মঙ্গলবার, ২২-জানুয়ারী ২০১৯, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • প্রশাসন
  • »
  • পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত পুলিশ: ডিএমপি কমিশনার

পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত পুলিশ: ডিএমপি কমিশনার

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ, ঢাকা : নির্বাচন আনন্দমুখর করতে সুদৃঢ় নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হিসেবে রাজধানীতে চারটি অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সংঘাতমুক্ত করতে রাজধানীতে ডিএমপির ৪টি কন্ট্রোল রুম থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

কমিশনার বলেন, নির্বাচন আনন্দমুখর করতে সুদৃঢ় নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হিসেবে রাজধানীতে চারটি অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটও প্রস্তুত থাকবে। সুস্পষ্ট নিরাপত্তাজনিত কোনো হুমকি না থাকলেও অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভোটের পরিবেশ সংঘাতমুক্ত ও আনন্দমুখর রাখতে নগরীজুড়ে সুসংগঠিত সুদৃঢ় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। আর চার থেকে পাঁচটি কেন্দ্র মিলে একটি করে টিম মোবাইল ডিউটিতে থাকবে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ভোট শেষে বাড়ি ফিরবেন। তাদের নিরাপত্তায় যা যা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তার সব ব্যবস্থাই করা হয়েছে। অগ্রিম তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তাজনিত কোনো হুমকি থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভার্চুয়াল জগতে যে কোনো ধরনের হুমকি ও গুজব প্রতিরোধে আমরা সবসময় সচেষ্ট।

নির্বাচনের প্রতিটি প্রার্থী ও এজেন্টদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচন কমিশনের আমাদের ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করা হবে। সব ধরনের ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে রাজধানীজুড়ে নিছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপনের পাশাপাশি টহল টিম কাজ করবে।

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, লাইসেন্স করা সকল অস্ত্র আমরা বিভিন্ন থানায় জমা নিয়েছি। প্রার্থী ব্যতীত কেউ কোনো বৈধ অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন করতে পারবেন না। যেসব স্থানে পেশীশক্তি প্রয়োগ হতে পারে বা বাধা আসতে পারে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তেমনভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাধাহীন সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে সকল প্রস্তুতি চলমান আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজধানীতে মোট ২হাজার ১১৩টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। প্রত্যেকটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ডিউটি করবে। এছাড়াও থানা ও ডিভিশনাল পর্যায়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। ১৪টি পয়েন্ট থেকে ব্যালট পেপার বিতরণ ও জমা নেওয়া হবে। সেসব স্থানে নিছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। যে কোনো ধরনের গোলযোগ কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণসহ সকল বাহিনীর সমন্বয়ে সুষ্ঠুভাবে অর্থবহ ভোট অনুষ্ঠানে আমরা বদ্ধ পরিকর। 

সুস্পষ্ট নিরাপত্তার কোনো হুমকি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনের বিভিন্ন সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে আমরা ছক সাজিয়েছি। ভোটারের নিরাপত্তায় কোনো হুমকি থাকলে ৯৯৯, কন্ট্রোলরুম বা যেকোনো ভাবে পুলিশকে জানালে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবো। 

নির্বাচনের দিন যান চলাচল বন্ধ থাকলেও বিদেশগামী যাত্রী, রোগী বা অন্যান্য যাত্রীদের ক্ষেত্রে  বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারলে, তার ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা শিথিল করা হবে। এ জন্য ট্রাফিক বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

বিএপির পক্ষ থেকে পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণ প্রসঙ্গে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এটি একেবারেই তথ্যনির্ভর নয়। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মী হিসেবে আইনের আলোকে কাজ করে থাকি। চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি ঢাকায় বিনা ওয়ারেন্ট বা সুস্পষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পক্ষপাতের এই অভিযোগ সত্য নয়।
শীর্ষকাগজ/এসএসআই