প্রজ্ঞা এবং বাংলাদেশের প্রতি দরদের কথা জেনেছি বন্ধুদের মুখে। এ সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। তবে ধারণা আছে প্রথম রাষ্ট্রদূত সুবিমল দত্ত এবং ১৯৭৫ সালের রাষ্ট্রদূত সমর সেন সম্পর্কে।
সুবিমল দত্ত নিজেকে ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিক মনে করতেন না। নিজেকে মনে করতেন বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশের পরম বন্ধু। বঙ্গবন্ধু যখন লাহোরের ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে গিয়ে জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ঢাকায় দাওয়াত করে আনেন তখন সুবিমলবাবু চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু আমার সঙ্গে দেখা হতেই অঝোর ধারায় কেঁদেছেন। বলেছেন, বঙ্গবন্ধু এ কী করলেন? নিজে খাল কেটে বাংলাদেশে কুমির আনছেন?
রাষ্ট্রদূত সমর সেন ছিলেন অন্য ধাঁচের মানুষ। ২০ হাজার ভারতীয় জোয়ান ও কর্মকর্তা যেখানে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, সেই বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল পেশাদার কূটনীতিকের; যে মনোভাব পিনাকবাবুও তাঁর লেখায় দেখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের জনগণ তখন যে অকৃত্রিম মিত্রতার ভাব পোষণ করে, তার যথার্থ প্রতিনিধিত্ব সমর সেন কখনো করতেন বলে আমার মনে হয়নি।
১৯৭৫ সালের জুন মাসে আমি যখন লন্ডন থেকে ঢাকায় আসি তখনই এটা বুঝতে পেরেছিলাম। অবস্থা থমথমে, ভালো নয়। আমি সমর সেন ও তাঁর প্রেস মিনিস্টার অশোক গুপ্তকে (বিক্রমাদিত্য ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন) সতর্ক করি এবং ইন্দিরা গান্ধীকে ব্যাপারটা জানানোর জন্য অনুরোধ করি। সমর সেন আমার কথাটা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, এটা বাজারের উটকো গুজব। এসব গুজব ছড়াবেন না।
১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডি যখন ঘটে গেল তখন তিনি একটা বই লিখলেন, ‘মিডনাইট ম্যাসাকার’। এতে প্রথম চ্যাপ্টারে লিখলেন, ‘গাফ্ফার চৌধুরী নামক এক সাংবাদিক আমাকে ঢাকায় একটি অভ্যুত্থানের আশঙ্কার কথা জানিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সতর্ক করতে বলেছিলেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সিক্রেট নোট পাঠিয়েছিলাম। সেটি সাউথ ব্লক (ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর) থেকে হারিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী পাননি। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ইন্দিরা গান্ধী যখন রাগান্বিত হয়ে তাঁকে কেন আগে সতর্ক করা হয়নি, তা আমার কাছে জানতে চান, তাঁকে আমি সাউথ ব্লকের ব্যাপারটি জানাই।’
সমর সেনের এই বই পড়ার পর আমার মনে দারুণ সন্দেহ হয় ইন্দিরা গান্ধী এবং তাঁর সরকার বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর যত বড় মিত্রই হোন, তাঁর প্রশাসনেও একটি ‘অ্যান্টি-বাংলাদেশ’ অংশ আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এরা ছিল। কিন্তু ডি পি ধর প্রমুখ ইন্দিরাভক্ত প্রভাবশালী আমলাদের কারণে মাথা তুলতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু-পরবর্তী বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অমিত্রসুলভ হয়ে উঠেছিল, এর জন্য বিএনপি সরকারের ভারতবিরোধী কার্যকলাপ বহুলাংশে দায়ী হলেও ভারতের আমলাতন্ত্রের একটা অংশের মনোভাব ও কার্যকলাপ সে জন্য কম দায়ী নয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী ভারতের আমলাতন্ত্রের বাংলাদেশবিরোধী অংশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এমন কথা আমি বলি না। তাঁর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি। কিন্তু তিনি ঢাকায় থাকাকালে তাঁর নাম বহুবার আমার কানে এসেছে। তিনি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এবং হাসিনা সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ভালো বলে জেনেছি।
সুতরাং এক শ্রেণির পশ্চিমা কূটনীতিকের মতো তিনি নিজেদের খেয়ালখুশির চশমায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি দর্শন না করে, জন্ম থেকেই এই দুর্বল গণতন্ত্র কিভাবে শত্রুবেষ্টিত অবস্থায় রক্তপাত, চক্রান্তের মুখে টিকে আছে এবং টিকে থাকার জন্য যুদ্ধ করছে, এই বাস্তবতার আলোকে তিনি দেশটি ও এর বর্তমান সরকারকে দেখবেন এবং শুধু একজন কূটনীতিক হিসেবে নয়, দেশটির স্বাধীনতা অর্জনে যারা সর্বাধিক সাহায্য জুগিয়েছে, সেই মিত্র দেশের প্রতিনিধি হিসেবে সব কিছু বিবেচনা করবেন—এটাই আশা করেছি।
স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, বাংলাদেশ ও দেশটির বর্তমান সরকার সম্পর্কে পিনাকবাবুর পর্যালোচনাটি আমার প্রত্যাশা পূর্ণ করেনি। লেখাটি পড়তে পড়তে আমার মনে হচ্ছিল, আমি কি বর্তমান বাংলাদেশ সম্পর্কে সদ্যোবিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের প্রতিবেদন পড়ছি। বার্নিকাট সম্পর্কে জানা যায়, তিনি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের হাসিনাবিদ্বেষী হিলারি অনুসারীদের একজন। তা ছাড়া বাংলাদেশের হাসিনাবিরোধী সুধীসমাজের সঙ্গে ছিল তাঁর ওঠাবসা। তাদের দ্বারাও তিনি যে বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিলেন, তা ঢাকা থেকে তাঁর বিদায়ের আগের কথাবার্তা ও কার্যকলাপ থেকেও বোঝা যায়। বাংলাদেশের এই সুধীসমাজ হাসিনা সরকার সম্পর্কে যে প্রচারণা চালায়, এর প্রায় হুবহু অনুসরণ রয়েছে পিনাকবাবুর বঙ্গদর্শনে। এ জন্যই সন্দেহ হয়, তাঁরও এই সুধীসমাজের সঙ্গে কতটা ওঠাবসা ছিল এবং তাদের দ্বারা কতটা প্রভাবিত হয়েছেন।
এই সুধীসমাজ কর্তৃক প্রচারিত যে গুজব এখন দেশে-বিদেশে সর্বাধিক শোনা যায়, সেটি হলো, ‘এখন বাংলাদেশে যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ শোচনীয়ভাবে হারবে।’ গুজবটি পিনাকবাবু বিশ্বাস করেছেন এবং নিজের অভিমত হিসেবে তাঁর লেখায় যুক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, "There is growing consensus that if elections are free and fair, the AL will be reduced to embarrassing minority in the next Parliament. Many critics belive that Hasina government will 'manage' the election."
পিনাকবাবুর কথায়, আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে হাসিনার দল লজ্জাকরভাবে হারবে। তবে অনেকের ধারণা, হাসিনা তাঁর দলের নির্বাচন জয় ‘ম্যানেজ’ করবেন। অর্থাৎ কারসাজি দ্বারা জয়ী হবেন। এ কথাগুলো জানার জন্য পিনাকবাবুর লেখা পড়ার দরকার নেই। বাংলাদেশের সুধীসমাজের দুটি ‘নিরপেক্ষ’ মুখপত্র পাঠ করলে অথবা সুধীসমাজের শীর্ষ নেতাদের দ্বারা গঠিত যুক্তফ্রন্টের বক্তব্য থেকেই ভালোভাবে তা জানা যায়। পিনাকবাবুর বক্তব্য তাদেরই প্রতিধ্বনি মাত্র।
শুধু একটি ব্যাপারে তারা নীরব। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী না হলে কারা ক্ষমতায় আসবে? বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি নয় কি? অতীতে কোনো সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কারচুপি করেছে, এর কি কোনো প্রমাণ আছে? না, প্রমাণ আছে নির্বাচনে পরাজয় (১৯৯১ এবং ২০০১ সালে) তারা মেনে নিয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। পক্ষান্তরে বিএনপি ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছে, ব্যাপক কারচুপি করেছে। নির্বাচনে হেরে গিয়ে তা মানতে অস্বীকার করেছে। এই তথ্যগুলো কি পিনাকবাবুর জানা নেই?
এর পরও কথা আছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানার জন্য ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি সূত্র তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে তাঁর কাছে তাদের প্রতিবেদন গেছে? তাঁকে হাসিনাবিদ্বেষী ও বিএনপি-জামায়াতের প্রচ্ছন্ন সহযোগী তথাকথিত সুধীসমাজের প্রচারণা বিশ্বাস করে এবং তার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এমন লেখা লিখতে হবে কেন, যে লেখায় তাঁর দেশ ভারত প্রতিবেশী হিসেবে যে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায়, যে দেশ গঠনে তারা সাহায্য করেছে, তার ক্ষতি হবে!
আমি পিনাকবাবুর লেখাটি পাঠ করে বিস্মিত হয়েছি এবং দুঃখিতও হয়েছি। আওয়ামী লীগ কেন বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, আগে তারাই যা চেয়েছিল, এর বিরোধিতা করছে, তা নিয়ে তিনি কটাক্ষ করেছেন। আসল ব্যাপারটি তিনি খতিয়ে দেখেননি। হাসিনা সরকারকে তিনি দুর্নীতিপরায়ণ বলেছেন। প্রশাসন দলীয়করণসহ সর্বপ্রকার অনাচারের জন্য দায়ী করেছেন। এমনকি নিরাপদ সড়কের এবং কোটা পদ্ধতি বাতিলের আন্দোলনও সরকার মিস হ্যান্ডেল করেছে বলে দেশটির অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলিয়েছেন। এককথায় এটি বাংলাদেশের নবগঠিত যুক্তফ্রন্টের একটি চমৎকার নির্বাচন ম্যানিফেস্টো হতে পারে।
বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক যাতে আবার অবনতির দিকে না যায় সে জন্য এ ধরনের লেখার বিভ্রান্তি দূর করা দরকার। এই স্বল্প পরিসরে পিনাকবাবুর লেখার সব মন্তব্য নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। কিন্তু বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্ক রক্ষার জন্যই করা দরকার। এ জন্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে পিনাকবাবুর বঙ্গদর্শন নিয়ে লেখার ইচ্ছা আমার আছে।
তবে একটাই স্বস্তির ব্যাপার। পিনাকবাবু বাংলাদেশে ছিলেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত। তাঁর লেখায় বাংলাদেশ বা হাসিনা সরকার সম্পর্কে ভারতের বর্তমান সরকারের মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করি না। কেন করি না সে সম্পর্কে ভবিষ্যতে লেখার ইচ্ছা রইল।
লন্ডন, সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ (সংগৃহীত)