মঙ্গলবার, ১৬-অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন
  • প্রশাসন
  • »
  • লড়াই করতে হবে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দিয়ে: জেনারেল ইমদাদ

লড়াই করতে হবে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দিয়ে: জেনারেল ইমদাদ

Shershanews24.com

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট, ২০১৮ ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা: সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনুমাননির্ভর খবরের বিরুদ্ধে লড়াইটি বিশ্বাসযোগ্য খবর পরিবেশনের মধ্য দিয়ে করতে হবে বলে মনে করেন ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উপাচার্য  মেজর জেনারেল মো. ইমদাদ-উল-বারী।
ঢাকা সেনানিবাসে সোমবার ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতার উপর প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনে ‘গণমাধ্যম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সশস্ত্র বাহিনী সংক্রান্ত সরকারি নীতি: ধারণা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
জেনারেল এমদাদ বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই সামাজিক মাধ্যমকে মোকাবেলা করা যাবে না। বিশ্বাসযোগ্য ও যথেষ্ট তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে এটা করা যেতে পারে। যখন গণমাধ্যমে নির্ভরযোগ্য সংবাদ পাওয়া যাবে না। তখন তারা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের উপর নির্ভর করার চেষ্টা করে। তখন তারা সামাজিক মাধ্যমের উপর নির্ভর করতে থাকে।

ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে ক্রিমিয়ার প্রসঙ্গ টানেন মেজর জেনারেল ইমদাদ। তিনি বলেন, রাশিয়ার ক্রিমিয়া জয়ে একটি বুলেটও খরচ হয়নি।
তথ্যের অভাবে অনেক সময় সাংবাদিকরাও অনুমাননির্ভর সাংবাদিকতায় যান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, অনেক রিপোর্টার স্পেকুলেটিভ রিপোর্ট দেয়। এটা বন্ধ করতে হবে। অনেক নবীন রিপোর্টার রিপোর্টে তার মতামত দিয়ে ফেলে।
আলোচনায় আরও অংশ নেন সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাসির, সাবেক সচিব মিকাইল শিপার প্রমুখ।
মেজর জেনারেল ইমদাদ বলেন, মিডিয়াকে কী রিপোর্ট করতে হবে আর কী করতে হবে না, সেটা বুঝতে হবে। হলি আর্টিজানের দ্বিতীয় দিনে কোথায় নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে, সেটা কিছু মিডিয়া সরাসরি সম্প্রচার শুরু করে। এটা বড় ধরনের ভুল।

সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ প্রক্রিয়া যে অনেক সময় উদ্ধার অভিযানকে ব্যাহত করতে পারে, তার দৃষ্টান্ত হিসেবে রানা প্লাজা ধসের পর উদ্ধার অভিযানের কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোনো দুর্যোগে উদ্ধার তৎপরতার প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাপক সমন্বয়হীনতা থাকতে পারে। গণমাধ্যম এ সব সমন্বয়হীনতা চিহ্নিত করতে পারে, তবে সেটা সমালোচনার জন্য না হযে যেন সমন্বয় আনার জন্য হয়।
এই প্রসঙ্গে তিনি ২০১০ সালে ঢাকার আমিন বাজারের কাছে একটা বাসের খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটির কথা বলেন।
“ওইদিন সেটা উদ্ধার করা যায়নি। দুর্ঘটনার পর এক দল সৈনিক পিকআপে করে ওই পথ দিয়ে ফিরছিলেন। উৎসুক অন্য নাগরিকদের মত তারাও সেখানে থামেন, এক পর্যায়ে উদ্ধার অভিযানে সাহায্য করেন।
“পরদিন একটি পত্রিকায় হেডলাইন হয়,  ‘সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরও বাসটি উদ্ধার করা হয়নি’। এখানে ‘ও’ প্রত্যয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম কথা হচ্ছে, সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়নি। এখানে সেনবাহিনীর প্রাসঙ্গিকতা কী? এটা যদি ফায়ার ব্রিগেড, বিআইডব্লিউটিএ বা এ রকম কেউ হত, তাহলেও কথা ছিল। এটা মানুষের মধ্যে এই ভাব সৃষ্টি করে যে, আমাদের শেষ ভরসাও শেষ হয়ে গেল।”
“সব সরকারি এজেন্সির ভূমিকা, ধরণ গণমাধ্যমকে বুঝতে হবে,” বলেন মেজর জেনারেল ইমদাদ।
শীর্ষ নিউজ/জে